• শিরোনাম


    ঐক্যফ্রন্ট থেকে ১০০ অসে‌নের দাবী জামায়াতের, এর ম‌ধ্যে ৩৮ টি অাসনই উত্তরাঞ্চলে।

    | ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    ঐক্যফ্রন্ট থেকে ১০০ অসে‌নের দাবী জামায়াতের, এর ম‌ধ্যে ৩৮ টি অাসনই উত্তরাঞ্চলে।

    অবশেষে বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে রেখেই ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ ঘোষণা হয়েছে। জামায়াতও চেয়েছিল সেটি। এবার তারা বিএনপির সমর্থনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ভোটের মাঠে নামবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের টার্গেট ১০০ আসন। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ৩৮টি আসনকে তারা বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে।
    জামায়াতের সূত্রমতে, আগে থেকে বিএনপির সমর্থনে প্রায় ১০০ আসনে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ছিল স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৩৮টি আসনে প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে দলটি। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ২১টি ও রংপুর বিভাগে ১৭টি।
    সূত্রমতে, জামায়াতকে ৫০ আসন দেয়ার আশ্বাস রয়েছে বিএনপির। তবে শেষ পর্যন্ত ১০০ আসনের জন্য তারা দরকষা কষি করবে। আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে ভোটে ব্যবহারেও নিষেধ করেছে আদালত। ফলে জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই ভোটে দাঁড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
    জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি সূত্রমতে, ১০০ আসনে প্রার্থী দিতে নার্সিং করছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচনে গেলে এ সংখ্যা কমে আসতে পারে। যারা অতীতে প্রার্থী ছিলেন এবং আগামীতে হতে আগ্রহী তারা পরিস্থিতির আলোকে কাজ করছেন। তাদের ইতোমধ্যেই দল থেকে সংকেতও দেয়া হয়েছে। তবে জোটের কারণে আসন কমে গেলে তাদের মধ্যে থেকে যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।
    ১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর জামায়াত দুটি নির্বাচন একসঙ্গে করেছে, আবার ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনও করেছে একসঙ্গে। আর এবার তারা যত আসনে ছাড় চাইছে জোটবদ্ধ কোনো নির্বাচনেই এত বেশি আসনে ছাড় পায়নি তারা।
    সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সমর্থনে ৩৫টি আসনে নির্বাচন করেছিল জামায়াত। আরও চারটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়, সেখানে বিএনপি ও জামায়াত-দুই দলেরই প্রার্থী ছিল।
    আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৯৯ সালে জামায়াত, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দল ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে জোট করে বিএনপি। পরে এরশাদ জোট ছেড়ে দিলে তার দলের একাংশ বিজেপি নামে জোটে থেকে যায়। আর বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট ভোটে যোগ হওয়ায় ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি অভাবনীয় জয় পায়। তবে ২০০৮ সালে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করে বিএনপি। সেই সময় থেকে এখনো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে আছে জামায়াত। মুক্তিযুদ্ধের পর নিষিদ্ধ জামায়াত রাজনীতিতে ফেরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে নির্বাচন করে দলটি। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ৭৬টি আসনে নির্বাচন করে ১০টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচনে দলটি ২২২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। সে সময় ৩৫টির মতো আসনে বিএনপির সঙ্গে গোপন সমঝোতা ছিল দলটির।
    ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তিনশ আসনে লড়াই করে জামায়াত। তবে তারা হারে ২৯৭টিতে, জেতে তিনটিতে। দলের সব শীর্ষস্থানীয় নেতা হারেন ওই ভোটে। ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবন্ধ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ছাড় পায় জামায়াত। আর একটি আসন থাকে উন্মুক্ত। তখন জামায়াত ১৭টি আসন পায়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত দুটি আসনে জেতে। সে সময় দলটি জোটগতভাবে ৩৫টি ও চারটিতে এককভাবে নির্বাচন করে।
    উত্তরাঞ্চলের যেসব আসনে ভোটের প্রস্তুতি জামায়াতের এর মধ্যে রয়েছে, রাজশাহী-১: মুজিবুর রহমান, রাজশাহী-৩: মাজিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: ইয়াহিয়া খালেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাটোর-১: তাসনিম আলম, নাটোর-৪: দেলোয়ার হোসেন খান, নওগাঁ-৪: খ ম আব্দুর রাকিব।
    বগুড়া-২: শাহাদুজ্জামান, বগুড়া-৪: তায়েব আলী, বগুড়া-৫: দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬: শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-৬: শাহাবুদ্দিন, জয়পুরহাট-১: ফজলুর রহমান সাঈদ, জয়পুরহাট-২: এস এম রাশেদুল আলম সবুজ, সিরাজগঞ্জ-৪: রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫: আলী আলম, পাবনা-১: নাজিব মোমেন, পাবনা-২: হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৪: আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-৫: ইকবাল হুসাইন।
    ঠাকুরগাঁও-২: আবদুল হাকিম, ঠাকুরগাঁও-৩: আবুল কাশিম, দিনাজপুর-১: মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৪: আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৬: আনয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২: মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩: আজিজুল ইসলাম, রংপুর-২ ওবায়দুল্লা সালাফী, রংপুর-৫: শাহ হাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১: আজিজুর রহমান স্বপন, কুড়িগ্রাম-৪: নূর আলম মুকুল, গাইবান্ধা-১: মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩: নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৪: আবদুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-৫: ওয়ারেছ আলম দুদু, পঞ্চগড়-১: আব্দুল খালেক, লালমনিরহাট-১: আবু হেনা অথবা মো. এরশাদ হোসেন সাজু।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম