• শিরোনাম


    কওমীর সন্তানরা জেগে থাকলে মিডিয়ার ষড়যন্ত্র সফল হবে না – মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস, অতিথি লেখক | ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ৫:২০ পূর্বাহ্ণ

    কওমীর সন্তানরা জেগে থাকলে মিডিয়ার ষড়যন্ত্র সফল হবে না – মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    সত্যি বলতে কি, আধুনিক বিশ্বে যত অরাজকতা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরী হয়- মিডিয়াগুলোই এর অধিকাংশের প্রেক্ষাগৃহে অবস্থান নেয়। আমাদের বাংলাদেশে এই চিত্রটা তুলনামূলক প্রবলভাবে দৃশ্যমান। বিশেষ করে ধর্মীয় যে কোন ইস্যুতে ফাঁক-ফোকর খুঁজে তিলকে তাল বানানোর কাজটা চিহ্নিত কিছু মিডিয়া সুচারুরূপে আঞ্জাম দিয়ে থাকে। সম্প্রতি বরেণ্য একজন আলেমের জানাযাকে কেন্দ্র করে নাস্তিক্যবাদি গণমাধ্যমগুলোর চেচাঁমেচি দেশের সচেতন মহলকে ক্ষুব্ধ করেছে। তবে ওরা যে মিথ্যাচার করেছে, তাতে আমরা অবাক হই নি। কারণ, দ্বীনী যে কোন ইস্যুতে অরাজকতা ও নাশকতা সৃষ্টি করাই এদের কাজ। ৭১ টিভি, সময় টিভি ইত্যাদি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠলো। ব্যারিস্টার সুমন সহ তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা গর্ত থেকে বের হয়ে হম্বিতম্বি শুরু করল। শাহবাগী হুজুরও উনার চিরায়ত নিয়মে ফতোয়ার পসরা নিয়ে হাজির হলেন। কিন্তু খুনি আ.মাজেদের ফাঁসির সময় শতশত ছাত্রলীগ কর্মী একত্রে দাঁড়িয়ে উল্লাস করলে, আইনমন্ত্রীর মায়ের জানাযাতে কয়েকশ লোক অংশগ্রহণ করলে- এই দালাল মিডিয়াগুলো অন্ধত্ববরণ করে; লকডাউনের আইনের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়। সংবাদপত্রে এরকম অসংখ্য জনসমাগমের রিপোর্ট প্রকাশ পেলেও, এসব নিয়ে টিভিতে কোন টকশো দেখা যায় না, বুদ্ধিজীবীদের গর্জন শোনা যায় না। ইদানিং আবার আলোচিত ইস্যুটিকে ঘোলাটে করার লক্ষ্যে ইন্ধন যোগাতে চেয়েছিল ‘সময় টিভি’। তারা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একটা বানানো ফোনালাপ প্রচার করে। যেখানে দুজন আলেমের ফটো লাগিয়ে দাবী করা হয়, ওই জানাযার লোকসমাগমের ব্যাপারে দু’দলের এই দুই লিডার আগেই ফোনালাপের মাধ্যমে নীল নকশা একেঁছিলেন। একজন হলেন কওমী ধারার প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব, অন্যজন জামাআতে ইসলামীর বর্তমান আমীর মাও. শফীকুর রহমান। সময় টিভির এই জঘন্য মিথ্যাচারের কারণে আদর্শবান সকল মানুষ প্রতিবাদমূখর হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এখন এক ঘৃণ্য নাম ‘সময় টিভি’। সবাই বলছেন, পাগলও বিশ্বাস করবে না যে, এটা তাদের ফোনালাপ। প্রসিদ্ধ ব্যাক্তি হওয়ায় তাদের কণ্ঠ অপরিচিত নয়। মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব এই অপবাদের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি সময় টিভির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। মিথ্যাচারিতার সবচে বড় প্রমাণ হলো, সময় টিভি তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজ থেকে ফোনালাপের ভিডিওটি ডিলিট করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উক্ত টিভির ম্যানেজম্যান্ট বরাবরই তালগোল পাকাচ্ছে। মুফতি রিজওয়ান রফীকী সময় টিভির অফিসে যোগাযোগ করে ভিডিওর ব্যাপারে জানতে চাইলে জবাব আসছে- এটা আমাদের ইচ্ছা; মনে হলো আপলোড করলাম আবার মন চাইলো ডিলিট করলাম।” পুরাই পাগলের প্রলাপ! একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, যাদের ফোনালাপ ফাঁস করেছেন তাদের কারোরই কন্ঠের সাথে মিল নাই। তবে কেন এমন কাজ করলেন? টিভির পক্ষ থেকে বলা হয়, হ্যাঁ আমরা আপলোড করেছি তবে আপনাদের কাছে যদি ভুয়া মনে হয় তবে আইনের আশ্রয় নেন।“ কিন্তু ফোনালাপটি কেন ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরিয়ে ফেলা হলো তার কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই সময় টিভি কতৃপক্ষ। বরং উল্টো রফীকী সাহেবের বিরুদ্ধে ওরা জিডি করেছে। এ ব্যাপারে তিনি লিখেন, “সময় টিভিকে বলছি- আমাকে দোষারোপ করে জিডি করে হয়রানী করার চিন্তা বাদ দিন। ক্ষমা না চাইলে তৌহিদী জনতার প্রতিবাদ চলতেই থাকবে। ইনশাআল্লাহ। মনে রাখবেন- জিডি করায় আমি এক চুল পরিমাণ ভীত নই। ধন্যবাদ।”
    কিন্তু স্ববিরোধী হয়ে তারাই পরে সংবাদ হিসেবে আপডেট করলো যে, তারা এ কাজ করে নাই!! তাদের এই দ্বিমুখিতায় অবাক হওয়ার কারণ নেই। মাঝেমধ্যেই ওরা বেমালুম ভুলে যায়, এ দেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। ইসলাম, মুসলমান ও আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ এখানে সুখে থাকতে পেরেছে- এমন ইতিহাস পাওয়া দুষ্কর। আর এ ব্যাপারে কওমী সন্তানদের অবদান সর্বাগ্রে উল্লেখ্য। বক্ষ্যমাণ ইস্যুতেও কওমী প্রজন্ম ও তাওহীদী জনতার শুধু অনলাইন আন্দোলনেই সময় টিভি লেজ গুটাতে বাধ্য হয়েছে। সামনে আরো ভয়াবহ কিছুর প্রমাদ গুনছে।।
    এ পর্যায়ে কয়েকজন আলেমের প্রতিবাদী বক্তব্য তুলে ধরছি: মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব বলেন,“ সময় টিভি কর্তৃপক্ষ যে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে এতে আমার মারাত্মক রকম মানহানি হয়েছে ৷ আমি কখনোই জামাতের আমীর কিংবা অন্য কারো সাথে এজাতীয় কোন কথোপকথন বা আলোচনা করিনি ৷ আমি অত্র প্রতিবাদ পত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে বলছি, সময় টিভিকে এই মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও ভুল স্বীকার করে সংবাদ প্রচার করতে হবে ৷ অন্যথায় আমি সময় টিভির বিরুদ্ধে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
    মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন, “সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেল Unsubscribe ও ফেসবুক পেইজ Unlike করুন।”
    আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব দা. বা. বলেন, “অডিও ফোনালাপটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, জঘণ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাওলানা মাহফুজুল হকের কণ্ঠস্বর ও কথা বলার ধরনের সাথে যারা পরিচিত, কয়েক সেকেন্ডে শুনলেই তারা বুঝে যাবেন যে, অডিওর কণ্ঠস্বরটি তাঁর নয়। অপরপক্ষেও যিনি কথা বলছেন, সেটাও আসল কণ্ঠ নয়। আসলে পুরো প্রক্রিয়াটাই সময় টিভির জঘণ্য মিথ্যাচার। সময় টিভি কর্তৃপক্ষকে আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, নয় তো কঠিন পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

    মাওলানা মহিউদ্দীন কাসেমী লিখেন, “ বারবার সুযোগ আসবে না। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শুধু ক্ষমা প্রার্থনা নয়, এসব কুলাঙ্গার বারবণিতার ছেলে সাংবাদিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কুলাঙ্গারগুলোকে শায়েস্তা করার এটাই মোক্ষম সুযোগ। বয়কট নয় ওদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হোক। ধর্মীয় কোন সমাবেশে ওদের দেখা গেলে গুজব ছড়ানোর দায়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হোক।।”
    পরিশেষে বলব, হলুদ সাংবাদিক ও দালাল মিডিয়াগুলোর অপপ্রচরে আমরা ভীত নই। মিথ্যাকে যত আকর্ষণীয় করেই উপস্থাপন করা হোক না কেন- চেপে রাখা সত্য একদিন বেরিয়ে আসেই। আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামবিরোধী অপশক্তি সাময়িক আস্ফালন দেখালেও বিজয় হবে হক ও হকপন্থীদের। সত্যের মশালবাহী কওমীর সন্তানরা যতদিন জাগ্রত থাকবে, ততদিন এই জমিনে বাতিল শেকড় গাড়তে পারবে না। শাইখুল হাদীস মাওলানা মামুনুল হকের কণ্ঠে বলতে চাই, হে কওমি সন্তানেরা! তোমরা জেগে থাকলে বেঁচে থাকবে বাংলাদেশ।।



    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক: শাহবাজপুর, বি-বাড়িয়া, বাংলাদেশ।
    ২৩/৪/২০২০ইং, বৃহস্পতিবার।।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম