• শিরোনাম


    উইঘুর মুসলমানদের জাতিগত পরিচিতিকে মুছে ফেলার অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে: লতিফ নেজামী

    | ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    উইঘুর মুসলমানদের জাতিগত পরিচিতিকে  মুছে ফেলার অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে: লতিফ নেজামী

    ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী চীনের পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশের ১০লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী শিবিরে আটক এবং উইঘুর শিশুদের ধরে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত এতিমখানায় পাঠানোর খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, উইঘুর মুসলমানদের জাতিগত পরিচিতিকে মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ‘ইসলামের চীনাকরণ’ সম্পন্ন করতে গিয়ে বিশ্বে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অন্যতম বধ্যভূমী জিনজিয়াংয়ে মসজিদ থেকে রেস্টুরেন্ট—সর্বত্র নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে ।‘হানদের সঙ্গে উইঘুরদের তথাকথিত পুনর্মিলনের লক্ষ্যে চীন উইঘুরদের বাড়ি বাড়ি প্রশাসনিক পরিদর্শন ব্যবস্থা কায়েম করেছে ।
    তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, চীনের সবচেয়ে বড় বিভাগ জিনজিয়াংয়ে মূল বাসিন্দা মুসলমান উইঘুররা—ভাষায় তুর্কি। জিনজিয়াংয়ে ২ কোটি ২০ লাখের মতো জনসংখ্যা। তার মধ্যে উইঘুররা ৫৮%। এদের ১০ লাখই আছে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসেবে ডিটেনশন সেন্টারে। অনেককে পাঠানো হচ্ছে ‘পুনঃ শিক্ষাকেন্দ্রে’—রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সংশোধন করতে। পীড়নের মুখে প্রচুরসংখক উইঘুর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এখন প্রবাসী। স্বদেশে ফিরলে এঁদের অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক হচ্ছেন। তাছাড়াও চীনের হ্যাকাররা উইঘুরদের অনলাইন কার্যক্রম হ্যাক করছে।
    মাওলানা নেজামী আরো বলেন, ‘সিল্ক রুট’-এর একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রবেশদ্বার ১৯৩৩ ও ১৯৪৪ সালে দুই দফায় স্বাধীন ছিল জিনজিয়াং। চীনের কয়লার ৪০ ভাগ, তরল জ্বালানির ২২ ভাগ এবং গ্যাসের ২৮ ভাগ রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ জিনজিয়াংয়ের মাটির নিচে। ১৯৪৯ সাল থেকে চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জিনজিয়াং । তখন থেকে জিনজিয়াংয়ে হানদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে । ১৯৪৯ সালের আগে জিনজিয়াংয়ে চীনের ‘হান’রা ছিল ৬ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ।
    মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন আজ চীন সরকারের নির্মম উৎপীড়নের শিকার উইঘুর মুসলিমদের আর্ত চিৎকার ভেসে আসছে জিনজিয়াং থেকে । আঘাত হানছে আকাশের দ্বারে উৎপীড়িত উইঘুর মুসলিমদের আহাজারী এবং আজ যে জিনজিয়াংয়ের সর্বত্র ক্রন্দনরোল ধ্ব¦নীত হচ্ছে, তা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ।
    তিনি পরিশেষে বলেন, জিনজিয়াংয়ে বিরাজমান ভয়ংকর পরিস্থিতিতে বিশ্ব বিবেক তথা মুসলিম বিশ্বের শুধু প্রতিবাদ করে আত্মতৃপ্তি পাবার সুযোগ নেই। মুসলমানরা যুগে যুগে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং মানবতা রক্ষার জন্যে আত্মত্যাগের যে নজির স্থাপন করে গেছেন, সেই ত্যাগের আদর্শ গ্রহণের মধ্যেই আজকের চেতনা নিহিত। আজ প্রয়োজন উইঘুরদের ক্ষেত্রে ত্যাগ-তিতিক্ষার সেই চেতনাকে উজ্জীবিত করা। তিনি বলেন, অতীতে ইসলামের বিজয় পতাকাকে সমুন্নত রাখার জন্যে মুসলমানদের আত্মত্যাগ এক জীবন্ত ইতিহাস । ত্যাগ-তিতিক্ষা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় প্রমাণিত, শাশ্বত ও জীবন্ত। এতে রয়েছে আত্মত্যাগের অণুপ্রেরণা ও দৃঢ় প্রত্যয়, যা যুগে যুগে প্রেরণা যুগিয়ে আসছে। তাই মহান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে উেইঘুর মুসলিমদের নৃশংসভাবে হত্যার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন গদ্যন্তর নেই। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, উৎপীড়িত উইঘুরদের কান্নাররোল থামাতে এযুগের কূম্ভকর্ণ্‌দের নিদ্রা ভঙ্গ হবে কবে?

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম