• শিরোনাম


    উন্নয়নের নতুন দিগন্ত-মংলা বন্দরের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

    | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪:১৬ অপরাহ্ণ

    উন্নয়নের নতুন দিগন্ত-মংলা বন্দরের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

    ভাটার সময় পশুর নদী থেকে একসময়কার ব্যস্ততম চালনা বন্দরকে দেখতে একটি ছোট্ট গ্রাম্য বাজারের মত মনে হয়। নেই বড় বড় পন্যবোঝাই করা নৌকা,নেই মানুষের কোলাহল।নাব্যতা হারিয়ে চালনা আজ যৌবনহীনা ইতিহাস। এখন পশুর নদীর ঘোলাজলের জোয়ার ভাটার সাথে শুধু তার অতীত দিনের স্মৃতিচারণ ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নেই। জয়মনিগোল থেকে চালনা,চালনা থেকে শ্যালাবুনিয়া নামক গ্রাম, শ্যালাবুনিয়া থেকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত মংলা বন্দর। মোংলা বন্দর চালনা নামে ১৯৫০ সালে এবং মে ১৯৭৬ সালে, চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে এবং পুনঃরায় ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে এটি নাম পরিবর্তন করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

    ১৯৫০ সালে ১১ ডিসেম্বর বৃটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ “ The City of Lyons” সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদীর জয়মনিগোল নামক স্থানে নোঙ্গর করে । এটাই ছিল মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার শুভ সুচনা এর পর ১৯৫১ সালের ৭ই মার্চ জয়মনির গোল থেকে ১৪ মাইল উজানে চালনা নামক স্থানে এ বন্দর স্থানান্তরিত হয়ে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত এ বন্দরের কার্যক্রম চলে । পরে স্যার ক্লাইভ এংনিস পশুর ও শিবসা নদী জরিপের জন্য আসেন দীর্ঘ বিস্তৃত জরিপের পর তিনি তার রিপোর্টে বন্দরকে চালনা থেকে সরিয়ে মোংলায় প্রস্তাব করে । চালনা থেকে ৯/১০ মাইল ভাটিতে মোংলা নদী এবং পশুর নদীর মিলন স্থলের ছিলো ‘‘মোংলা’’ । এখানে নদীর নাব্যতাও ছিল বেশি । সুবিস্তৃত স্থলভাগও বন্দর নির্মানের জন্য ছিল উপযোগী। উপরোক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৫৪ সালের ২০শে জুন এ বন্দরকে সরিয়ে মোংলা নামক স্থানে নিয়ে আসা হয় । বন্দর যখন চালনা বন্দর ছিল তখন এটা ছিল একটা অচেনা গ্রাম নাম ছিল শ্যালাবুনিয়া তবে বন্দর স্থানান্তরের পরেই ঘটে তার পরিবর্তন । একটা অচেনা ক্ষুদ্র গ্রাম পায় আন্তর্জাতিক পরিচিতি । মোংলা নদীর তীরে স্থাপন হওয়ায় এ বন্দরের নাম হয় মোংলা । জনশূন্য এলাকায় মুখরিত হয়ে ওঠে জন কলরবে । একটি সরকারি অধিদপ্তর হিসাবে যাত্রা শুরু করে এবং মে ১৯৭৬ সালে, চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামক একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং পুনঃরায় ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে এটি নাম পরিবর্তনপূর্বক “মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ” হিসেবে যাত্রা শুরু করে।



    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অসামান্য সমাহার সুন্দরবনের কুল ঘেষে সমুদ্র থেকে ১৩১ কিঃমিঃ উজানে এবং বিভাগীয় শহর হতে ৪৪ কিঃমিঃ দক্ষিণে বাগেরহাট জেলাস্থ পশুর নদীর পূর্ব তীরে মংলা নালা ও পশুর নদীর মিলনস্থলে অক্ষাংশ ২২.২৯.৩২’ উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৮৯.৩৫.৫৭’ পূর্বে মোংলা বন্দর অবস্থিত । বন্দরের প্রধান কার্যালয় মোংলায় এবং বিভাগীয় শহর ঢাকা ও খুলনায় অফিস রয়েছে । মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাাতিক সমুদ্র বন্দর । পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট ‘‘সুন্দরবন’’, ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বনদ্বারা মোংলা বন্দর সুরক্ষিত।পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান বন্দরের সঙ্গেই মংলা বন্দরের বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রধানত এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার জাহাজগুলিই এই বন্দরে নোঙর করে থাকে। আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার জাহাজও এখানে আসে। বন্দরটি দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ইদানীং মংলা বন্দরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ভারত ও নেপালের সাথে সরকারের চুক্তির ফলে এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারত, নেপাল, ভূটানকে মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এ বিষয়কে সামনে রেখে বন্দরের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মিতব্য পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে এবং এ বন্দরের কার্যক্রম আরও বেড়ে যাবে।

    💻এস এম শাহনূর
    (উইকিপিডিয়ান,কবি ও গবেষক)

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম