• শিরোনাম


    ইসলামের প্রথম মসজিদ ‘মসজিদে কুবা’ : মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম

    | ০৮ এপ্রিল ২০১৯ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

    ইসলামের প্রথম মসজিদ ‘মসজিদে কুবা’ : মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম

    বর্তমান কুবা মসজিদ
    ইসলামী ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতম সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি অনন্য স্থাপনা। মসজিদটিতে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণসহ কয়েকটি প্রবেশদ্বার আছে। মসজিদের উত্তর দিক মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে মসজিদে চারটি মিনার এবং ৫৬টি গম্বুজ রয়েছে

    মসজিদে কুবা, ইসলামের প্রথম মসজিদ। সাহাবায়ে কেরামের প্রাণের মসজিদ। যে মসজিদ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রথম দিন থেকেই এ মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত।’ (সূরায়ে তাওবা : আয়াত ১০৮)। মসজিদে নববি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। মসজিদে কুবা মদিনা শহরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। কুবা নামক স্থানের নামানুসারে এ মসজিদটিকে কুবা মসজিদ বলা হয়। প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) হিজরতকালে মদিনা যাত্রাপথে নিজেই এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
    ইসলাম ধর্ম প্রচারের শুরুর দিকের কথা। তখন বিধর্মীদের অত্যাচার আর নিপীড়নের কারণে মক্কায় অবস্থানরত মুসলমানরা ধীরে ধীরে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করতে থাকেন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে এসে মদিনার নিকটবর্তী কুবা নামক স্থানে উপনীত হন। তখনই হজরত মোহাম্মদ (সা.) কুবাতে এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। পবিত্র মসজিদে নববির পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষিণ মদিনার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ হচ্ছে এ কুবা মসজিদ। হিজরি প্রথম বর্ষে এ মসজিদটি নির্মিত হয়। হাদিসে পাকে কুবা মসজিদের মর্যাদা এবং এর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এখানে অজু করে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়বে সে এক উমরাহ হজের সমান সওয়াব লাভ করবে।’
    জানা যায়, মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) প্রতি শনিবার এখানে নামাজ পড়তে আসতেন। তিনি উটে চড়ে কিংবা হেঁটে আসতেন এবং ২ রাকাত নামাজ পড়তেন। ইতিহাসে আরও জানা যায়, ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) প্রথম এ মসজিদটির সংস্কার করেন। আরেকজন আদর্শ খলিফা হজরত ওমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) মসজিদটির প্রথম মিনার তৈরি করেন। এভাবেই অনেকদিন কেটে যায়। পরবর্তী সময়ে ৪৩৫ হিজরিতে আবু ইয়ালি আল-হোসায়নি কুবা মসজিদ সংস্কার করেন। তিনি মসজিদের মেহরাব তৈরি করেন। ৫৫৫ হিজরিতে কামাল আল-দীন আল ইসফাহানি মসজিদে আরও বেশ কিছু সংযোজন করেন। এর পরবর্তী সময়ে ৬৭১, ৭৩৩, ৮৪০ ও ৮৮১ হিজরিতে উসমানী সাম্রাজ্যকালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। তাছাড়াও পরবর্তী সময়ে আধুনিককালে সৌদি শাসনামলে হজ মন্ত্রণালয় মসজিদটির দায়িত্ব গ্রহণ করেÑ যা মূল ডিজাইনে অধিকতর সংস্কার এবং সংযোজন করে।
    বর্তমান কুবা মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতম সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি অনন্য স্থাপনা। মসজিদটিতে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণসহ কয়েকটি প্রবেশদ্বার আছে। মসজিদের উত্তর দিক মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে মসজিদে চারটি মিনার এবং ৫৬টি গম্বুজ রয়েছে। ১১২ বর্গমিটার এলাকাব্যাপী ইমাম এবং মোয়াজ্জিনের থাকার জায়গা, ১টি লাইব্রেরি, প্রহরীদের থাকার জায়গা ও সাড়ে ৪০০ বর্গমিটার স্থানে ১২টি দোকানে একটি বাণিজ্যিক এলাকা বিদ্যমান। মসজিদে ৭টি মূল প্রবেশ দ্বার এবং ১২টি সম্পূরক প্রবেশপথ রয়েছে। প্রতিটি ১০ লাখ ৮০ হাজার থার্মাল ইউনিট বিশিষ্ট ৩টি কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মসজিদকে ঠান্ডা রাখছে। ঐতিহাসিক কুবা মসজিদ শ্বেতবর্ণের একটি অনন্য স্থাপত্যকর্ম, যা বহু দূর থেকেও দৃষ্টিগোচর হয়। নান্দনিক এবং মনোরম মনকাড়া ডিজাইনের এ মসজিদটি এক পলক দেখতে বিশ্বের আনাচ-কানাচ থেকে পর্যটকরাও প্রচুর ভিড় জমান।



    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম