• শিরোনাম


    কসবায় অনিয়ম দুর্নীতি ও নারি কেলেঙ্কারি দায়ে মাদ্রসার সুপার গ্রেফতার

    রিপোর্ট হেবজুল বাহার, স্টাফ রিপোর্টার: | ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

    কসবায় অনিয়ম দুর্নীতি ও নারি কেলেঙ্কারি  দায়ে মাদ্রসার সুপার গ্রেফতার

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের আজগর আলী দাখিল মাদ্রসার সুপার মো. আবদুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে পরীক্ষার ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    এছাড়াও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কমিটি বিহীন নকল সভাপতির সই জাল করে টাকা উত্তোলন, নারী কেলেঙ্কারীসহ অবৈধ ভাবে মাদ্রাসার ৫০টি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্নসাতেরও অভিযোগ উঠেছে।



    এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন সোমবার (০২ ডিসেম্বর) উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাকে গ্রেপ্তারের দাবীতে এলাকাবাসী সোমবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং তাকে অবরোদ্ধ করে রাখেন। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।

    উপজেলা প্রশাসন, লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে কসবা উপজেলার কুটি আজগর আলী দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন বিএনপি সাংসদ মিয়া আবদুল্লাহ ওয়াজেদ। ১৯৯৫ সালে মাদ্রাসাটি এমপিও ভূক্ত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুপার হিসাবে সুপার হিসেবে নিয়োগ পান কুটি গ্রামের মো.আবদুর রহমান সরকার ওরফে মানিক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুপারের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে তার বিরুদ্ধে। মাদ্রাসায় এবছর ৫৫জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করছেন। পরীক্ষার ফরম পূরণ থেকেই অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ১ হাজার ৮শ টাকার নেয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চার হাজারেরও বেশী টাকা আদায় করেছেন।

    এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে সুপারকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে আসছেন।
    ওই সুপারের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে। কয়েক বছর আগে তাকে এক নারীর সাথে অনৈতিক কাজে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এলাকার ৭/৮শ লোকজন জড়ো হয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

    এ সকল ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এলাকার লোকজন সোমবার কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাউছার ভূইয়া,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাফর আহাম্মদ গতকাল সোমবার দুপুরে কসবা থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন।

    সোমবার দুপুরে এলাকার সাধারণ লোকজন সুপার আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাউছার ভূইয়া, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাফর আহাম্মদ, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার সত্যতা পান। পরে ওই সুপারকে গ্রেপ্তার করে কসবা থানায় নিয়ে আসেন।

    মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চারহাজার, তিন হাজার নয়শত পঞ্চাশ আবার কারো কারো কাছ থেকে বেশীও নিয়েছেন। অভিভাবক নিলুফা আক্তার বলেন ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকার নেয়ার বিষয়টি জানানোর কারনে মাদ্রাসার সুপার তাদেরকে ভয় দেখিয়ে বলেন, আপনারা চেয়ারম্যান সাহেবকে গিয়ে বলবেন, আমরা বোর্ড নির্ধারিত ফি দিয়েই ফরম পূরণ করেছি।

    মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির সাবেক সাংসদ সদস্য মিয়া আবদুল্লা ওয়াজেদ বলেন, কমিটিতে আমি সভাপতি আছি কি নাই তা বলতে পারিনা। সুপারই সবকিছু করে। আমার কাছ থেকে ১০ বছর ধরে কোন সই স্বাক্ষরও নেয় না।

    কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাউছার ভূইয়া বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়, তাঁর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, ১০ বছর কমিটি না করে সাবেক সভাপতির সই জাল করে টাকা আত্নসাৎ, সরকারি ৫০টি গাছ কেটে বিক্রি করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে শতশত মানুষ প্রতিদিনই মোবাইল ফোনে অভিযোগ করছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দুদকের ১০৬ নম্বরে অভিযোগ করা হয়েছে।

    কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন, মাদ্রাসার সুপার দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন। এলাকার লোকজন অভিযোগ পাওয়ায় তাকে ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও সে ফেরত দেয়নি। এ ছাড়াও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কমিটি না করে বিষয়টি গোপন রেখেছেন। সরকারি গাছ কেটে ফেলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করবেন।

    কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সুপারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কসবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একটি সাধারণ ডাইরী করেছেন। সুপার আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম