• শিরোনাম


    কবে সম্মানী ভাতা কপালে জুটবে নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝির কপালে।

    | ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

    কবে সম্মানী ভাতা কপালে জুটবে  নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝির কপালে।

    কবে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা জুটবে নওগাঁর রাণীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝির কপালে! উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত-আব্দুল্লাহ মাঝির ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝি ওরফে বাঘা মাঝি (১০২) শত অভাব-অনটনের সংসার জীবনের শেষ মুহূর্তে খেয়ে না খেয়েই কোনমতে জীবন ধারণ করে আসছেন।

    মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্বেও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা থেকে আমি আজও বঞ্চিত। সরকারি বরাদ্দকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা চালু করার জন্য কর্তাব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়ে আজও আমার সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত বজ্রকন্ঠ নামক বই হাতে নিয়ে আমি নিজ গ্রাম ভবানীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।



    তিনি বলেন, তিন ছেলে এক মেয়ে থাকলেও তাদের বিবাহের পর সবাই পৃথকভাবে ঘর-সংসার করছে। অভাবের কারণে স্ত্রী মেয়েদের বাড়িতে থাকেন। যে কারণে অনেক সময় আমাকে রান্না করে খেতে হয়। ছোট ছেলে কিছুটা সহযোগিতা করলেও আমার আর্থিক অভাব-অনাটনের কারণে পিতার প্রতি সকল দ্বায়-দায়িত্ব পালন করতে পারে না তারা। বয়সের ভারে আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি কোন কাজ-কর্মও করতে পারি না। আমার বয়স ১০২ বছর হলেও আজও কপালে জেটেনি বয়স্ক ভাতা।

    তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শক্রর হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে রাণীনগর উপজেলার ভবানীপুর, ঘোষগ্রাম, কুজাইল, দূর্গাপুর, আত্রাই উপজেলার চাপড়া, সাহাগোলা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় শত্রুসেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। সাহসী ভূমিকার কারণে আমার বন্ধ-বান্ধব এবং এলাকাবাসী আমাকে ‘বাঘা মাঝি’ বলে ডাকতো। সেই থেকেই এলাকায় আমি বাঘা মাঝি হিসেবে পরিচিত।

    তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল এবং স্বাধীন বাংলার প্রথম ডেপুটি স্পিকার মরহুম বয়তুল্লাহ আমাকে পৃথকভাবে সনদপত্র প্রদান করেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের তালিকার ৪০ নাম্বারে রয়েছে আমার নাম।

    উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জানান, বাঘা মাঝি আমাকে ও এলাকার বেশকিছু মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নিজে গাইড দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছিলেন। কি কারণে আজ পর্যন্ত তার কপালে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা জুটলো না তা আমাদের অজানা। তার মতো মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।

    রাণীনগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ্যাড. মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, বাঘা মাঝিকে আমি চিনতে পারছি না। তবে তার কাছে যে সব কাগজপত্র আছে সেগুলো নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

    নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ হারুন অল-রশিদ জানান, বাঘা মাঝির দুইটি সার্টিফিকেট আমি দেখেছি। সব ঠিক আছে। কিন্তু তিনি কেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

    সূত্রঃ ইত্তেফাক/নূহু

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম