• শিরোনাম


    কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষকতাঃ বেতন সমস্যা ও তার প্রতিকার। ম.কাজীএনাম।

    | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭:২১ অপরাহ্ণ

    কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষকতাঃ বেতন সমস্যা ও তার প্রতিকার।  ম.কাজীএনাম।

    কওমী মাদরাসার শিক্ষকদের হাদিয়া-বেতন বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। বিশেষ করে আবাসিক শিক্ষকদের। কারণ মাদরাসার বাহিরে তাদের কাজ করার সুযোগ তেমন থাকে না। উপরন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয় না। চব্বিশঘণ্টা একটা মানুষ যদি নিতান্তই কম আয়ের কোন কিছুতে সংযুক্ত থাকে, থাহলে সেখান থেকে ভাল এক প্রফিট বা আয়ের উৎস বের করতে পারবে। কিন্ত বেচারা কওমী মাদ্রাসার একজন শিক্ষকের দ্বারা সে কাজ থেকেও ঢেড় বেশি পরিশ্রম করেও বেতন প্রায় হাত খরচের মতো সংকীর্ণ। শুধু দ্বীনের জন্য, ধর্মের সেবায় ব্রত আছে বলেই কেউ তেমন আওয়াজ তুলছেনা। না জানি কাজটি অধর্ম বা স্রষ্টার সন্তুষ্টির বাহিরে চলে যায়, সে ভয়। অথচ জীবন-সংগ্রামের নানান প্রয়োজনে, সংসার খরচের ধাপ বৃদ্ধি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার উর্ধ্বমুল্য নির্বাক করে দেয়।
    যা পাওয়া যায় তা দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর ও দুর্বিষহ হয়ে উঠে। এছাড়া অনেক মাদরাসায় বেতন কম যেমন, তেমনি প্রতি মাসে পরিশোধ করা হয় না। নুন আনতে পান্থাফুড়ায় ফ্যামিলিতে প্রতি মাসে বেতনের অর্ধেক বা কিয়দাংশ দিয়ে বছর অতিবাহিত করা হয়। যা খুবই দুঃখজনক।
    এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে যোগ্য ও একনিষ্ঠ শিক্ষক মাদরাসার খেদমতে পাওয়া যাবে না। জীবিকার প্রয়োজনে তাঁরা মাদরাসার পরিধির বাহিরে কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে উঠতে বাধ্য হবেন। ফলে তখন ছাত্রদের যোগ্য আলেম হয়ে বের হওয়ার সুযোগ অবারিত থাকবে না।
    বর্তমানেও এর বাস্তবতা অনেকাংশে আমাদের সামনে পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেক প্রতিভাবান-যোগ্য আলেম জীবিকার টানে মাদরাসার খেদমত ছেড়ে অন্য কাজ করছেন। অনেক তরুণ আলেম থেকে মাদরাসায় খেদমত করার আগ্রহ- ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এগুলো আরো বাড়বে এবং এর পরিণতি শুভ হবেনা।
    এক্ষেত্রে মুহতামিম সাহেবদের এগিয়ে আসা উচিত। শিক্ষকদের যথাযথ কদর করে যতটুক ক্লাস চালু করা সম্ভব ততটুক চালু করা উচিত। তার চেয়ে বেশি চালু না করা। প্রত্যেক উস্তাদ যেন যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পায় সেদিকে খেয়াল করা। সম্মানজনক বেতন নির্ধারণ করাসহ সর্বক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা মুহতামিমদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
    যদি বর্তমানের ন্যায় ভবিষ্যতেও মুহতামিম সাহেবগণ অবহেলা ও উদাসীনতা অব্যাহত রাখেন তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ‘কওমী মাদরাসায়’ একনিষ্ঠ উস্তাদ ও যোগ্য আলেম হারানোর আশংকা থেকে যায়। তখন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে কওমী ইলমের ঐতিহ্য ও গৌরব।

    আমাদের প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্প, কমিটি মুল্যায়ন, ছাত্রদের বেতন, ডোনার, বাৎসরিক মাহফিল ও সমসাময়িক চাদা সেহেতু আয়ের প্রধান উৎস, সেহেতু এখান থেকেই বাড়তি লভ্যাংশ বের করে নতুন আয়ের সন্ধান করতে হবে। যেমন মার্জিত বেতনের সবটুকো আদায়, বর্ডিয়ে খানা বাবত সাবলম্বি ছাত্রদের থেকে মুনাফা সহ টাকা উত্তোলন, মাদ্রাসার ভেতরের চারপাশ ফলফলারি বৃক্ষজাত রুপন, দোকান-মার্কেটের সুবিধে থাকলে সে দিকে খেয়াল, পুকুর-দীঘি থাকলে আয়ের পথ খুঁজা, ছাত্রদের থেকে আবাসিক চার্জ নেয়া, নিজস্ব ক্যান্টিন ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে সক্রিয় হওয়া। যেন কোন ভাবেই একজন শিক্ষক স্রিফ বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তুষ্টি না থাকে। কারন বেতন-ভাতা ঠিক না থাকলে শিক্ষকের আন্তরিকতায় ত্রুটি দেখা দেয়, যা খুবই দৃষ্টিকটু। অথবা আন্তরিক হলেও সাংসারিক চাপের মুখে মানসিক ভাবে অন্যত্র অর্থায়নের জন্য ছুটাছুটি করতে থাকে, যা একজন একনিষ্ঠ দ্বীনের খাদেমের জন্য খুবই অপমানজনক! আল্লাহ যেন আলেম-উলামা সহ দ্বীনি কর্ম ব্রত হয়ে থাকা সকল মুসলিমের ভাগ্যদয় করে দেন, হালাল জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। দ্বীনের খেদমতে কবুল করেন। আমিন



    কার্টেসী: ম.কাজীএনাম
    [বিএসএস অনার্স(অর্থনীতি), ডাবল এমএ(হাদিস)]
    উস্তাদ, জামিয়া কুরআনিয়া মাদ্রাসা, কাজীপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম