• শিরোনাম


    কলকাতার মুসলিম এবং দারুল উলুম দেওবন্দের ভর্তিপরীক্ষা। মাহবুব মোবারক

    | ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৩:৫০ অপরাহ্ণ

    কলকাতার মুসলিম এবং দারুল উলুম দেওবন্দের ভর্তিপরীক্ষা।  মাহবুব মোবারক

    ছুটিতে কলকাতায় দু’দিন ঘুরে আসলাম। ঘটনা ক্রমে ছুটিটাও পড়লো পূজোর সময়। এই সময়টাতে কলকাতা শহর খুবই জমজমাট থাকে। শহর জুড়ে চলে উৎসব। ডাকঢুল পিটিয়ে, নেচে গেয়ে, বাজি ফুটিয়ে এই উৎসব পালন করে তারা৷ সব মিলিয়ে সাজসাজ রব আর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় পুরো শহর।

    কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে একটা বিষয় লক্ষ করলাম, ওখানকার মুসলিমরা এগুলোকে কোনরকম পাত্তা দেয় না। একটা মুসলিমপ্রধান এলাকা দিয়ে দেখলাম খুব শোরগোল করে একটা মিছিল যাচ্ছে। কিন্তু মুসলমানরা আপনমনে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে। ওদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। দৃশ্যটা দেখে আনন্দে মনটা ভরে গেলো। আর আমার স্বদেশী মুসলিমদের জন্য আফসোস হলো। আমাদের দেশের পূজা মন্ডপগুলোতে হিন্দু থেকে মুসলমান বেশি।
    এছাড়াও মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের প্রশংসনীয় উপস্থিতি দেখলাম।আমি একটা ছোটখাটো তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছিলাম। খেয়াল করলাম পুরো মসিজিদ ভরপুর। এমনকি কিছুলোক জায়গা পর্যন্ত পায়নি। আহা কী আনন্দের খবর!



    মুসলমানদের দোকানগুলোতে একটা বিষয় নজরে পড়লো, ওরা যে মুসলমান তার কোন একটা নিদর্শন দোকানে রাখে। হয়তো, আয়াতুল কুরসি অথবা দুরুদ শরীফ, নতুবা মক্কা -মদীনার ছবি টানিয়ে রাখে। গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় জানান দেয়।

    সবচে দিল ঠান্ডা করা দৃশ্য হলো, কলকাতা শহরে মুসলমান মা বোনদের বোরকা, হিজাব পরে চলাফেরা করা। হিজাব পরা মহিলা ঘনঘনই নজরে পরে। এই দৃশ্যটা যে কত আনন্দের হতে পারে, তা একটা অমুসলিম দেশে না গেলে অনুভব করতে পারতাম না।

    এইযে মুসলমানদের সার্বিকভাবে প্রশংসনীয় অবস্থাটা, এটা একদিনে হয়ে যায়নি। এর পিছনে আছে একদল মানুষের কুরবানী ও আত্নত্যাগ। তাঁরা কারা? তাঁরা হলেন, কলকাতার অধিবাসী দারুল উলুমের কৃতি সন্তানেরা৷ যারা ওখান থেকে স্বপ্ন এনে এখানে বিলায়। ওখান থেকে দাওয়াত শিখে, এখানে তার প্রতিফলন ঘটায়।

    কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তব, তাঁদের সেই দারুল উলুমের পথটা আমরা বাংলাদেশী তালেবে ইলেম ভায়েরা দিনদিন সংকুচিত করে দিচ্ছি। সংকুচিত করে দিচ্ছি দাওয়াতের মিশনটাকে। মিথ্যা নাগরিক কার্ড বানিয়ে, মেধার জুরে ভর্তীপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছি। আর তুলনামূলক কম মেধার কারনে বা কম চেষ্টার কারনে ছিটকে পড়ছে তারা৷ ফলে যেমনিভাবে বঞ্চিত হচ্ছে ওরা, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দাওয়াতের মিশন।

    বিশ্বাস করুন! আমরা যদি সাইদ আহমদ পালনপুরী দা. বা. – এর ছাত্র না হই, তাহলে আমাদের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু ওরা যদি না হয়, তাহলে….?😭
    সুতরাং যতদিন না আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থা না হবে, ততদিন পর্যন্ত ওদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আমাদের জন্য উচিত হবে না।

    পরিশেষে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছি, আল্লাহ! আপনি আমাদের দারুল উলুম পড়ার নিজস্ব ব্যবস্থা করে দিন। আর অমুসলিম দেশে আমার মুসলমান ভাই বোনদের ভালো রাখুন!

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম