• শিরোনাম


    এসকে সিনহা যা প্রকাশ করছে জাতির জন্য তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এড.জয়নুল আবেদীন

    | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

    এসকে সিনহা যা প্রকাশ করছে জাতির জন্য তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।  এড.জয়নুল আবেদীন

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেছেন, বিচারপতি এসকে সিনহা তার বইয়ে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন তা জাতির জন্য খুবই দুঃখ ও লজ্জাজনক। সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আমাদের বিবেককে দংশন করে। সরকারের এই হস্তক্ষেপ মঙ্গল বয়ে আনবে না। এসবের নিন্দা জানাচ্ছি।

    শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সম্পাদক কাজী মো. জয়নাল আবেদীনসহ সমিতির বিএনপিপন্থী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



    জয়নুল আবেদীন বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করে পুরো বিচার বিভাগকে এখন নির্বাহী বিভাগের আওতাধীন করা হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের বিচার বিভাগ চাপের মুখে রয়েছে। বিচার বিভাগ পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভৌতিক মামলা দিচ্ছে।

    লিখিত বক্তব্যে আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতি সব সময় আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার সংরক্ষণের জন্য দাবি করে আসছে। গত এক বছর আগে আপনাদের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ব্যাপারে যে তথ্য এবং কথা বলেছিলাম, তাই আজকে সাবেক প্রধান বিচারপতির লিখিত বইয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা প্রচণ্ড চাপের মুখেও ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দিয়েছিলেন। রায়ের পর সরকার পক্ষের লোকেরা পার্লামেন্টে এবং বিভিন্ন সভা সমাবেশে তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সেই চাপের মুখে নত হননি। এ কারণে আপিল বিভাগের অন্য চার বিচারপতির মাধ্যমে তার (এস কে সিনহা) সঙ্গে একই এজলাসে না বসার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। ওই চার বিচারপতির মধ্যে পরে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এমএ ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি করার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে তিনি (এম এ ওয়াহহাব মিঞা) বিচারপতি সিনহাকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের বলেছেন আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আছে, তাই আমরা আর আপনার সঙ্গে বিচারকার্যে বসতে চাই না। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার এই বক্তব্যও ছিল সংবিধান পরিপন্থী। তবে এতকিছু সত্ত্বেও বিচারপতি সিনহা অটল ছিলেন। কিন্তু সরকার চাপ প্রয়োগ করে সিনহাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করে এবং পরবর্তীতে তাকে পদত্যাগ করতেও বাধ্য করা হয়।’

    জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের পর খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে ওই রায়টিও (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছে।’

    উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতির লিখিত বই ‘A Broken Dream- Rule of Law, Human Rights and Democracy’, যা ইতোমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং যেখানে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, সরকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তাকে অসুস্থ বানিয়ে জোরপূর্বক দেশ ত্যাগে ও পদত্যাগে বাধ্য করেছে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম