• শিরোনাম


    ঈদে সপরিবারে ঘুরে আসুন “আনন্দ ভুবন” খ্যাত বল্লভপুর ব্রীজে: এস এম শাহনূর

    | ০৯ আগস্ট ২০১৯ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

    ঈদে সপরিবারে ঘুরে আসুন “আনন্দ ভুবন” খ্যাত বল্লভপুর ব্রীজে: এস এম শাহনূর

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিনি পর্যটন
    কেড়েছে সবার মন
    বল্লভপুর -শিমরাইলের মহামিলন
    নাম তার আনন্দ ভুবন।

    আনন্দ ভূবনের অবস্থানঃ
    বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকায় নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ স্থানটির নাম আনন্দ ভুবন।কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়ন এর পশ্চিম উওরে বল্লভপুর ও শিমরাইল নামক গ্রামের মধ্যবর্তী রাজার খালের উপর নির্মিত এক দীর্ঘ সেতুকে কেন্দ্র করেই এলাকার সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের ঢল। বর্ষাকালে দক্ষিণে কসবার কুটি বাজারের পশ্চিম পাশের হাওড়ের উদাস করা বাতাসের সুরভী আর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে বল্লভপুর -শিমরাইলের সংযোগ স্থাপনকারী এই ব্রীজে/আনন্দ ভুবনে।আর কোন বাধা না থাকায় এই প্রাণজুড়ানো বাতাস ছোট ছোট ঢেউয়ের তালে তালে নবীনগরের পাশে মেঘনাতে গিয়ে মিশে যায়। বর্ষাকালে বিশেষতঃ ঈদের উৎসব মুখর সময়টুুুকুতে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার দর্শনভিলাষী মানুষ এখানে এসে প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য ও আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।



    নবীনগর,কসবা,আখাউড়া,মুরাদনগর,আশুগঞ্জ থেকেও এখানে শিক্ষা সফর ও পিকনিক পার্টি এসেছে।আনন্দ উপভোগ করছে প্রতিনিয়ত।
    বর্ষাকালে এখানে পর্যটকদের জন্য মাঝির পালের নৌকা/বৈঠার নৌকা ছাড়াও স্বল্প মূল্যে হাই স্পীড বোটে বেড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।শিশুদের খেলনা সামগ্রী, হালকা খাবারের ভাসমান দোকান,প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার ব্যবস্থা, সাঁতারের জন্য শর্টস,সুইমিং কাষ্ট,সাঁতার কাটার জন্য লাইফ বয় এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এখানে আপনি তার সবই পাবেন।

    বল্লভপুর-শিমরাইল মিনি পর্যটন নিয়ে লিখা ভাইরাল হওয়া কবিতা’আনন্দ ভুবন’।

    “ও ভাই!ব্যস্ততম জীবনে যদি এতটুকু সুখ চাও,
    কসবা থানার পশ্চিম-উত্তরে আনন্দ ব্রীজে যাও।
    ব্রীজতো নয় লোকের মেলা বর্ষাকাল জুড়ে
    বড় ভাঙ্গার সেই বাশের সাঁকো মনে কিরে পড়ে?
    এই খানেই জন্ম আমার মানুষ বড়ই ভালো,
    নেইকো মনে হিংসা-বিভেদ,নেই সাদাকালো।
    বড় ভাঙ্গার ব্রীজ দেখতে ‘রাজার খালের’ উপর
    হাজার মানুষ আসছে ছুটে ছেড়ে আপন ঘর।

    কৃষক-শহুরে আসে,আসে ছেলে মেয়ের দল;
    দুচোঁখ ভরে দেখছে সবাই ঝিঁকিমিঁকি জল।
    এ যৌবনা বর্ষায় রাস্তার দুধারে পানি করে থৈথৈ
    এমন সুন্দর বিকেল ফেলে কেমনে ঘরে রই?

    ব্রীজের পশ্চিমেতে শিমরাইল,পূর্বতীরে বল্লভপুর,
    সকাল বিকাল দু’বেলাই লোকে ভরপুর।
    প্রাণ জুড়ানো এই পরিবেশ হেসেই কাটে বেলা;
    মন মাতানো রাজার ব্রীজে বসেছে রূপের মেলা।

    প্রতিদিনই আসছে হেথা দশ গ্রামের লোকজন,
    তাইতো কবি তার নাম দিয়েছি আনন্দ ভুবন।”

    ★জানার আছে অনেক কিছুঃ
    মন ছুয়ে যাবে মন
    প্রকৃতির কাছাকাছি
    লেগেছে ঈদের খুশী,
    কেড়েছে সবার মন
    বল্লভপুরের আনন্দ ভুবন।
    সময়ের কাছ থেকে এতটুকু সময়
    ধার নিয়ে করুন আয়োজন,
    এই বর্ষায় পরিবারের সব্বাইকে নিয়ে
    ঘুরে আসুন আনন্দ ভুবন।

    যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই,
    পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন”।
    [কবি গগন হরকরা (গগন চন্দ্র দাস) /জগজ্যেতি।]
    উপরোক্ত পংক্তির আক্ষরিক অর্থ যাহাই হউক না কেন ভাবার্থ কিন্তু শতভাগ সত্য। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার,কসবা উপজেলাধীন ছায়া সুনিবিড় এক নিভৃত ও সূর্যদীঘল গ্রামের নাম বল্লভপুর।বল্লভপুর নামের আদি তথ্য খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অত্র গ্রামের এক আলোক উজ্জ্বল ইতিহাস।যে ইতিহাস গৌরবের,গর্বের ও অহংকারের।মধ্যযুগ থেকে অত্র গ্রামের বহু নাথযোগী ও সূফী সাধক একেশ্বরবাদের বাণী বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। এখানে জন্মগ্রহন করেছেন বহু ভাষাবিদ ও ত্রিপুরা রাজ দরবারের কাজী আলহাজ্ব মাকছাদ অালী মৌলানা ও উনার সুযোগ্য উত্তরসূরি মোবাল্লিক ও ইসলাম ধর্ম প্রচারক শায়খুল বাঙাল ছৈয়দ আবু মাছাকিন লাহিন্দী আল কাদেরী (রাহ [জন্ম১৮৭৩,ওফাত১৯৭৮ ]

    একসময় সাধারন জ্ঞানের বই বলতে গুরুগৃহ প্রকাশনীর “বিশ্বের ডায়েরী” নামক বইটি ছাড়া বাজারে আর কিছুই ছিলনা।সেই বইটিতে বাংলাদেশের সূফী সাধকদের নামের তালিকায় “শায়খুল বাঙাল” নামক একজন বুজুর্গ ব্যক্তির নাম ছিল।তিনিই বল্লভপুর গ্রামের জ্ঞান প্রদীপ -ডাক নাম দুদু মিয়া পীর।উনার মরহুম পিতা আলহাজ্ব মাকসাদ আলী মৌলানা সাহেবও আরবী,ফার্সি, উর্দু,হিন্দি ও সংস্কৃতে সুপন্ডিত ছিলেন।জানা যায়,ত্রিপুরা রাজদরবারে তিনি কিছুকাল কাজীর(বিচারক) দায়িত্বও পালন কররেন।বল্লভপুর করবস্থানে তাঁর সমাধী সৌধ রয়েছে।এছাড়া এ জনপদে কুরঅান সুন্নাহের তাবেদার ও মদীনার আশিক,ছতুরা দরবার শরীফের পীর প্রফেসর আব্দুল খালেক (রঃ)র মাস্তান খেতাবে ভূষিত শিষ্য মাস্তান হাজী অাব্দুল জব্বার(তিনি ছিলেন আপাদমস্তক ঘুমজাগানিয়া একজন ধর্ম প্রচারক)।
    ৭১ রে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে জীবন দানকারী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স কর্পোরাল মোঃ মোস্তফা কামাল, গোয়ালী চৌধুরী বাড়ি থেকে পাক সেনাদের ছুড়া মর্টারের গুলিতে নিহত শহীদ মোঃ মোহন সরকার সহ বহু জ্ঞানী গুণী মানুষের জীবন গাঁথা বল্লভপুর নামক এই প্রাচীন জনপদেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    কিভাবে যাবেন আনন্দ ভুবনে?
    —————————————
    প্রকৃতি প্রেমিক আর ভ্রমন পিপাপু মানুষজন বছরের যেকোনো ঋতুতেই আনন্দ ভুবনে যেতে পারেন। মূলতঃ বর্ষাকালীন সময়টুকুতে আনন্দ ভুবনের আনন্দ উপচে পড়ে।

    ★সড়ক পথঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাউতলী বাসস্ট্যান্ট থেকে প্রতিদিন ১০ মিনিট পরপর কাইতলা-বিটঘরের উদ্দেশ্যে সিএনজি যাওয়া আসা করে।পথিমধ্যে জনপ্রতি মাত্র ৮০ টাকা ভাড়া নিয়ে নেমে পড়ুন সূর্যদীঘল গ্রাম বল্লভপুর।আর শায়খুল বাঙালের জন্মভূমি রত্নগর্ভা গ্রাম বল্লভপুরের পশ্চিমেই আনন্দ ভুবন।

    ★কসবা থেকে সরাসরি সিএনজিতে চারগাছ হয়ে আসতে পারেন বল্লভপুর-আনন্দ ভুবন।

    ★কুমিল্লা থেকে আসা দর্শনার্থীগণ চৌমুহনী বাসস্টপেজ থেকে সরাসরি সিএনজি নিয়ে অথবা কুটি বাজার থেকে অটোরিকশা করে শিমরাই গ্রামের ভিতরের দৃশ্য দেখতে দেখতে ৩০ মিনিটে পৌঁছে যাবেন আনন্দ ভুবনে।জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ৫০ টাকা।

    ★কুটি বাজার থেকে মেহারী হয়েও সহজে পৌঁছতে পারেন আনন্দ ভুবনে।জনপ্রতি ভাড়া মাত্র ৪০ টাকা।

    ★নদীপথেঃ বর্ষাকালে বাঙ্গরা বাজার,সিদ্ধিগঞ্জ কিংবা কালিগঞ্জ বাজার থেকে প্রতিনিয়ত নৌকা আসা যাওয়া করে। নবীনগর থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় আসতে পারেন আনন্দ ভুবনে।

    আপনাদের ভ্রমন নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক।আমিন।

    এস এম শাহনূর
    (উইকিপিডিয়ান,কবি ও গবেষক)

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম