• শিরোনাম


    ইস্রাইলের আত্নরক্ষার অধিকার ? —- মানঞ্জুর টিপু

    অনলাইন সংস্করণ | ২০ মে ২০২১ | ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

    ইস্রাইলের আত্নরক্ষার অধিকার ? —- মানঞ্জুর টিপু

    কাটুক কথিত আরব নেতাদের ইসরায়েল প্রতি

    মেরিকাসহ আমাদের দেশের একদল আন্ধা পাবলিক ভাবে যে, ইস্রাইল আর ফিলিস্তিনীদের মধ্যে “যুদ্ধ” আর “সংঘাত” চলছে আর এতে ইস্রাইলের আত্নরক্ষার “অধিকার” আছে।

    যে পাশ্চাত্য “ইস্রাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে” বলে চিল্লায় সে পাশ্চাত্যই আবার বলে হিটলারের কোন অধিকার ছিল না ফ্রান্স, পোল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়ার অংশ দখলের। ফ্রান্স দখলের পর ফ্রান্স মুক্ত করার জন্য যারা দুর্ধর্ষ হামলা চালিয়েছিল তাদের সবাইকে ফ্রান্স সহ পুরো বিশ্ব বীরের মর্যাদা দিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবনত সম্মান জানায়। একবার ও বলেনা হিটলারের সৈন্যদের আত্মরক্ষার অধিকার ছিল। রাশিয়াতে, পোল্যান্ডে দখলদার জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ কাহিনী লেখার সময় একবারও জার্মানদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা হয় না।



    জাপানের দখলদার বাহিনী যখন চীন, কোরীয়া দখল করে নির্মম নির্যাতন চালাতো তখন কি জাপানি সেনাদের আত্মরক্ষার অধিকার সভ্যজগতের কেঊ স্বীকার করে?

    ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় তীতুমির ও টিপু সুলতানের মত বীরদের দমনের সময় বৃটীশরা কিন্তু দাবি করেছিল যে ভারতে বৃটীশদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। সভ্য জগত কি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী শক্তির গুলি বর্ষণকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে স্বীকার করে।

    ধরুন আপনার বাড়ীতে একদল সন্ত্রাসী ডাকাত হামলা করেছে। এই ডাকাতদের হাতে যদি মিডিয়া থাকে তারা কি বলবে না যে, আপনার কিল ঘুষি থেকে বাচার জন্য আত্মরক্ষার জন্য ডাকাত দল ট্যাঙ্ক আর মেশিনগান ব্যবহার করতেই পারে? মিডিয়া কি ডাকাত দলকে ডাকাত বলবে নাকি বলবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে, যাতে উন্নততর (শক্তিশালী) পক্ষ আত্মরক্ষার্থে কিছুটা বড় অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। তবে দোষটা মূলত গৃহস্থের কারণ তার উচিত হয়নি কিল ঘুষি পাকিয়ে তেড়ে আসা। কিল ঘুষি নিয়ে তেড়ে আসার কারণে এক পক্ষ ভয় পেয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করার সময় কিছু শিশু নিহত হয়েছে। তবে এ শিশুগুলোকে গৃহস্থ মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুগুলোকে উগ্র মৌলবাদী গৃহস্থ মেশিনগানের সামনে এনে ফেলেছে যাতে আত্মরক্ষাকারী পক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা যায়!

    সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ইউরোপ থেকে একদল উড়ে এসে জুড়ে বসা বসতি স্থাপনকারী এনে বসিয়ে দিয়েছে। এদের অনেকেরই ইউরোপ আমেরিকাতেও বাড়ী আছে। ঐ বাড়ি না ছেড়ে ফিলিস্তিনীদের বিতাড়িত করেছে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের গাল গল্পের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে।

    সকল সভ্য আইন অনুসারে ফিলিস্তিনীদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে তাদের ঘর বাড়ি, নাগরিক অধিকার ও রাস্ট্রীয় অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য সর্বাত্মক সামরিক ও বেসামরিক পন্থায় সংগ্রাম চালানোর। এ অধিকার জাতিসংঘ সনদে স্পস্ট লেখা আছে।

    দখলদার ইস্রাইলী সন্ত্রাসীদের কোন অধিকার নেই গণহত্যা চালানোর, কিন্তু ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু ফিলিস্তিনিদের সংগ্রাম নয়, শুধু মুসলমানদের জিহাদ নয়, এটা পুরো মানব জাতির জন্য অবশ্য অংশগ্রহনীয় সংগ্রাম।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম