• শিরোনাম


    ওস্তাদ আহমেদ আলী খানের না শেখানো ‘বন্দিশ’ বালক আলাউদ্দিন খাঁর আঙুলে : প্রফেসর ফরহাদ হোসেন

    | ২৪ জুন ২০২১ | ১২:১৫ অপরাহ্ণ

    ওস্তাদ আহমেদ আলী খানের না শেখানো ‘বন্দিশ’ বালক আলাউদ্দিন খাঁর আঙুলে : প্রফেসর ফরহাদ হোসেন

    সংগীত ভুবনের মুকুট বিহীন সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ও বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কলম ধরেছেন ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক প্রফেসর ফরহাদ হোসেন। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে লেখকের এ লেখা। আজ পাঠকের উদ্দেশে থাকছে ৫ম পর্ব।

     



    ওস্তাদ আহমেদ আলী খান মেজাজি মানুষ ছিলেন। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মেয়ের বাড়িতে না গিয়ে বাড়ি ফিরে এসে দেখলেন আলাউদ্দিন সরোদে তাঁকে না শিখানো বন্দিশ একমনে বাজিয়ে চলেছেন। আহমেদ আলী খান আলাউদ্দিনের এহেন আচরণকে অবাধ‍্যতা ও বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচনা করে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে পড়েন। তিনি চোস্ত উর্দুতে” তুম গাদ্দার হো, ধোকাবাজ হো, নিকাল যাও মেরা মাকান ছে ” ইত‍্যাদি বলে উচ্চস্বরে গালমন্দ করতে থাকেন। এমন একটি অবাঞ্চিত পরিস্থিতির জন‍্যে প্রস্তুত ছিলেন না শিক্ষানবীশ আলাউদ্দিন। তাই ওস্তাদ আহমেদ আলী খানের এই রুদ্র মূর্তি দেখে ছোট খাঁ সাহেব ভড়কে যান। আহমেদ আলী খানের স্ত্রী ছিলেন খুব স্নেহবৎসল। তাই শিক্ষাগুরুর ক্রোধ থেকে আলাউদ্দিনকে বাঁচাতে স্বামীর সামনে এসে দাঁড়ান।
    আহমেদ আলী খানের কোন পুত্র সন্তানের তথ‍্য আমার কাছে নেই। খানের স্ত্রী যে আলাউদ্দিনকে পুত্রবৎ স্নেহ করতেন এ ব‍িষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। তিনি স্বামীর
    ক্রোধ নিবারনের জন‍্যে বললেন, ” তুমি ছেলেটিকে শুধু বকেই গেলে, একবারও জানতে চাইলে না যে তোমার না শিখানো সত্বেও ছেলেটি কীভাবে এই কঠিন বন্দিশ আয়ত্ব করলো?” স্ত্রীর প্রশ্নে আহমেদ আলী খানের ভাবান্তর ঘটলো। তাৎক্ষিকভাবে জিজ্ঞাসা না করে ক্রোধ উপশমের পর তিনি আলাউদ্দিনকে ডেকে পাঠান এবং কীভাবে সে না শিখানো বন্দিশ আয়ত্ব করলো তা জানতে চান। আলাউদ্দিন দরজার কবজার ছিদ্রপথে চোখ রেখে ওস্তাদজীর ( আহমেদ আলী খানের) বাজানো দেখে দেখে এই না শিখানো বন্দিশগুলো আয়ত্ব করেন বলে শিক্ষাগুরুকে জানান। উত্তর শুনে আহমেদ আলী খান কিছুক্ষনের জন‍্য গম্ভীর হয়ে থাকেন। গাম্ভীর্য ভেঙ্গে স্ত্রীকে লক্ষ‍্য করে বললেন,” শেখার ক্ষেত্রে যার এত আগ্রহ তাকে না শেখানো পাপ।” তিনি শান্তকন্ঠে আলাউদ্দিনকে সরোদ হাতে তাঁর সামনে হাজির হতে হুকুম দিলেন।
    যেই বন্দিশগুলো রক্তসম্পর্কের ছাড়া অন‍্য কাউকে শিখাবেন না বলে বংশীয় প্রতীজ্ঞায় আবদ্ধ ছিলেন তা শিষ‍্য আলাদ্দিনকে শিখিয়ে শিক্ষা গুরুর পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহন করলেন আহমেদ আলী খান।
    ওস্তাদের হুকুম পেয়ে আলাউদ্দিন সরোদে আঙ্গুলের ঝড় তুললেন। ওস্তাদ আহমেদ আলী খান বিস্ময়ে অপলক নেত্রে অসাধারন দক্ষতার সাথে শিষ‍্যের সরোদ বাদনের দিকে তাকিয়ে রইলেন আর ভাবলেন এই বালক শিষ‍্যটি সাক্ষাত সংগীত দেবীর বরপুত্র। একদিন সে তার ক্ষেত্রে ভুবন বিখ‍্যাত হবেই, শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
    মেয়ে অন্নপুর্না যখন পিতা আলাউদ্দিনর আদেশে সরোদে নির্ভুলভাবে আঙ্গুল সঞ্চালন করছিলেন, ওস্তাজী তখন স্মরনের খাতায় নিজের স্মৃতিতে চোখ রেখে স্ত্রী মদিনা বেগমকে উদ্দেশ‍্য করে উচ্চস্বরে বলে উঠেছিলেন ” মদিনা বেগম তুমি রত্নগর্ভা, তোমার মেয়ে মাতৃগর্ভ থেকেই সংগীতের তালিম নিয়ে ভুমিষ্ঠ হয়েছে।”

     

    লেখক: বিভাগীয় প্রধান,ইংরেজি বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম