• শিরোনাম


    ওয়ান অন ওয়ান; তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন

    | ০৯ জুলাই ২০২১ | ১১:১৬ অপরাহ্ণ

    ওয়ান অন ওয়ান; তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন

    বিশ বছরের মধ্যে এই প্রথম গতকাল কোনো তালেবান মুখপাত্র আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিলেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের ঘাঘু সঞ্চালক সাম্প্রতিক প্রায় সবগুলো ইস্যুতে প্রশ্ন করেছেন।

    এক- আফগানিস্তানে আবার রক্তের হোলি খেলা শুরু হয়েছে, তালেবান কেন এই রক্তপাত ঘটাচ্ছে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত কী?



    দুই- আমেরিকা বলছে কূটনৈতিকদের নিরাপত্তা দিতে এক হাজার সৈন্য থাকবে, তালেবান এটা কিভাবে দেখছে?

    তিন- তুরস্ক চাচ্ছে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্ব নিতে, এক্ষেত্রে তালেবানের অবস্থান কী?

    চার- আফগানিস্তানে এনজিওকর্মিদের ভবিষ্যত কী?
    পাঁচ- নারী অধিকারের কী হবে? ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়ের বিভীষিকা কি আবার ফিরে আসবে? নারী শিক্ষা, বিশেষত নারী অধিকারের কী হবে?

    আরও ছোটখাট কিছু প্রশ্ন।

    উত্তরগুলোর সারাংশ হচ্ছে যথাক্রমে-

    গত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহে দেড়শ জেলা তালেবানের হাতে এসেছে, কোন বাহিনির পক্ষে লড়াই করে এত দ্রুত এতবড় এরিয়া দখল করা সম্ভব? তালেবানের যুদ্ধশক্তি কি এত বেশি? আসলে তা না। আমরা সেসব এলাকা দখল করছি যেখানকার সরকারি বাহিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছে। তারা আমাদের দলে যোগ দিয়েছে।

    যদি আমরা তাদের দলে যেতাম, তারা কি আমাদেরকে গ্রহণ করত না? তদ্রূপ আমরাও তাদেরকে গ্রহণ করছি।
    তারা কেন কাবুল প্রশাসনের পক্ষ ত্যাগ করে আমাদের দলে যোগ দিচ্ছে? কারণ তারা জানে কাবুল প্রশাসন মূলত দখলদারদের উচ্ছিষ্টভোগি, তারা পরাধিনতার অংশ। সেনারা মনে করে তালেবানরা প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী, এই মাটির সম্মান ও স্বাধীনতা তালেবনের হাতে নিরাপদ। তাই তারা তালেবানে যোগ দিচ্ছে।
    .

    দেখুন মূল চুক্তিতে ছিল সেনারা মে মাসের ভিতর আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে, পরে সেটা ১১ ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, এখনো পর্যন্ত আমরা তাদের উপর হামলা চালাই নি, এর মানে হচ্ছে আমাদের দিক থেকে চুক্তির কোনরূপ লঙ্ঘন হয় নি।

    চুক্তিতে ছিল সব বিদেশি সেনা আফগান ছেড়ে যাবে। যদি একজন সেনাও আফগানিস্তানের মাটিতে থাকে, তার মানে হচ্ছে অপরপক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। সেক্ষেত্রে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিব।
    (সঞ্চালক- এটি কি সরাসরি হুমকি? মুখপাত্র- হ্যাঁ)
    .

    তুরস্কের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ভালো, মুসলিম এবং বীরদের জন্মভূমি হিশেবে উভয় দেশ আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু আফগানিস্তান এখন একটা যুগ অতিক্রম করছে- পরাধীনতা আর দখলদারিত্বের যুগ। এই যুগ শেষ হয়ে নতুন যুগের সূচনা হবে- স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের যুগ। দুই যুগের মাঝে কোন সম্পর্ক থাকবে না। এই যুগের কেউ সেই যুগে প্রবেশ করতে পারবে না।

    তুরস্ক যদিও বেসামরিক কাজে ছিল, কিন্তু তারা ন্যাটোর অংশ হিশেবে আফগানিস্তানের দখলদারিত্বে অংশগ্রহন করেছে। আমেরিকা বা ন্যাটোর কোন সদস্য দেশের সেনা থাকা মানে সেই দখলদারিত্ব আর পরাধীনতা বজায় থাকা। এর কোন সুযোগ নেই। এই দেশ স্বাধীন হবে। শতভাগ স্বাধীন।

    তবে যখন এদেশ স্বাধীন হবে, ইসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন পৃথিবীর যেকোন রাষ্ট্র আমাদের সাথে যেকোন চুক্তি করতে চাইলে- দে আর ওয়েলকাম। তুরস্ক চাইলেও তখন আমাদের সাথে চুক্তি করতে পারে। কিন্তু বর্তমান দখলদারিত্বের অংশ হিশেবে আফগানিস্তানে থাকার কোন সুযোগ নেই।
    .

    তালেবান এনজিওকর্মী, সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী, এনজিওর স্থানীয় প্রতিনিধি, কূটনৈতিক, দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কখনো হামলা চালায় না, চালাবও না। আমরা যে দেড়শ জেলার দায়িত্ব নিয়েছি আমাদের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যেই আদেশ জারি করেছেন সেখানকার স্কুল, কলেজ, দোকানপাট, মিডিয়াসহ সবকিছু যেন স্বাভাবিক এবং ‘অপারেশনাল’ থাকে সেই ব্যবস্থা করতে।

    আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, মাঠপর্যায়ে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সুতরাং এনজিওদের কোন শঙ্কা নেই। এবং এই কারণেও দূতদের সহায়তার কথা বলে আমেরিকান বা ন্যাটোভুক্ত কোন দেশের সেনা রাখার দরকার নেই, আমরাই তাদের নিরাপত্তা দিব।
    .

    দেখুন ইসলামে যেসব অধিকার দেওয়া আছে, সেগুলো দিতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। মেয়েরা স্কুলে যাবে, শিক্ষার্জন করবে, চাকরি করতে পারবে, কিন্তু অবশ্যই তাদেরকে হিজাব পরতে হবে। ইসলামি দেশে ইসলামি আইনের সাথে কম্প্রোমাইজ হবে না। পৃথিবীর বহু মুসলিম এবং অমুসলিম দেশে মেয়েদের আলাদা গার্লস স্কুল রয়েছে, আফগানিস্তানেও থাকবে। তারা সেখানে পড়বে।

    সঞ্চালক- তার মানে বিগত বিশ বছরে তালেবানের আদর্শে অনেক পরিবর্তন এসেছে? ১৯৯৬-২০০১ সালের মত ঘটনার পূনরাবৃত্তি হবে না?
    মুখপাত্র- এগুলো প্রোপাগাণ্ডা। আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৃহৎ প্রোগ্রামের অংশ।

    দেখুন বিগত বিশ বছরে আমি এই প্রথম কোন মিডিয়ায় কথা বলছি, অথচ এই সময়ে আপনি কত শত সহস্রবার আমাদের প্রতিপক্ষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন? মাঠ ফাকা ছিল, তাদের ইচ্ছেমত মিথ্যা ছড়িয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য মিডিয়ায় আমাদের উপস্থিতি ছিলই না। তারা যেসব ছড়ায় সেগুলো মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি নয়।

    আরও অনেক কথা বলেছেন। আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি ভদ্রলোকের ঠান্ডা মাথা আর ধীরস্থিরতা দেখে। দুইদশকে প্রথমবার সাক্ষাৎকার দিতে এসে একদিকে ভদ্রলোক ইংরেজি সামলাচ্ছিনলেন, আবার কূটনৈতিক বিচক্ষণতাও ধরে রাখতে হয়েছে। একটাও বেফাস কথা বের হয়নি। একটা শব্দও না ভেবে বলেন নি। সম্ভবত তার এই সাক্ষাৎকারের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব কত তা নিয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন।

    বরাবরের মতই তালেবানের নৈতিক ও আদর্শিক দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এরকম শত্রু পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। এদিক থেকে অবশ্যই আমেরিকা ভাগ্যবান, কারণ তাদের শত্রুর মুখের কথার মূল্যায়ন আছে। শব্দের দাম আছে। সঞ্চালক যতবার বলেছে নারী অধিকার, তিনি ততবার বলেছেন ইসলামি অধিকার। একবারও ছাড় দেননি। যতবার বলেছে আফগানিস্তান, তিনি ততবার বলেছেন স্বাধীন ইসলামি আফগানিস্তান।

    মূলত কেউ পছন্দ করুক আর না করুক, তালেবান নিজেকে স্বাধীনতার সূর্য সন্তান হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। তাদের হাত ধরেই চার দশকের গোলামি থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। স্বাধীন সার্বভৌম আফগানিস্তানের অভ্যুদয় হতে যাচ্ছে।

    তবে মিডিয়ার প্রোপাগাণ্ডা থেমে নেই। ডয়েচে ভেলে, আল জাযিরা, বিবিসিসহ অনেক মিডিয়া সাক্ষাৎকারে দেখাচ্ছে মানুষ তালেবানকে চায় না। বিস্ময়কর সত্য হচ্ছে এদের প্রায় সকলেই মার্কিনদের দোসর। কেউ সামরিক কেউ বেসামরিক কন্ট্রাক্টর। কেউ গুপ্তচর, কেউ দালাল। তো যাদের হাত ধরে দেশের স্বাধীনতা খুন হয়েছে, লক্ষ লক্ষ বনি আদম নিহত হয়েছে, হাজার হাজার নারী জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারিয়েছে, আপনার কি মনে হয় তালেবান ধরে ধরে এদেরকে চুমু খাবে?

    এদের প্রত্যেকে জানে আমেরিকা গেলে এদের একমাত্র জায়গা হবে ফায়ারিং স্কোয়াডে। সেজন্য শেয়ালের এত হুক্কাহুয়া। এত দরদ বিদেশি দখলদারদের জন্য।

    এমনকি গতকাল সাক্ষাৎকারেও তালেবান মুখপাত্র একটি প্রোপাগাণ্ডার অপনোদন করছে যা মিডিয়া তখনো প্রচার করছিল। তালেবান এক নেতার বরাত দিয়ে মিডিয়া প্রচার করছে সরকারের সাথে তালেবানের খুব দ্রুত চুক্তি হতে যাচ্ছে। মোল্লা সুহাইল শাহীন বলেন সরকারের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে তা সত্য। কিন্তু মিডিয়া যে বরাতে যে নিউজ ছড়াচ্ছে সেটা মিথ্যা। যার বরাতে ছড়ানো হচ্ছে আমি তার সাথে ফোনে কথা বলে এসেছি, এগুলো মিথ্যা নিউজ, প্রোপাগাণ্ডা।

    মাসুদ কি কখনোই ভাল হবে না?
    ……

    পুরো ভিডিও দেখতে চাইলে-

    সংবাদ প্রেরক
    রাকিবুল হাসান
    শিক্ষার্থী- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম