• শিরোনাম


    ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারটা কেমন? —আবু সালেহ ইয়াহিয়া

    অনলাইন সংস্করণ | ১৬ মে ২০২১ | ১০:১২ অপরাহ্ণ

    ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারটা কেমন? —আবু সালেহ ইয়াহিয়া

    ছবি: লেখক ও অতিসম্প্রতি ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র।

    ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারটা কেমন?

    ইসরাইলের বর্বর আক্রমন ও ধবংসযজ্ঞকে সমর্থন দিতে আমেরিকাসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতারা সবসময় একটি বাক্য আওড়িয়ে থাকেন। আর তা হলো “ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে”।



    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বের বড় নিউজ প্রতিষ্ঠানের কিছু ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়; ভিডিওটা প্লে করলে খুব সহজে দেখা যায়। একজন ইয়াহুদি একটি ফিলিস্তিনী পরিবারের বাড়ী দখল করে এটা সেটা নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ীর মালিক একজন মহিলা ইয়াহুদিকে জিজ্ঞেস করছেন, ইয়াকুব ! তুমি জানো এটা তোমার বাড়ী না। তবুও তুমি কেন আমার বাড়ী চুরি (দখল) করছ? ইয়াহুদি ইয়াকুব ডেমকেয়ার ভাব নিয়ে উত্তর দিচ্ছে, আমি যদি তোমার বাড়ি দখল না করি, তাহলে অন্য কেউ ঠিকই দখল করে নেবে !

    অর্থাৎ তোমার বাড়ী দখল হবেই। আমি না করলে আমার কোন জাত ভাই করবে। তো আমি সুযোগ থাকতে অন্য কাউকে চান্স দেব কেন?
    তুমি মুসলিম, তুমি ফিলিস্তিনি। তোমাকে বাস্তু হারা হতেই হবে। হয় আজ , না হয় কাল।
    তুমি ফিলিস্তিনি, তুমি প্রতিবাদী । তোমাকে মরতে হবেই। হয় আমার হাতে, না হয় আমারই কোন জাত ভাইর হাতে।

    এই হলো ইসরাইলি ইয়াহুদিদের ‘তথাকথিত আত্মরক্ষার অধিকার’। যারা গোটা ইউরোপে মার খেয়ে বাস্তুহারা হয়ে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। (ঠিক মিয়ানমারে মার খেয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার মত করে। )
    অথচ আজ সেই অকৃতজ্ঞ জাতি শক্তি সঞ্চয় করে মুসলিম নেতাদের গোলাম বানিয়ে একসময়ে তাদের বিপদে যারা আশ্রয় দিয়েছিল, তাদেরকে আশ্রয়হীন করছে প্রতিদিন প্রতিরাত।

    অন্য দিকে গতরাতে ফিলিস্তিনের গাজা ও খান ইউনুসে দখলদার ইসরাইলীরা যে হত্যা ও ধবংসজ্ঞ চালিয়েছে তা যে কোন বিচারে মারাত্মক পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।
    হামাস নেতাদের বাড়িতে হামলার অযুহাতে অসংখ্য বিল্ডিং মিশিয়ে দিয়েছে মাটির সাথে। হামলা করেছে একাধিক হাসপাতালে। এতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি কয়েকজন ডাক্তারও শহীদ হয়েছে। একের পর এক বিমান হামলায় ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে অন্ধকার এক ভূতুড়ে ধংসস্তুপে পরিণত হয়েছে বহু দিনের সাজানো নগরী গুলো।
    বোমা মেরে বিল্ডিং গুড়িয়ে দেয়ার পর শহরের প্রবেশ পথের সকল পাকা রাস্তায় বোমা মেরে কেটে দেয়া হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাস্তার মাঝে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে ধংসস্তুপের নিচ থেকে আটকে পড়া জীবন্ত মানুষ ও শহীদ ও লাশগুলোও উদ্ধার করা যাচ্ছেনা। কারণ উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে ধবংস স্তুপে যেতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। ফলে অসংখ্য হতাহতের আশংকা করা হচ্ছে।
    গতকাল বোমা মেরে আলজাজিরাসহ বিভিন্ন মিডিয়ার অফিস গুড়িয়ে দেয়ার পর রাতের অন্ধকারে পরিচালনা করা হয় ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক এই ধবংস অভিযান। ফলে বাস্তবে যা ঘটছে তার সবটুকু জানা ও প্রচার করা মিডিয়ার পক্ষে এখন অসম্ভব। আরবি ভাষায় ফিলিস্তিন থেকে এবং ফিলিস্তিনিদের দ্বারা পরিচালিত সোস্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপে নিয়মিত আপডেট দেয়া হচ্ছে। সেখানে আপলোড করা ভিডিও ফুটেজগুলো অপেন করলেই ভেসে আসে নির্যাতিতদের আর্তচিৎকার আর আহত শিশুদের কান্নার নোনাজারি।
    এমন ভয়াবহ দৃশ্যগুলোর সাক্ষী হওয়া ও দোয়া করা ছাড়া আপাতত কিছুই করার নেই বুঝি আমাদের !!

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম