• শিরোনাম


    একজন প্রবাসীর দৃষ্টিতে একুশে ফেব্রুয়ারি : মো. হুসাইন আলম

    | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ২:৫৬ অপরাহ্ণ

    একজন প্রবাসীর দৃষ্টিতে একুশে ফেব্রুয়ারি : মো. হুসাইন আলম

    ইউরোপের আকাশে আজ সূর্য উঠেছে। চারদিকে মানুষের আনাগোনা। মনে হচ্ছে কোথায় যেন মেলা বসেছে! আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পাই বাহারি রঙের খেলা। বাইরের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে ইউরোপিয়ানরা আজ আনন্দের বিজয় মিছিল নিয়ে নেমেছে, সমস্ত জায়গায় চলছে সূর্যের আলো বরণ। আর আমি ইউনিভার্সিটির অফিসে নতুন ছাত্রছাত্রীদের সিলেবাস নিয়ে ব্যস্ত। এমন এক দেশে আমার বসবাস যে মনের আনন্দটুকু নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। গলা ছেড়ে দিয়ে গাইতে পারি না ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ মনের মাঝে সারাটাক্ষণ এই কষ্ট চেপে ধরে রাখতে না পেরে রুমে কিংবা অফিসে গেয়ে উঠি সেই গান।

    বলে রাখা ভালো, আমার ক্লাসে কোনো বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী নেই। সমস্ত ছাত্রছাত্রী ইউরোপিয়ান ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের। তাদের সঙ্গে মনের ভাব প্রকাশ করার মাধ্যম হলো ইংরেজি। বাংলা না বলার যে কতো কষ্ট তা আমি বুঝতে পারি। কত দেশের ভাষা জানলেও আমার দেশের বাংলা ভাষার মতো মধুর ভাষা আর নেই। আজ এখানে সবাই উল্লাস করছে রৌদ্রের আনন্দ মেলায়, সবারই চোখে-মুখে ভালোবাসার উত্সব বিরাজ করছে। আর আমার মন পড়ে আছে একুশের বইমেলায়। বিকাল হলে পায়ে স্যান্ডেল ও পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে চলে যেতাম বইমেলায়! শত দেশের মানুষের সাথে থেকেও আমার মন শুধু বাংলাদেশকেই খোঁজে বারবার। আমার কালো চুল, চকলেট কালারের গায়ের চামড়া ও মুখের গড়ন দেখে সবাই বলে:‘তুমি কি ইন্ডিয়ান (Indian)?’ আমি গর্বের সঙ্গে বলি:‘আমি বাংলাদেশি’। তখন তারা বলে: ও জানি তুমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশের মানুষ। তুমি এমন দেশের মানুষ যারা নিজেদের মাতৃভাষা বাংলার জন্য জীবন দিয়েছে। ওদের এমন কথা শুনলে গর্বে আমার বুক ভরে ওঠে।



    আমি যখন গ্রামের স্কুলে পড়তাম আমার স্কুলে কোনো শহীদ মিনার ছিল না। স্কুলের পাশের বাড়ি থেকে কলাগাছ কেটে এনে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতাম। আজ আমার মনে হচ্ছে আমি আমার সেই ছোটবেলার গ্রামের স্কুলের চেয়েও কম মানের কোনো এক স্কুলে পড়ছি ও পড়াচ্ছি। যদিও আমার ইউনিভার্সিটি থেকে নয়জন নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন এবং সাড়ে চারশ’ বছরের পুরোনো ইউনিভার্সিটিতে আমি পিএইচডি করছি, তবুও আমার ছোটবেলার স্কুলের মতো না! আমার ইউনিভার্সিটির পাশের বাড়িতে যেতেই দেখি আপেল বাগান! সারা শহর ঘুরে আমি তিনটা কলাগাছ যোগাড় করতে পারিনি, আমার ইউনিভার্সিটিতে শহীদ মিনারও বানাতে পারিনি! তবে আমার মনের শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কোনো কমতি নেই।

    আজ আমি ইংলিশ, স্প্যানিশ, জার্মানি এবং পোলিশ ভাষা ছেড়ে বাংলায় কথা বলছি আমার ছাত্রছাত্রীদের সাথে। আমি বাংলাদেশি ও বাংলাকেই ভালোবাসি আর আমার ছাত্রছাত্রীরা তোমাকে গ্রহণ করেছে খুব যত্ন করে ও ভালোবেসে। আমি বাংলা মায়ের বাংলা ছেলে। বাংলায় কথা বলি, বাংলা আমার হূদয় জুড়ে এবং আমি বাংলায় ঘুরে ফিরি।

    n লেখক : পিএইচডি ক্যান্ডিডেট অ্যান্ড টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, এনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল সাইন্স, ইউনিভার্সিটি অব ওরক্ল পলেন্ড

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম