• শিরোনাম


    ইসলাম নির্মূলের প্লান করতে গিয়ে নিজেরাই নির্মূল হয়েছে [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    লেখক : মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া _মজলিশপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৪ নভেম্বর ২০২০ | ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

    ইসলাম  নির্মূলের প্লান করতে গিয়ে নিজেরাই নির্মূল হয়েছে  []  মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদুর রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের অনুপম শিক্ষা ( ইলমী আমলী ও আখলাকী ) বিশ্ববাসীর জন্য রেখে গেছেন। তাই আল কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে: ‘তোমাদের রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। ‘
    দ্বীনের জন্য উৎসর্গিতপ্রাণ খোলাফায়ে রাশেদা ও সাহাবায়ে কেরাম দ্বীন ও নবীর আদর্শের প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণকে জীবনের একমাত্র ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীকালে তাদের উত্তরসূরি তাবেঈগণও এ কাজে উৎসর্গ করেছেন তাদের জীবন। আসলাফ ও আকাবিরগণের মতো আমাদেরকেও দ্বীন ও নবীআদর্শ সংরক্ষণে সঁপে দিতে হবে জীবনের সবটুকু।

    লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে- বর্তমানে জীবন চলার পথ এখন ফিতনায়ে আকবরিয়া তথা রবী ঠাকুরিয়ার আঁধারে অচ্ছন্ন। চতুর্দিকে বিভিন্ন ফিতনার সয়লাব। কাজেই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই রয়েছে কল্যাণ।



    বর্তমান যুগে হক-বাতিলের লড়াই চলছে শক্তি ও কৌশলের মাধ্যমে। বাতিলপন্থীরা স্বীয় মত ও পথকে কুরআন-হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

    বর্তমান ইসলামবিরোধী নাস্তিক, মুরতাদ, বেঈমানগণ ছলেবলে কৌশলে ইসলাম নির্মূলের অভিযান চালাচ্ছে। ইসলামবিরুধীদের মনে রাখতে হবে ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত করে ইসলাম নির্মূল সম্ভব হবে না। বরং যারাই ইসলাম নির্মূলের প্লান করছে তারাই জড়মূলসহ নির্মূল হয়ে যাবে এ বিশ্বাস মুসলমানদের আছে। কারণ যেখানেই ফেরাউন সেখানেই মূসার আবির্ভাব, যেখানে আকবর সেখানেই মুজাদ্দিদে আলফেসানীর আবির্ভাব।

    আল্লাহ তাআলা তাঁর কুরআন, ইসলাম, মসজিদ-মাদরাসা, আলেম-উলামা সর্বোপরি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রক্ষা করবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর জন্য আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের পরীক্ষা নেবেন। পরীক্ষায় কমবেশ সবাইকে মুখোমুখি হতেই হবে। আর সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই সফলতা আসবেই।

    আল্লাহ তাআলা বর্তমানে মুসলমানদের পরীক্ষা নিতে শুরু করেছেন। এ পরীক্ষায় আমাদেরকে বিশেষত: আলেমসমাজকে উত্তীর্ণ হতেই হবে। হীনবল দুর্বল হলে চলবে না। বাতিলশক্তি যত হাকডাক ছেড়ে আসুক না কেন, তাদের পরাজয় অনিবার্য। সাময়িক সফলতায় তাদের উৎফুল্ল হওয়ার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ তাআলা ফেরাউনকে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে-চুবিয়ে নাস্তানাবুদ করেছেন, নমরূদকে সামান্য মশার কামড়ে ধ্বংস করেছেন, শাদ্দাদকে তার তৈরি করা বেহেশতে প্রবেশের আগেই শায়েস্তা করেছেন। আবরাহা বাহিনীকে ছোট ছোট পাখির দ্বারা শেষ করেছেন।
    তাই যারা এখনো আল্লাহর বিরুদ্ধে, নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে এমনকি যারা ইসলামধর্ম নিয়ে আল্লাহ ও নবী (সা.) নিয়ে কটুক্তি করে তাদের পরিণতি যে শুভ হওয়ার কথা নয়, এই বিশ্বাস মুসলমানদের রাখতে হবে।

    দ্বীন ও ধর্মকে জীবন ও কর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করার এবং সমাজ ও সংস্কৃতিকে ধর্মের নিয়ন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত করার যে ইবলিশী আওয়াজ ইউরোপ থেকে আসছে, আমাদের পূর্ণ আস্হা ও স্হিতির সাথে তার মোকাবেলা করতে হবে। তাই এ পর্যায়ে আমাদের করণীয় কী তা আমাদেরই নির্ণয় করতে হবে। উৎসর্গ হোক আমাদের জীবন দ্বীনের তরে। সব বাতিল আছড়ে পড়ুক আমাদের বজ্র হুংকারে। মদীনার পথে চলুক আমাদের জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত। অবশেষে বদরী কাফেলায় শরীক হয়ে সাক্ষাৎ করব রাসূল ( সা.)-এর সাথে হাউজে কাওসারে।
    এই প্রত্যাশায় দুআ চেয়ে বিদায় নিলাম।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম