• শিরোনাম


    কসবা উপজেলার নামকরণের ইতিকথা [] এস এম শাহনূর

    | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

    কসবা উপজেলার নামকরণের ইতিকথা [] এস এম শাহনূর

    ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে রঘুনন্দন পাহাড়ের কোলে ঐতিহাসিক জনপদ কসবার অবস্থান।আরবী কস্বাহ্ থেকে ফার্সি কসবা শব্দের উদ্ভব।গ্রামের চেয়ে বড় কিন্তু শহরের চেয়ে ছোট বসতি বা সমৃদ্ধ গ্রাম বোঝাতে এক সময় কসবা শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
    কসবা ছিল সুলতানি আমলের উপবিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রশাসনিক উপ-বিভাগগুলোর মধ্যে ইকলিম, ইকতা, মুকতা, ইরতা, সোয়ার ও কসবা নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।সুলতানি আমলের ‘কসবা’ কে জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কসবার দায়িত্বে ছিলেন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন কাজি ও একজন কতোয়ালী। মূঘল আমলে অধিকাংশ কসবা ই পূর্বের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।ব্রিটিশ ভারতে কসবার নাম ছিল কমলাসাগর। কসবা তথা কমলাসাগর ছিল ত্রিপুরা জেলার একটি থানা। ব্রিটিশ ভারতে ত্রিপুরা ও পার্বত্য ত্রিপুরা একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৩৭টি কসবার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আজ আমি পাঠক সমীপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার পরিচয় তুলে ধরবো।

    প্রায় দুইশত দশ বর্গ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ সমভূমি,নিচু ভূমি,জলাধার,উচু নিচু পাহাড়,লাল মাটির পাহাড়,নদী -নালা,খাল বিল পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি কসবা উপজেলা।তিতাস,সালদা, সিনাই,সাংগুর,বিজনা,কালিয়ারা,হাওড়া,রাজার খাল,অদের খাল,বুড়ি প্রভৃতি নদী এই প্রাচীন জনপদের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।



    ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, মহারাজ প্রতীত আনুমানিক পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কৈলাগড় (কসবা) অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন। কৈলাস চন্দ্র সিংহের রাজমালা গ্রন্থে উল্লেখিত ১৮৪ জন রাজার মধ্যে মহারাজপুত্র প্রতীত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের ১১৪ তম রাজা।গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে সর্বপ্রথম মহারাজ প্রতীত কৈলাগড়ে ত্রিপুরার অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।তবে পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণে মহারাজ প্রতীত ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে কসবা ত্যাগ করেন। এ পূর্বাঞ্চলে খলংমা, ধর্মনগর, কৈলাসহর ও কৈলাগড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে রাজধানী স্থাপিত হয়েছিল।কৈলাগড় ছিল কসবার আদি নাম।কসবা অর্থ উপশহর বা সমৃদ্ধ গ্রাম।কিল্লাগড় থেকে বিবর্তিত হয়ে কৈলাগড়। বর্তমান বিজনা নদীর (বিজয়) পূর্ব পাড়ে টিলাময় অঞ্চলে ত্রিপুরী সৈন্যরা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে কিল্লা বানাতো। কিল্লাগড় মানে বিল্লাদুর্গ। পশ্চিম পাড়ে আজকের কেল্লাবাড়ি, নাপিতের বাজার, মইনপুর, শাহপুর এ অঞ্চলে কিল্লা তৈরি করেছিল মুঘল সৈন্যরা। জানা যায় ১৭১৭ সালের পর কসবা নামের উৎপত্তি হয়।।

    ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরার মহারাজ কীরিট কিশোর মানিক্য বাহাদুর পুনরায় কসবাতে অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।তিনি সে সময় ইংরেজ ও মোঘল শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।বীরবিক্রমে রাজা অত্র এলাকার জনগণের স্বাধীনচেতা মনোভাব অক্ষুন্ন রেখে ছিলেন।

    ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়।যাকে ইতিহাসে সিপাহি বিদ্রোহ বলা হয়েছে। তখন ত্রিপুরার মহারাজ ইংরেজদের পক্ষে দালালি করে সিপাহিদের দমন করে। এর এক বছর পর ত্রিপুরা রাজ্যে ইংরেজদের পরামর্শে ১১টি থানা স্থাপিত হয়। তিন ভাগে বিভক্ত। যেমন হিউং, বিউং ও কৈলাগড়।”কৈলাগড় নামের পরে এতদ্ অঞ্চলের নাম রাখা হয় নূরনগর।১৬১৮ সালে মোঘল সেনাপতি মির্জা নূরউল্লাহ খাঁ (বেগ)উদয়পুর রাজধানী দখল করে ত্রিপুরিদের বিতাড়িত করেন।১৬২৩ সালে তার নামে নূরনগর পরগণা নামকরণ করেন।’তদানিন্তন মোঘল শাসনকর্তা হিউং,বিউং ও কৈলাগড় নামক প্রদেশত্রয়কে সম্মিলিত করে স্বীয় নামানুসারে ‘নূরনগর পরগণা’ গঠন করেন।” (সুত্র: রাজমালা- কৈলাসচন্দ্র সিংহ, পারুল প্রকাশনী-২০০৯,পৃ.৪৪১)। ১৮৯০ সালে কসবা সদরে থানা মুন্সেফ আদালত স্থাপিত হয় বলে জানা যায়। থানা সদরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকার জনগণ শিক্ষা এবং শিল্প-সংস্কৃতিতেও অন্যান্য এলাকার চেয়ে বহুদূর এগিয়ে যায়।  ১৯৪০ সাল কসবা থানা স্থাপিন হয়।এখানে পুরাতন অফিসের মধ্যে ১৮৪৩ সালে স্থাপিত একটি তহশিল অফিস ছিল।১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর  তারিখে কসবা থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।কসবা পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।সোনালী ইতিহাসের উজ্জ্বল সাক্ষী কসবা উপজেলার অধিবাসী হিসেবে আমরা সত্যিই গর্বিত।

    প্রিয় পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষী আসুন – কসবার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, গুণিজন, প্রখ্যাত ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচয় পড়ে নিজের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করি।

    এক নজরে কসবা উপজেলা :
    ১। আয়তনঃ ২০৯.৭৬০ বর্গ কিলোমিটার
    ২। লোক সংখ্যাঃ ৩,১৯,২২১ জন
    ক) পুরুষ ১,৫১,৮৫২ জন
    খ) মহিলাঃ ১,৬৭,৩৬৯ জন
    ৩। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে লোকসংখ্যাঃ ১৫২১ জন
    ৪। ইউনিয়নের সংখ্যাঃ১০টি
    ৫। পৌরসভার সংখ্যাঃ০১টি
    ৬। গ্রামের সংখ্যাঃ২৩৭টি
    ৭। মৌজার সংখ্যাঃ১৫২টি
    ৮। সীমান্ত এলাকার আয়তনঃ ১৯ কিলোমিটার
    ৯। রেল লাইনের দৈর্ঘ্যঃ ১৮কিঃমিটার
    ১০। রেল স্টেশনের সংখ্যাঃ ৩ টি(মন্দভাগ,কসবা, ইমামবাড়ী)
    ১১। মোট ভূমির পরিমাঃ ৫১৮৭০ একর
    ১২। মোট খাস জমিঃ ২,৩৪৯.২২ একর
    ১৩। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সুবিধাভোগীঃ ৮৯০ জন
    ১৪। পোস্টাল কোডঃ ৩৪৬০
    ১৫। শিক্ষার হার ৫০.৭% এবং সাক্ষরতার হার ৭৫%
    ( ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)

    কসবা উপজেলার যত দর্শনীয় স্থান,
    সৌন্দর্যে ও গৌরবে সত্যিই অম্লান।
    প্রায় দুইশত দশ বর্গ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ সমভূমি,নিচু ভূমি,জলাধার,উচু নিচু পাহাড়,লাল মাটির পাহাড়,নদী -নালা,খাল বিল পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি কসবা উপজেলা।তিতাস,সালদা, সিনাই,সাংগুর,বিজনা,কালিয়ারা,হাওড়া,রাজার খাল,অদের খাল,বুড়ি প্রভৃতি নদী এই প্রাচীন জনপদের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
    মহান মুক্তি যুদ্ধের সময় কসবা দুই নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর লতোয়ামুড়া ও চন্দ্রপুরে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং কোল্লাপাথরে অপর এক লড়াইয়ে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাছাড়া এসময় উপজেলার আকছিনা, আড়াইবাড়ী, হরিয়াবহ, ক্ষীরণাল, চারগাছ ও বায়েক অঞ্চলে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই হয়।এই উপজেলার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মুক্তি যোদ্ধাদের সমাধিস্থল দুটি এবং গণকবর সাতটি। (লক্ষ্মীপুর, কোল্লাপাথর, শিমরাইল ও জমশেরপুর)।

    কসবার ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থানসমূহঃ
    কমলা সাগর কালিমন্দিরঃ
    দিঘির পূর্ব দিকে উঁচু টিলার ওপরে কমলাসাগর কালিমন্দির। ঐ পাড়ে কসবা নাম বদলে ফেললেও কসবেশ্বরী মন্দির কথাটি এখনো লেখা আছে মূল ফটকের ওপরে। ১৫ শতকের শেষ দিকে মহারাজা ধন্যমানিক্য (১৪৯০-১৫১০) এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সামনে বিশাল দিঘি খনন করে কমলাসাগর নাম দেন মহারাণী কমলাবতীর নামে। ভারতীয় অংশে কসবা নামটি চাপা পড়ে যায় কমলাসাগর নামের আড়ালে। তবে স্থানীয়রা এখনো এ এলাকাকে কসবা নামেই সম্বোধন করেন।

    সীমান্ত হাটঃ
    কমলা সাগর দিঘির উত্তর-পূর্ব কোণায় উঁচু উঁচু কাঁটাতারে ঘেরা বর্ডার হাট। ২০১৫ সালের ১১ জুন প্রথম সীমান্ত হাট বসতে শুরু করে এখানে। শুরুর দিকে প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে হাট বসলেও এখন বসে রোববার করে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি বিকিকিনি চলে হাটে।২০৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার লাগোয়া এ বর্ডার হাট গড়া হয়েছে উভয় দেশের ১৪০ শতক জমির ওপর।

    কোল্লাপাথর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলঃ
    এখানে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধার সমাধি আছে। অজ্ঞাত তিনটি সমাধি। কোনাবন সাব সেক্টরের কমান্ডার আব্দুল গাফফার হাওলাদার (খুলনা) নির্দেশে, কোল্লাপাথরের বিনুফকিরের আন্তরিক সহযোগিতায় তাঁর পারিবারিক কতক জায়গায় ৭১-এর জুন মাসে এ সমাধি স্থাপন করা হয়। ৭১-এর অক্টোবরে কসবা অঞ্চলে যুদ্ধ বেড়ে যায়। শহীদ যোদ্ধারা আসতে থাকে তখন তাদের এখানে কবর দেয়া হয়।

    লক্ষ্মীপুর মুক্তিযোদ্ধা সমাধিস্থলঃ
    ১২ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থল এখানে আছে। স্থাপিত ৭১-এর অক্টোবর-৯, লক্ষ্মীপুর সীমান্ত অঞ্চল। অক্টোবর ৯-২২ অক্টোবর পর্যন্ত কসবা যুদ্ধের ৪টি লাশ ও ২১ নভেম্বর চকচন্দ্রপুর চানমোড়ার যুদ্ধে নিহত ৮টি লাশ নিয়ে এ সমাধিস্থল। ক্যাপ্টেন হুমায়ুন কবির, স্বাধীনতা বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম, সদস্য সচিব এম এইচ শাহআলম, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোলেমান খান, সাধারণ সম্পাদক নেপাল চন্দ্র সাহা, জহিরুল ইসলাম স্বপন এবং হুমায়ুন খাদেম (রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান), সাবেক এমপি শাহ আলম, তৎকালীন ইউএনও, শাহ মোকসেদ আলী ও সাবেক সচিব মিনাজুর রহমান এই সমাধি তৈরিতে আরও অনেকেই আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন।

    দেশের প্রথম কুরআন ভাস্কর্যঃ
    সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দর নেমে পবিত্র নগরী মক্কার প্রবেশদ্বারে কুরআনের আদলে তৈরি যে বিশাল তোরণ রয়েছে। সে তোরণের ডিজাইনের আলোকেই কসবা উপজেলা সদরের ব্যস্ততম কদমতলা মোড়ে তৈরি করা হয়েছে এ ভাস্কর্যটি।কসবা পৌরসভার মেয়র এমরানুদ্দীন জুয়েলের তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মেধাবী ছাত্র ভাস্কর কামরুল হাসান শিপন এ ভাস্কর্যটি ডিজাইন করেন।উন্নতমানের গ্লাস ফাইভার দ্বারা তৈরি নান্দনিক ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৬ ফুট এবং প্রস্থ ৮ ফুট।২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিবির অর্থায়নে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ জুন এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সান কমিউনিকেশন।কাজ শেষ হয় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭।৩১ ডিসেম্বর ১৭ তারিখে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্মিত এই ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

    শ্রী শ্রী আনন্দময়ী জন্মভিটা ও আশ্রমঃ
    হিন্দু বা সনাতনী ধর্মের কেউ কেউ বলে সাধিকা, আবার গুণীজন ও সাধকরা বলেন অংশাবতার। সবার কাছে প্রিয়তমা ‘মা’। জন্ম এপ্রিল ৩০, ১৮৯৬, মৃত্যুঃ আগস্ট-২৭, ১৯৮২। জন্ম স্থান খেওড়া, কসবা। ১৯২৫ সালে ঢাকা সিদ্ধেশ্বরী শ্রীযুক্ত জ্যোতিষ চন্দ্র রায় (ভাইজী) কর্তৃক ‘শ্রী শ্রী আনন্দময়ী’ উপাধী পায়। ১৯২৭ সালে শাহবাগে ফকিরের কবরে নামাজ পড়েন। ১৯২৯ সালে রমনা আশ্রমের জমিতে পদার্পণ করেন। ১৯৩৭ সালে খেওড়া কসবা কালিমন্দিরে আসেন শ্রীমতি ইন্দিরা ভারতের উপ রাষ্ট্রপতি জি এস পাঠকসহ ভারত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব তার শিষ্যত্ব বরণ করেন। শ্রী শ্রী আনন্দময়ী আশ্রম, খেওড়া ১৩৩৮ বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালে তার পাশেই দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপিত হয়। খেওড়া আনন্দময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আনন্দময়ী স্কুল (নিতাই পাল) তাঁরই নামে প্রতিষ্ঠিত।আগস্ট-২৭, ১৯৮২ সালে কৃষ্ণপুর আশ্রম, দেরাদুনে ৭-টা ৪৫ মিঃ মৃত্যুবরণ করেন।

    আনন্দ ভুবনঃ
    মেহারী ইউনিয়নের অন্তর্গত বল্লভপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে রাজার খালের উপর নির্মিত অপূর্ব সৌন্দর্যের হাতছানি ”বড় ভাংগা ব্রীজের দু’পাশ যা বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকায় ‘অানন্দ ভুবন’ নামে খ্যাত।

    সালদা গ্যাস ক্ষেত্রঃ
    বাংলাদেশের ১৯তম গ্যাস ক্ষেত্র (সালদা গ্যাস ক্ষেত্র) কসবার বায়েক ইউনিয়ন্থ সালদা নদীর তীরে অবস্থিত। মোট গ্যাসের মজুদ ৩০০ বিলিয়ন ঘনফুট। কূপ সংখ্যা ৩।

    মহেশ ভট্টাচার্য্য ব্রিজঃ
    দানবীর মহেশ ভট্টাচার্য্য নামে কসবা বিজয় নদীর ওপর ব্রিজ তিনি স্থাপন করেন। জন্ম ১২৬৫ বাংলা মৃত্যু ১৩৫০ বাংলা। কসবা পুরাতন বাজারে প্রবেশ পথে নদীর উপর সুদৃশ্য ব্রীজ। কসবা সদরের কোন বদরাগী নৌকোমাঝি ভাংতি পয়সা দিতে পারেনি বলে, তাঁর ছাতা রেখে দেয়। তাই খেয়া পারের পর কুমিল্লায় গিয়ে একটি লোহা ব্রিজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কোং স্থাপন, বিনা পয়সায় চিকিৎসা করিয়েছেন।

    গোঁসাইস্থল মন্দির গুচ্ছঃ
    গোপীনাথপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নোয়ামোড়া গ্রামে মন্দিরগুলো অবস্থিত। আনুমানিক ৫শত বছর পূর্বে এলাহাবাদের জমিদার সনাতন গোঁসাই সন্ন্যাসী বেশে পূর্ব ভারতের পথ ধরে এ গ্রামে উপস্থিত হন। সাথে ছিল দুইজন ভাবশিষ্য। একজন গোঁপাল গোসাই ও অন্যজন জীবন গোসাই। স্থানীয় রাখাল ও জেলেদের সহযোগিতায় একটি উঁচু মোড়ার ওপর পুণ্যকুটির স্থাপন করেন। মোড়ার উত্তর প্রান্তে সনাতন ও গোপাল গোঁসাইর সমাধি। উত্তর-পশ্চিম কোণে শ্রী শ্রী বৈকুণ্ঠের সমাধি, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জীবন গোঁসাইর সমাধি। এ গোঁসাই হিন্দু না মুসলিম তার কোনো প্রমাণ নেই। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ১ তারিখে মেলা হয় ও ১৪ ভাদ্রতে বসে হিন্দুদের উৎসব।

    *পুড়া রাজার জাঙ্গালঃ
    তিন লাখ পীর(তিলক পীর)থেকে বল্লভপুর পর্যন্ত।পাঁচ শত বছরের পুরনো।

    * বল্লভপুর মৌলানা মাকসাদ আলীর সমাধি:    নবীজির অনুসারী সুফি সাধক শায়খুল বাঙাল ছৈয়দ আবু মাছাকিন লাহিন্দী আল কাদেরী(রঃ) এর আব্বাজান বহু ভাষাবিদ মরহুম আলহাজ্ব মাকছাদ আলী মৌলানা সাহেবের সমাধী(বল্লভপুর)। তিনি ছিলেন ত্রিপুরা রাজদরবারের ১৭৭তম রাজা বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য বাহাদুরের রাজদরবারের মুসলিম (বিচারক)কাজী।

    প্রখ্যাত ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের নামের তালিকা:

    ✪ ত্রিপুরার ১৭৭তম রাজা বিরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের রাজ দরবারের মুসলিম কাজী বহু ভাষাবিদ হযরত মাওলানা মাকসাদ আলী বল্লভপুরী (রাহ.)। হযরত মাওলানা আলহাজ্ব কাজি আবু মিজান মাকসাদ আলী হানাফি কাদিরি (রহ)। জন্ম: ১৮ আগস্ট ১৮৪০ ইংরেজি। মৃত্যু: ১৯১৬ ইংরেজি।

    ত্রিপুরার ১৭৭ তম মহারাজ শ্রী শ্রী বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য বাহাদুর(রাজত্বকাল ১৯০৯ খ্রিঃ- ১৯২৩খ্রিঃ)তাঁর মুসলিম প্রজাদের বিচারের রায় প্রদানের কর্তৃত্ব স্বরুপ (১৯১০ থেকে ১৯১৬ পর্যন্ত) কাজির পদ প্রদান করেন।

    ✪ শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের উপ রাষ্ট্রপতি জি এস পাঠকসহ ভারত বিখ্যাত বহু ব্যক্তিত্বের ধর্মীয় গুরু সনাতন ধর্মের সাধিকা শ্রী শ্রী মা আনন্দময়ী। (১৮৯৬-১৯৮২) আধ্যাত্মিক সাধিকা। খেওড়া।

    বাংলাদেশের রমনা ও খেওড়াসহ ভারতের বারাণসী, কনখল প্রভৃতি স্থানে তাঁর নামে ২৫টি আশ্রম, বিদ্যাপীঠ, কন্যাপীঠ, হাসপাতাল ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। তাঁর মরদেহ উত্তর ভারতের হরিদ্বারে কনখল আশ্রমে গঙ্গার তীরে সমাধিস্থ হয়।

    ✪ অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক।

    পরিচিত নাম-বাচ্চু মিয়া, জন্ম তারিখ-১লা আগস্ট ১৯২৫, মৃত্যু তারিখ-২৮অক্টোবর ২০০২। বাড়ি-পানিয়ারুপ কসবা।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার প্রধান কৌসুলী ও ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কৌসুলী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। সংসদ সদস্য-১৯৭০ সাল (পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে এম এন এ সদস্য কুমিল্লা ৪ (কসবা-বুড়িচং)। ১৯৭১-১৯৭৩ সালে গণ পরিষদের জাতীয় পরিষদ সদস্য হন (কুমিল্লা-৪)। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদস্য হন কুমিল্লা ৪ (কসবা আখাউড়া) বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা আখাউড়া)।

    ✪ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য ও মন্ত্রী তফাজ্জল আলী (টি.আলী) গ্রাম: শাহপুর, (১৯০৬–১৯৮৮)।

    ব্রিটিশ ভারতের পরিচিত একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ ও মুসলিমলীগ নেতা। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিনি এমএলএ নির্বাচিত হন।পাকিস্তান শাসনামলে তিনি প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন।তিনি কসবার প্রথম সন্তান যিনি কেন্দ্র ও প্রদেশে মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রেভেনিও মিনিস্টার,কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। মিশরে পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রদূতও ছিলেন তিনি। আইউব খানের শাসনামলে মুসলিমলীগ দ্বিখণ্ডিত হলে তিনি কাউন্সিল মুসলিম লীগের পক্ষে অবস্থান নেন। এবং পূর্ব পাকিস্তানে নিজেকে প্রভাবশালী মুসলিমলীগ নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।তিনি দুইবার সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি আমৃত্যু বাংলাদেশ মুসলিমলীগের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

    ✪ ইসলাম প্রচারক, বুজুর্গ সুফি সাধক শায়খুল বাঙ্গাল আলহাজ্ব সৈয়দ আবু মাছাকিন মোহাম্মদ মতিউর রহমান গোলাম কাদির লাহিন্দী (রহ.) শায়খুল বাঙাল ছৈয়দ আবু মাছাকিন গোলাম মতিউর রহমান লাহিন্দী আল কাদেরী বল্লভপুরী (রঃ) প্রকাশ দুদু মিয়া পীর সাহেব। গ্রাম: বল্লভপুর।

    জন্ম: ১৮৭৩ ইংরেজী, মৃত্যু: ১৯৭৮ ইংরেজি ৩ অক্টোবর। হযরত শায়খুল বাঙ্গাল সাতবার খানায়ে কাবার হজ্জ ও সাতবার মদিনা মুনাওয়ারাতে হাজিরি দিয়েছেন। ১৩৪৮ বাংলায় তিনি অনেক মুরিদ ও খলিফা সমভিব্যাহারে হজ্ব পালন করেন। তখন অনেক আরবিও উনার হাতে বাইআত গ্রহণ করেন এবং উনি ‘ শায়খুল বাঙ্গাল’ অর্থাৎ ‘বাংলার শায়খ’ খেতাবে ভূষিত হন।

    ✪ আড়াইবাড়ির পীর হযরত মাওলানা আলহাজ্ব আবু সাঈদ আজগর আহমদ আল কাদেরী (রহ.) জন্ম: ১৮৭৫ ইং, মৃত্যু:৮ ডিসেম্বর ১৯৩৭ইং।

    ১৮৯৪ সালে কুমিল্লাস্থ হুচ্ছামিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে জমাতে উলা পাস করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।প্রাতিষ্ঠানিকএলেম শিক্ষা শেষে ভারতের গুজরাটের হযরত সায়েদ আব্দুল কাদির আল কাদেরী (রঃ) এর বায়াত গ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে দুবারে ১২ বছর মক্কায় অবস্থানের পর নিজ পীরের নির্দেশে আদিষ্ট হয়ে চলে আসেন।
    “ঐতিহ্যবাহী আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা হযরত মাওলানা আবু সাঈদ আসগর আহমাদ আল-কাদেরী (র.) ১৯৩৭ সালে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার পৌর সদরের আড়াইবাড়ী আলিয়া মাদরাসা ও একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালে ইহা দরসে নিজামী হিসেবে পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে তাঁর সাহেবজাদা বহুগ্রন্থ প্রণেতা আল্লামা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম হাক্কানী পীরে সাহেব (র.) এর হাল ধরেন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৫৭ সালে দাখিল, ১৯৬৯ সালে আলিম, ১৯৭৭ সালে ফাযিল স্বীকৃতি ও আল্লামা হযরত মাওলানা মরহুম আবু সাঈদ আছগর আহমাদ পীর সাহেব (র.) -এর দৌহিত্র আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের বর্তমান পীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার সাঈদী ২০০৪ সালে কামিল মানে উন্নীত করেন।২০০৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ক্রেস্ট ও সনদপত্র লাভ করে।” [১০]
    ✪ প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত গোলাম হাক্কানী (রহ.),

    আল্লামা হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ গোলাম হাক্কানী (র.) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ী গ্রামের পীর পরিবারে ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আল্লামা হযরত মাওলানা আবু সাঈদ আসগর আহমাদ আল-কাদেরী (র.) ও মাতা মরহুমা সালেহা খাতুন। তাঁর নানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নারুই গ্রামের হযরত মাওলানা মুকসুদ আলী (র.) দেশ বরেণ্য আলেম ছিলেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।
    মাতৃস্নেহে থেকে নিজ গ্রাম আড়াইবাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। কোরআন-সুন্নাহর যথোপযুক্ত জ্ঞান লাভের অদম্য স্পৃহায় তিনি সুদূর ভারতের রামপুর মাদরাসায় ভর্তি হলেন। অতি কষ্ট স্বীকার করে তিনি কয়েক বছরে মাধ্যমিক শিক্ষা সাফল্যের সহিত সমাপ্ত করেন। দেশে এসে সিলেট জেলার গাছবাড়ী আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৫২ সালে আলিম পরীক্ষা, সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা থেকে ১৯৫৪ সালে ফাযিল ও ১৯৫৬ সালে কামিল (ফিকহ গ্রুপে) প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
    পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি তিনি নোবেল বই ও সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগতির জন্য দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকা নিয়মিত পড়তেন। তিনি উর্দু, ফার্সী ও আরবী ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করেন।

    মরহুম আল্লামা গোলাম হাক্কানী (র.)-এর বড় ভাই হযরত মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ গোলাম জিলানী (র.), হযরত গোলাম রব্বানী (র.), ছোট ভাই হযরত মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম ছামদানী (র.) দ্বীন কায়েমের জন্য দেশ-বিদেশে কাজ করে গেছেন। তাঁর সহোদর বোন ফিরোজা খাতুন স্বামী কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা আবদুর রউফ সাহেব (র.), ফজিলাতুন নেছা স্বামী ফেনী জেলার দুধমুখা দরবার শরীফের পীর আলহাজ¦ হযরত মাওলানা আবদুল হক (র.), রোকেয়া খাতুন স্বামী কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার লৎস্বর মিয়া বাড়ির হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ (র.), হালিমাতুস সাদীয়া স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক বহু গ্রন্থ প্রণেতা অধ্যাপক হাসান আলী আল আলভী (র.)। তাঁর শ^শুর হযরত মাওলানা ইব্রাহিম বারাহীপুর, ফেনী ও সৈয়দ আবুল হোসেন, লক্ষীবাজার, ঢাকা। তার স্ত্রী মরহুমা রাকিবা খাতুন ও সৈয়দা সুরাইয়া বেগম।

    মরহুম আল্লামা গোলাম হাক্কানী (র.)- পাঁচ ছেলে ও চার কন্যাকে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে সামর্থ্য হন। বড় ছেলে হযরত মাওলানা আবু বকর মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া সাঈদী স্বপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করছেন। দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ গোলাম কবীর সাঈদী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তৃতীয় ছেলে আল্লামা হযরত মাওলানা মো. গোলাম সারোয়ার সাঈদী পিতার প্রদত্ত আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনশীন পীর হিসেবে দরবার শরীফ পরিচালনা করছেন এবং আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দ্বীনী কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন। চতুর্থ ছেলে মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম খাবীর সাঈদী ঢাকার একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করছেন। পঞ্চম মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম হাদী সাঈদী ইংল্যান্ডের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে সদ্য দেশে ফিরেছেন। চার কন্যা রুম্মানা সাঈদীয়া স্বামী ফেনী জেলার দুধমুখা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা লোকমান হোসাইন, বিলকিস সাঈদীয়া স্বামী বাংলাদেশ বিমানের পদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস ভূইয়া, তামান্না সাঈদীয়া স্বামী দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আবদুল কাদির ও তাবাসসুম সাঈদীয়া স্বামী মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ উসামা আল মুসাদ্দেক জাফরী। পীরে কামেল আল্লামা হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ গোলাম হাক্কানী (র.) বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। দ্বীন প্রচারের অন্যতম বলিষ্ঠ মাধ্যম সাহিত্যের চর্চা ও জ্ঞান গর্ব বই-পুস্তক লিখাতেও তিনি সিদ্ধহস্ত একজন আলেম।
    পিতার প্রতিষ্ঠিত আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের গদ্দিনশীন পীর ও মাদরাসার অধ্যক্ষ বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার সাঈদী(জন্ম – মৃত্যু- ২১নভেম্বর ২০২০)।[১০]

    ✪ ছতুরা দরবার শরীফের পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রহ.)র মাস্তান খেতাবে ভূষিত, আপাদমস্তক ঘুমজাগানিয়া ধর্ম প্রচারক হাজী আব্দুল জব্বার বল্লভপুরী (রহ.)। জন্ম ১৯২৮ ইং,মৃত্যু: ৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮ই]

    -ছতুরা দরবার শরীফের পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রঃ)র মাস্তান খেতাবে ভূষিত শিষ্য।বল্লভপুর কবরস্থানে মা বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায়শায়িত। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক ঘুমজাগানিয়া একজন ধর্ম প্রচারক।তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হজ্জে বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা ও মদীনা মুনাওয়ারা গমন করেন।

    ✪ সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের যোগাযোগ উপদেষ্টা মুহাম্মদ গোলাম কাদের। গ্রাম: যমুনা।

    মেজর জেনারেল (অব) গোলাম কাদের। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা পদক প্রাপ্ত কর্মকর্তা।জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক।
    ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৯ জানুয়ারী ২০০৮ সালে উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

    ✪ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।গ্রাম: শাহপুর।

    বাংলা গানের প্রবাদ পুরুষ সৈয়দ আব্দুল হাদী (জন্ম: ১ জুলাই ১৯৪০) তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।

    ✪ রাজনীতিবিদ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক। গ্রাম: পানিয়ারুপ।

    জন্ম: ৩০ মার্চ ১৯৫৬ ইং। বাংলাদেশের ইতিহাসে পর পর দুবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ব্যক্তি। ২৪৬ নং (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ কসবা-আখাউড়া) আসনের (২০১৪-বর্তমান) সংসদ সদস্য। তিনি ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন সংসদ।

    ✪ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য অধ্যাপক মমতাজ বেগম (১৩ এপ্রিল ১৯৪৬ – ১৬ মে ২০২০) গ্রাম: শিমরাইল।

    (বেগম রোকেয়া পদক প্রাপ্ত) মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক এমপি এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার(২০০৯–আমৃত্যু) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম এডভোকেট।
    বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও ১ম জাতীয় সংসদের ৩১৩ (সংরক্ষিত নারী আসন-১৩) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ।তিনি ছিলেন ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পরিষদে সাত জন নারী প্রতিনিধির একজন (এমএনএ)এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য (এমসিএ)

    ✪ শহীদ আনোয়ার হোসেন,বীর উত্তম
    গ্রাম: গোপীনাথপুর।

    (জন্ম: অজানা – মৃত্যু: ২৬ জুলাই, ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করে। তার গেজেট নম্বর ৫৫। [

    তার বাবার নাম আবদুল হামিদ ভূঁইয়া এবং মায়ের নাম কুলসুমের নেছা।

    বীর উত্তম বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত ৬৮ জনের মধ্যে তিনিও একজন।
    ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস এ সৈনিক হিসাবে ভর্তি হন।(সিপাহী নং ১৩০৭৫)।মুক্তিযুদ্ধকালে ইপিআরের ১০নং উইং রংপুরে কর্মরত ছিলেন।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের অন্তর্গত বুড়িমারীতে১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে এক সম্মুখ যুদ্ধে ভীষণ রকমের সাহসী মনোবল নিয়ে এলএমজিসহ ক্রল করে তিনি একাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানের ভেতর ঢুকে পড়েন।ঠিক তখনই একঝাঁক গুলিতে তার সম্পূর্ণ শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায়।পাটগ্রামের বাউরাবাজারের নিকটে অবস্থিত জম গ্রামে মসজিদের পাশে তাঁর সমাধি সংরক্ষিত আছে।

    ✪ আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণপুরুষ মরহুম এবি ছিদ্দিক।

    গ্রাম: সৈয়দাবাদ।
    জন্ম: ২৯ জুন ১৯৩২ ইং
    মৃত্যু: ৩১জানুয়ারী, ২০১৪ ইং

    ১৯৬৯ সালে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত প্রথম কলেজ “সৈয়দাবাদ আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেন।
    ১৯৭৭ সালের ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এর সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হন।তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রথম ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দিয়ে চীন সফর করেন।

    ✪ জাতীয় পার্টির রাজনীতিবিদ, ঢাকা মহানগরের ডেপুটি মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল।

    গ্রাম: মেহারী।

    ✪ শহীদ সিপাহী আবদুর রহিম,বীর বিক্রম
    (জন্ম: ১৯৫১ – মৃত্যু: ১৯৭১)
    গ্রাম: খেওড়া।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।
    তার বাবার নাম খোরশেদ মিয়া এবং মায়ের নাম সুফিয়া খাতুন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ছয় ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি চট্টগ্রামে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন। প্রথমে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে, পরে জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। অক্টোবরের প্রথমার্ধে জেড ফোর্স সিলেট এলাকায় যায়। কিন্তু তাদের দল চিলমারীতে থেকে যায়।১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর শেষ রাতে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তর্গত চিলমারীর যুদ্ধে
    জীবন বাজি রেখে শত্রুপক্ষের বাংকার ধ্বংস করার জন্য ক্রলিং করে এগিয়ে যান। বাংকারে গ্রেনেড ছোড়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। ঢলে পড়েন মাটিতে। শহীদ আবদুর রহিমকে সহযোদ্ধারা চিলমারীতে সমাহিত করেন। স্বাধীনতার পর তার মরদেহ সেখান থেকে তুলে কসবার কুটি-চৌমুহনী এলাকায় পুন সমাহিত করা হয়।

    ✪ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ লিয়াকত আলী।

    গ্রাম: শাহপুর।
    জন্ম: ১৯৫৩
    মৃত্যু:১৯৮৮
    বাড়ী-শাহাপুর।
    অকাল প্রয়াত এই গুণীজন ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮(কসবা আখাউড়া ব্রাম্মনবাড়িয়া-৪ আসন) সংসদ সদস্য ছিলেন।

    ✪ বিশিষ্ট শিল্পপতি,রাজনীতিবিদ, নকল নির্মূল কমিটির প্রধান ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ।
    গ্রাম: কুটি।

    মিয়া আবদুল্লাহ ওয়াজেদ যিনি আবদু মিয়া নামেও পরিচিত।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া ও কসবা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালের ভোটে এমপি হন। ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও তিনি এমপি হন।

    ✪ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ আলম এডভোকেট।

    গ্রাম: বর্ণী।
    জন্ম: ২০ এপ্রিল ১৯৬১ইং
    ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৮-২০১৩ পর্যন্ত দুইবার তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিযয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন।

    ✪ গিরিশ চন্দ্র দাস
    জন্ম: ১৮৮০ ইং
    গ্রাম: বিনাউটি
    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩০ সালের দিকে কলকাতা রিপন ল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন।

    ✪ খগেন্দ্র চক্রবর্তী
    গ্রাম: চারগাছ
    ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ও নেতা।

    ✪ ড.পবিত্র সরকার
    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
    গ্রাম: শাহপুর
    ১৯২৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (কৃষি বিষয়ে) প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন।তাঁর পিতা নীল কমল সরকার ১৯২৪ ইং থেকে ১৯২৮ইং পর্যন্ত কসবা কোর্টের মুন্সেফ ছিলেন।

    ✪ অসিৎ রঞ্জন ভট্টাচার্য ১
    (জন্ম ১৯১৫ – মৃত্যু ১৯৩৪)
    স্বদেশী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ও সংগঠক।
    বাড়ি: লেশিয়ারা।
    স্বদেশী আন্দোলনকে বেগবান রাখতে অর্থ সংগ্রহের জন্য ইটাখোলা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ডাক বিভাগের বগিতে ডাকাতি করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন।১৯৩৪ সালের ২রা জুলাই ১৯ বছর বয়সে সিলেটের জেলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

    ✪ সুরেন্দ্র কুমার চক্রবর্তী ২
    একাধারে সুরস্রষ্টা, গায়ক ও গীতিকার।
    বাড়ি: কসবা গার্লস স্কুলের পূর্বপাশে।
    উপমহাদেশের বিখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতজ্ঞ অমর পালের ওস্তাদ ছিলেন।৩ দশক কলকাতার বেতারে পল্লীগীতি বিভাগে সংগীত পরিচালনা করেন। ভারতীয় অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তিনি সংগীত পরিচালনা করেন।
    রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত নিভাগের অধ্যাপক এবং পচিমবঙ্গের টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বাংলা সংগীত বিভগের প্রধান ছিলেন। তিনি আনুমানিক ১৯২৯ সালে কসবা হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন।

    ✪ মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী ২
    শ্যামাসংগীত, লোকসংগীত ও ভজন সংগীত শিল্পী।
    তিনি সুরেন্দ্র কুমার চক্রবর্তীর ছোট ভাই।
    বাড়ি: কসবা গার্লস স্কুলের পূর্বপাশে।
    পশ্চিমবঙ্গের বেঙ্গল মিউজিক কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।তিনি আনুমানিক ১৯৩১ সালে কসবা হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন।

    ১৯৪১ সালের দিকে কলকাতা শহরে জাপানের বোমাবর্ষণের কারণে দুই ভাই সপরিবারে কসবা চলে আসেন। এসে কিছুকাল কসবা হাইস্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেন।

    ✪ রবীন্দ্র চক্রবর্তী
    কসবার শপ্তস্বর সংগীত নিকেতনের পরিচালক।
    অসংখ্য সংগীত প্রেমি মানুষের মাঝে তিনি সংগীতের বীজ বপন করেছেন।

    এছাড়াও আরো অসংখ্য জ্ঞানী গুণী মানুষের জন্ম দিয়েছে কসবা নামক এই প্রাচীন জনপদ।

    বিলঝিলঃ

    হাতনীর বিল, শিমরাইলের বিল ও কুটির বিল উল্লেখযোগ্য।

    মেলাঃ

    চৌমূহনী মেলা, মনকাসাইর মেলা ও মেহারি মেলা উল্লেখযোগ্য।
    প্রাচীন কাল থেকে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের এক নৈসর্গিক জনপদ কসবা।আসুন সকলে মিলে কসবার উন্নয়নে অবদান রাখি।

    তথ্যসূত্র:
    ১. উইকিপিডিয়া
    ২. সরকারি তথ্য বাতায়ন
    ৩. মোঃ লোকমান হোসেন পলা
    লেখক ও সাংবাদিক।
    ৪.স্মরণিকা (কসবা উপজেলা সমিতি)২০০১,২০০৮
    ৫. শামসুল আলম সোনা মিয়া হাজীর ডায়েরি
    ৬.এস এম আশরাফ আলী প্রণীত
    কাছিদায়ে শায়খুল বাঙাল।
    ৭. মোঃ জহিরুল ইসলাম স্বপন
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোকজ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের লেখক।
    ৮. শাশ্বত ত্রিপুরা – ত্রিপুরা হিতসাধিনী সভার শতবার্ষিকী স্মারক সংকলন (১৮৭২ -১৯৭২)

    সম্পদক- অনিলধন ভট্টাচার্য
    [১] পৃ: নং ২১৪
    [২] পৃ: নং ১৪১

    ৯. রাজমালা।। শ্রী কৈলাস চন্দ্র সিংহ
    ১০.আড়াইবাড়ি পীর পরিবারের জীবন বৃত্তান্ত।।শেখ কামাল উদ্দীন (জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত)

    লেখক: এস এম শাহনূর
    (কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম