• শিরোনাম


    কলেজ শিক্ষক এখন গ্রিল মিস্ত্রির সহকারী

    | ০৬ জুলাই ২০২০ | ৫:৩৬ অপরাহ্ণ

    কলেজ শিক্ষক এখন গ্রিল মিস্ত্রির সহকারী

    রাজশাহীর বাঘায় জহুরুল ইসলাম বাবলু নামের এক কলেজ শিক্ষক এখন গ্রিল মিস্ত্রির সহকারী। গত দুই মাস থেকে আড়ানী পৌর বাজারে মেসার্স জনতা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ-এ দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে গ্রিল মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আড়ানী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    আড়ানী সোনাহদ গ্রামের মৃত ছইরুদ্দিন প্রামানিকের ছেলে এবং পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের কম্পিউটার (অপারেশন) বিষয়ের প্রভাষক।



    তিনি ১৫ বছর চাকরি করেও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বৃদ্ধ মাসহ ৭ সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে অবশেষে গ্রিল মিস্ত্রির সহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

    জানা যায়, জহুরুল ইসলাম বাবলু ১৯৯৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শন বিষয়ে মাস্টার্স পাস করেন।

    তারপর তিনি কম্পিউটার বিষয়ে কোর্স করে ২০০৫ সালে বাঘা উপজেলার পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের কম্পিউটার (অপারেশন) বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু কলেজটি সরকারিভাবে সকল শর্তপূরণ করলেও ১৭ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি।

    ছোট থাকতেই বাবলুর বাবা মারা গেছেন। যতোটুকু জমি ছিল বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করে ছোট দুই ভাই ও চার বোনকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। তারা এখন আলাদাভাবে বসবাস করে।

    বর্তমানে ৬ শতাংশ জমির উপর দুটি ঘর তুলে বৃদ্ধ মা ও বোনের দুই ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন। এর আগে বেতনবিহীন কলেজে চাকরির পাশাপাশি হাটবাজারে খাজনা আদায়ের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

    কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে হাটবাজার সঠিকভাবে না লাগায়, সে কাজটিও তার নেই। কী করবে কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

    এমন সময় তার বাল্যবন্ধু আড়ানী পৌর বাজারে মেসার্স জনতা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নাজমুল হকের কাছে এসে সময় কাটাতেন। তার দোকানের কর্মচারীর জন্য যে খাওয়ার নিয়ে আসা হতো, সেই খাওয়ার কর্মচারীদের সঙ্গে খেতেন।

    এই অবস্থায় এক পর্যায়ে লজ্জা না করে গ্রিলের কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন বাবলু। কিন্তু প্রথমে তাকে কাজ দিতে চায়নি। অবশেষে তার কথা শুনে ২০০ টাকা মজুরিতে কাজ দেন।

    বর্তমানে তিনি ওই দোকানে কাজ করছেন। তিনি বিবাহিত জীবনে স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। কিন্তু আর্থিক দৈনতার কারণে স্ত্রী বর্তমানে পাশে নেই।

    এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বাবলু বলেন, চাকরি করি কিন্তু বেতন নেই। সংসার চালাতে খরচ হয়। কী করে সংসার চালাবো এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ি। লজ্জা না করে এবং কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে গ্রিলের কাজ করছি।

    তবে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে এ কাজ আর করা লাগবে না। তবে কবে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে সেটাও তিনি জানাতে পারেন নি। আশায় আছি, এক সময় প্রতিষ্ঠান এমপিও হবে।

    পাঁচপাড়া আবদুর রহমান সরকার বিএম কলেজের অধ্যক্ষ সামরুল হোসেন বলেন, কলেজটি ২০০৩ সালে স্থাপিত। এই কলেজে ২৫ জন শিক্ষক কর্মচারী ও ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

    কলেজ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের কিছু দিতে পারি না। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

    তার সংসারে সদস্যা সংখ্যাও বেশি। কোনো উপায় না পেয়ে শুনেছি জহুরুল ইসলাম বাবলু বাজারের এক দোকানে গ্রিলের কাজ করছেন।

    আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, জহুরুল ইসলাম এলাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তি। সে নির্বাচন করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তার সংসারের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিষয়টি জানার পর পরিষদ থেকে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়।

    কিন্তু সংসারে সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় কুলিয়ে উঠতে পারে না। জানি বর্তমানে সে এক দোকানে গ্রিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম