• শিরোনাম


    ওরে বাটপার থেকে জুতার বাড়ি! -পলাশ রহমান

    | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

    ওরে বাটপার থেকে জুতার বাড়ি! -পলাশ রহমান

    কিছু দিন আগে দৈনিক যুগান্তরে লিখেছিলাম ‘ওয়াজের নামে হচ্ছেটা কী’! রচনাটা বেশ আলোচিত হয়েছিল, কিন্তু ওপর্যন্তই। আলোচনা সমালোচনার বাইরে অন্য কোনো কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না।

    ওই রচনায় বলেছিলাম, অতীতের তুলনায় এখন কোরান হাদিস নিয়ে অনেক বেশি গবেষণা হয়, বিশ্লেষণ হয়। দেশের মাদরাসা শিক্ষার মানও বেড়েছে, শুধু পেছনে পড়ে আছে ওয়াজ নসিহতের মান। বরং দিনে দিনে তলানিতে যাচ্ছে। এখনকার ওয়াজে চিল্লাপাল্লা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, হাসি মশকরা, ভুলভাল ফতোয়া দেয়া, মাসয়ালা দেয়া, একজন অন্যজনকে নগন্য আক্রমণ করা, চোখ রাঙ্গানো ছাড়া তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না।



    আমাদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াজ সাংস্কৃতির সাথে এ সময়ের ওয়াজের কোনো মিল নেই। ওয়াজের সেই কোমলতা, মাধুর্য এখন আর নেই। এ সময়ের বক্তারা যেমন গলার রগ ফুলিয়ে, চোখ লাল করে মনগড়া ওয়াজ করেন, একই ভাবে শ্রোতাদের মধ্যে থেকেও ওয়াজের হুজুরদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা কমে গেছে। ক্ষেত্রবিশেষ উঠে গেছে।

    সরল কথা হলো ওয়াজকারীরা যেমন বদলেছেন, ওয়াজের শ্রোতারাও বদলেছেন দুঃখজনকভাবে। এই অশুভ বাড়াবাড়ি বা বদলাবদলি যেনো থামার নয়। থামানোর নয়। কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসছে না, এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে না। সবাই নিজের গা বাঁচিয়ে ওআইসির ভূমিকায় অবতির্ণ হয়েছেন। যার ফলে দিনকে দিন এর মাত্রা বেড়ে চলেছে। ওয়াজের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। দীন প্রচারের এই মহতী ধারা থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যা আমাদের দুই জীবনের জন্যেই ভয়াবহ বার্তা বহন করে।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে দেশের একজন নামকরা ইসলামি সংগীত শিল্পী Mohamamd Abu Sufian একজন ওয়াজের বক্তা মাসুদ ইবনে মুজিব ফারুকীর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন। মামলার আর্জিতে লিখেছেন, উল্লেখিত বক্তা ওয়াজের নামে আরেক জন জনপ্রিয় বক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকিকে গালাগাল করেছেন, সম্মানহানি করেছেন। ওই বক্তা ওয়াজের চেয়ারে বসে জুতা তুলে বলেছেন, ‘তোমার মুখে আমি জুতা মারি’। আরো অনেক অসভ্য কথা বলেছেন যা এখানে লিখার অযোগ্য।

    মাসুদ ইবনে মুজিব ফারুকী যখন জুতা তুলে হাফিজুর রহমান সিদ্দিকিকে গালাগাল করছিলেন তখন তার সামনে রাখা টেবিলের উপর ছিল পবিত্র কোরান শরিফ। কিছুক্ষণ পর তিনি ওই হাতেই কোরআন তুলে ওয়াজ করেন। যা ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে কষ্টের জন্ম দিয়েছে।

    আবু সুফিয়ান তার মামলার আর্জিতে বলেছেন, এসব করে ওই বক্তা কোরআনের অবমাননা করেছেন, একজন সম্মানি আলেমের অসম্মান করেছেন।

    আমি যুগান্তরের রচনায় লিখেছিলাম, দেশের হকপন্থী আলেম ওলামাদের এগিয়ে আসা দরকার। ওয়াজ বক্তাদের লাগামহীনতা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিন্তু কোনো মহল থেকে কেউ এগিয়ে আসেনি। দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। সাহস করে এগিয়ে এসেছেন একজন তরুণ শিল্পী। তিনি আদালতের মাধ্যমে সমাধান চেয়েছেন। এখনো যদি বিজ্ঞ আলেমদের ঘুম না ভাঙ্গে, তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দেন তবে বুঝতে হবে আমাদের মেরুদণ্ডে ঘুন লেগেছে।

    প্রাসঙ্গিক কারনেই হাফিজুর রহমান সিদ্দিকি সম্পর্কে দুই কথা বলতে হয়- তিনি একজন জনপ্রিয় বক্তা। জনপ্রিয়তার যে পর্যায়ে তিনি এখন রয়েছেন এখানে আসতে যোগ্যতা লাগে। অযোগ্য মানুষরা পেছন থেকে গালাগাল করতে পারবে, জুতা ছোড়াছুড়ি করতে পারবে, কিন্তু জনপ্রিয়তার এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না।

    এমন একজন আলেম বক্তা যখন ওয়াজের স্টেজে বসে মানুষকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলেন, তুই তুকারি করেন, চিৎকার করে বাটপার বলেন, জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা করেন তখন ধর্মপ্রাণ মানুষ হতাশ হয়। একজন সত্যিকারের দাঈর আচরণের সাথে এগুলো মানায় না।

    আপনারা যখন বিভিন্ন অনুসরণীয় অনুকরণীয় আকাবিরদের জীবনি বয়ান করেন তখন দয়াকরে একটু মিলিয়ে দেখবেন তাদের আচরণের সাথে আপনাদের আচারণগুলোর ব্যাবচ্ছেদ কতোটা। কেনো এখন আর আপনাদের ওয়াজ নসিহত মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে না।

    যে বক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকির বিরুদ্ধে জুতা তুলেছেন তিনি অভিযোগ করেছেন, আরেক জনপ্রিয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির দেশ ত্যাগের পেছনে সব দায় হাফিজুরের। অভিযোগকারীদের কাছে সব থেকে বড় প্রমান হলো ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর সাথে হাফিজুর রহমানের একটা ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মিজানুর রহমানকে কেন্দ্র করে দেশের জামায়াতপন্থী বক্তারা হাফিজুর রহমানদের প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা চান মিজানুর রহমানকে দিয়ে দেলোয়ার হুসাইন সাইদির শূণ্যতা পূরণ করতে। কিন্তু একাজে তারা এতবেশি তাড়াহুড়া করেছেন, এতবেশি মাতামাতি করেছেন যে সরকার এবং ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার টার্গেটে পরিণত হয়েছেন মিজানুর রহমান। অথচ তারা দায় চাপাতে চেষ্টা করছেন হাফিজুর রহমানদের উপর।

    আমি দেশের কোনো হকপন্থী আলেমকে মিজানুর রহমানের বিরোধীতা করতে দেখিনি। বরং অনেকেই বলেছেন, মিজানুর রহমানদের মতো শিক্ষিত, স্মার্ট তরুণদের ওয়াজের মাঠে নেমে আসা অত্যান্ত শুভ লক্ষণ। তারা সমালোচনা করেছেন বা আপত্তি তুলেছেন মিজানুর রহমানের দেয়া কিছু ফতোয়া বা মাসলামাসায়েলের। সেটাকে জামায়াতপন্থীরা মিজানুর রহমানের বিরোধীতা বলে প্রচার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে।

    শেষ করার আগে একটা সরল কথা বলি- একজন হাফিজুর রহমান যদি এত ক্ষমতাশালী মানুষ হতেন তবে জুতা দেখানো বক্তার শাস্তির জন্য আবু সুফিয়ানকে মামলা করতে হতো না। স্টেজ থেকে নামার আগেই তার কাশিমপুরে থাকার কথা ছিল।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম