• শিরোনাম


    কসবার কৃতি সন্তান সফিকুল ইসলামের (পিএইচডি) ডিগ্রি লাভ

    হেবজুল বাহার, স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মে ২০২০ | ৭:১২ অপরাহ্ণ

    কসবার কৃতি সন্তান সফিকুল ইসলামের (পিএইচডি) ডিগ্রি লাভ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বাদৈর গ্রামে ছেলেটির জন্ম। তারপর একই উপজেলার নানার বাড়ি ভল্লবপুরে থেকে গোয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও জমশ্বেরপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অধ্যয়ন সম্পন্ন করে। কলেজও পাশের গ্রামেই, চারগাছ এন আই ভূঞা ডিগ্রি কলেজ। পল্লী অঞ্চলের সেই কলেজ থেকেই কুমিল্লা বোর্ডে মেধাতালিকায় ১১তম হন। পরে ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বিবিএ এমবিএ করে। কালক্রমে সেই ছেলেটি আজ অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছে।
    অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাধারণ ছাত্রদের মতো আবেদন করে প্রতিযোগিতায় অবর্তীর্ণ হয়ে সেই ইউনিভার্সিটির ফুল স্কলারশীপ নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন নি:সন্দেহে অনেক মর্যাদার।

    সেই ছেলেটি আজ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিবও। ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান যে, ‘‘আনন্দ ও কষ্ট দুই রকম অনুভূতিই আছে। আনন্দ হলো, অনেক কষ্টে স্কলারশীপ পাওয়া ও অনেক পরিশ্রমের পরে এ ডিগ্রি লাভ। আর কষ্ট হলো আমার দেশের বিশেষ করে আমার গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে।



    বিসিএস প্রশাসনে যোগদান করেন ২০০৬ সালে। সহকারি কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। তারপর ২০০৯ সালে তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ জাপান সরকারের বৃত্তি (জাপান ডেভেলাপমেন্ট স্কলারশীপ) নিয়ে দুবছরের মাস্টার্স করেন জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটি থেকে। ২০১১ সালে দেশে ফিরে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। ডিসি অফিসের এনডিসি, আরডিসিসহ সকল শাখায়, এবং পরে সহকারি কমিশনার ভূমির দায়িত্বে কাজ করেছেন।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন প্রায় ৪ বছর। এ ফাঁকে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং জেল সুপারের চার্জেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মতলব উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় মতলবের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে ‘মতলবের ইতিবৃত্ত‘ শীর্ষক বই রচনা করেছিলেন। এবং এ বই বিক্রয় ও অনুদান থেকে প্রাপ্ত ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে উপজেলা প্রশাসন শিক্ষা ট্রাস্ট করে দিয়ে এসেছিলেন। এ ট্রাস্ট থেকে প্রতিবছর গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হয়।

    এসব কাজ করতে গিয়েই তিনি পিএইচডি করার বিষয় খুঁজে পান। এবং আবেদন করে পেয়ে যান অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বৃত্তি। তাঁর পিএইচডির বিষয় মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কাভার করে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন: রাজনৈতিক অর্থনীতি প্রেক্ষাপট। তিনি জানান যে ‘‘বান্দরবান উপজেলায় বন্যার ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করতে গিয়ে বন্যা, বন্যার কারণ, স্থানীয় বিশেষায়িত অবস্থা, ত্রাণ বিতরণের বিভিন্ন চক্র ও অবস্থা দেখেই এ আইডিয়াটি মাথায় আসে। মজার বিষয় হলো আমার এ প্রোপোজালটি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চারটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছিলাম। পরে স্কলারশীপ রিজাল্ট আগে হওয়ায় আমি গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করি।‘‘

    গবেষণার ডাটা কালেকশনে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ছয় মাসের জন্য । তখন সুনামগঞ্জ জেলা ও শাল্লা উপজেলা থেকে ডাটা সংগ্রহ করেন, এবং ঢাকার সংশ্লিষ্ট সকল অফিস, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের থেকে ডাটা সংগ্রহ করেন।

    তাঁর গবেষণা থেকে ৬টি আর্টিক্যাল বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে জার্নাল অব ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলামেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন, ডিজাস্টার প্রিভেনশন অ্যান্ড মেনেজমেন্ট অন্যতম।
    এছাড়া তাঁর গবেষণা কর্ম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে, এবং পিয়ার রিভিউড হয়ে তা কনফারেন্স সংশ্লিষ্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
    তিনি জানান যে ‘‘ পিএইচডি করা মানে শুধু একটি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করাই নয়, পিএইচডি আসলে শেখায় কীভাবে গবেষণা করতে হয়, গবেষণার প্রকার, প্রতিটি ধাপ, প্রটোকল, পদ্ধতি নখর্দপনে আসে। এবং এ জ্ঞান বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করতে সহায়ক হয়।‘‘ তিনি বলেন যে, ‘‘পিএইচডি থেকে নেওয়া শিক্ষা দেশের উন্নয়নে, ও নাগরিকদের সেবায় কাজে লাগাতে চাই। যেখানেই কাজ করিনা কেন অর্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন রাখার চেষ্টা করবো। সবার আগে মানুষ তথা সৃষ্টির কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিব।‘‘
    বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব এডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড মেনেজমেন্ট (বিয়াম) এর ডেপুটি ডিরেক্টর (উপসচিব) পদে কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আছেন, সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় লেখালেখি করেন।

    তাঁর গর্বিত বাবা জনাব মাহের মিয়া একজন সফল গৃহস্থ ও তাঁর মা চট্রগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ জননী নারীর এওয়ার্ড পাওয়া স্বপ্নাহার বেগম। জনাব সফিকুল ইসলামের অন্য ভাইবোনেরাও নিজ নিজ অবস্থানে সফল। দ্বিতীয় সন্তান পড়াশোনা শেষ করে নিজ এলাকায় ফার্মেসী ব্যবসা করেন। গরীব অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ওষূধ দান করাসহ গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত আছেন। তৃতীয় সন্তান অর্থনীতিতে অনার্স, মাস্টার্স করার পরে বর্তমানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। চতূর্থ সন্তান স্নাতক পাস করার পর একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং তার স্বামী বিএসসি শিক্ষক।
    পঞ্চম সন্তান হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করার পরে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড সরকারি স্কুলের বিকম শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ষষ্ঠ সন্তান সমাজ কর্ম বিষয়ে মাস্টার্স পাস করে একটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের হেড অফিসে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। ব্যাক্তিজীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্রের জনক। তাঁর সহধর্মীনী বাংলা সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করেছিলেন, এখন ব্যবসা ও সামাজিক কাজে যুক্ত আছেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম