• শিরোনাম


    ইসলামপন্থীদের চরিত্রহনন বনাম মিডিয়া ও পুলিশের জিপার খুলার গল্প –আবু সালেহ ইয়াহিয়া।

    অনলাইন ডেস্কঃ | ০৭ এপ্রিল ২০২১ | ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

    ইসলামপন্থীদের চরিত্রহনন বনাম মিডিয়া ও পুলিশের জিপার খুলার গল্প  –আবু সালেহ ইয়াহিয়া।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, সাবেক শিবির নেতা- আবু সালেহ ইয়াহিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি চলামান ইসলামপন্থীদের উপর দমন-পীড়ন নিয়ে একটা পোস্ট দিয়ে ছিলেন আমরা নিম্ন তার ফেসবুক পোষ্টটি হুবুহু তুলে ধরলাম।

    যে কোন শক্তি, মোভমেন্ট কিংবা আন্দোলনের স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার মোরাল গ্রাউন্ডের উপর। সহজ কথায় বললে চারিত্রিক শক্তির উপর। বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের এই শক্তির উপরই আঘাত করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। সরাসরি আঘাতে যখন সফল হওয়া যায় না তখনই এই মোরাল শক্তির উপরই আঘাত হানা হয়।



    জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করার সময় “ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত” এর নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। কি আশ্চর্য ! যে মানুষগুলো তাদের সারাটি জীবন কাটিয়ে দিল ধর্মীয় অনুশাসন মেনে এবং ইসলামের শিক্ষার উপর অটল অবিচল থেকে, সে মানুষগুলোই নাকি 90% মুসলমানের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করেছে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ছিল? মোটেই না। তারপরেও কেন আওয়ামী লীগ প্রথমে অন্য অভিযোগ না এনে এই অভিযোগ এনেছিল? কারণ এতে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে সহজে সন্দেহ সৃষ্টি করা যায় । আর প্রচারের জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের হাতে কিছু ঢোল তুলে দেয়া যায়। যারা সত্য ও বিবেককে কাজে না লাগিয়ে দলীয় নেতাদের অন্ধ অনুকরণে ঢোল পেটাতে থাকে। এর আসল উদ্দেশ্য হলো এই ইস্যুতে যদি কোন প্রতিবাদ আন্দোলন তৈরি হয়, তখন যাতে জনগণের সমর্থন পাওয়া না যায়।

    আজকে হেফাজতের উপর একই কায়দায় আক্রমণ করা হচ্ছে বলে আমি বিশ্বাস করি। 5 মে শাপলায় যখন ধবংসযজ্ঞ চালিয়ে দমন করা গেলনা তখন ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করল তারা ।নানাবিধ লোভ লালসা আর হুমকি দিয়ে আনাস মাদানিসহ একটু গ্রুপ রেডি করালো। এদের দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের উপর লাগাম টেনে ধরার একটা ব্যবস্থা করলো। কিন্তু সেই লাগাম এখন ছিড়ে গেছে। টান দিলে আর কথা শুনেনা। বর্তমান নেতৃত্বকে বশে আনতে না পেরে আবারো সরাসরি আক্রমণ । ব্রাশফায়ার। 19/20 জনের শাহাদাত। এতেও মনে হয়না দমানো যাবে। তাই এখন চলছে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে আক্রমণ। মানে সেই মোরাল গ্রাউন্ড উইক করে দেয়ার আক্রমণ। যাতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    বলতে পারেন, তাহলে যা দেখছি, যা শুনছি এবং যা পড়ছি সবই কি মিথ্যা? ভাই, কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা তা এক সময় পরিস্কার হবেই। কিন্তু যারা এগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন, লাফালাফি করছেন, যে মিডিয়া এগুলো নিয়ে সত্য মিথ্যা যাচাই না করে শিরোনাম করছে তাদের চরিত্র কেমন জানেন? এটা বুঝার জন্য 2 টি উদাহরণ দেই।

    (এক) একবার এক দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের অফিসে বসে মিডিয়া পাড়ার মানুষগুলোর চরিত্র নিয়ে আলাপ চলছিল। একপর্যায়ে তিনি এদেশের প্রথম সারির এক টেলিভিশনের চেয়াম্যানের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ঐ চেয়ারম্যান কোন মেয়েকে নিয়োগ দেয়ার সময় তার অফিসে বসে তার পেন্টের জিপার (চেইন) খুলে তার ‘ইয়ে’ দেখিয়ে বলত এটা পছন্দ হয়েছে কিনা? এই ছিল তার ইন্টারভিউয়ের সিস্টেম। যে মেয়ে চাকুরিকে প্রাধান্য দিত সে তার ‘ইয়ে’ দেখে রাজি হয়ে যেত। তারপর বিছানায় গিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন হত। আর যে তার চরিত্রকে প্রাধান্য দিত সে আজীবনের জন্য মিডিয়া পাড়ায় ইন্টারভিউ দেয়া ছেড়ে দিত।

    এই মিডিয়া যখন পুলিশ ও র‍্যাবের বক্তব্য শুনে সত্য মিথ্যা যাচাই না করে আলেম উলামা ও ইসলাম পন্থীদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই প্রচার করে তখন জনগণের কি তা বিশ্বাস করা উচিত? তাহলে পেন্টের জিপার খুলে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীদের কি হবে বলেন?

    (দুই) 2012 সালের শেষের দিকে ঢাকায় স্টিং অপারেশন করে শিবিরের 47 নেতাকে আটক করা হয়। মানে একজনকে দিয়ে ডেকে এনে অন্যজনকে গ্রেফতার করে সে সময়। মিরপুরের দিকে একটা গাড়িতে কয়েকজনকে আটকে রেখে অপেক্ষা করছিল আরো কয়েকজনের। অপেক্ষমাণ গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা পুলিশ লোকটি টেলিফোনে কথা বলছিল একজন মেয়ের সাথে। এ সময় সে খুব রসালো ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছিল। তার এমন ভাষা শুনে একজন ভাই তার দিকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখার চেষ্টা করেন সে কি করছে আসলে। তিনি দেখেন, লোকটির পেন্টের জিপার খুলা। একহাতে কানে মোবাইল ধরা আর আরেক হাত পেন্টের জিপারের কাছে। এভাবে সে কি করছিল সেটা আর লেখার রুচি হচ্ছে না আমার। এ ঘটনার এক মাস পরেই আমাকে গুম এবং পরে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠনো হলে ঐ মজলুম ভাইদের সবার সাথেই আমার দেখা হয়। তাদের একজন ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য। তার মুখ থেকেই শুনা এই ঘটনা।

    এই মিডিয়া আর এই পুলিশ আজ ইসলামন্থীদের মোবাইলে নিজেদের কাছে যা প্রিয় তা পেয়েছে বলে রসিয়ে রসিয়ে প্রচার করছে। আর দলকানা লোকগুলো তাই প্রচার করে বেড়াচ্ছে। অবস্থা এমন যে এদের নিজেদের পরিবারের কেউ এই জালিমদের দ্বারা ভিক্টিম না হওয়া পর্যন্ত তারা থামতে চাইবে না।

    ওয়াল্লাহু মুস্তায়ান। ওহুয়া খাইরুল হাফিজীন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম