• শিরোনাম


    ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের আচেহ প্রদেশে এখনো চালু আছে শরিয়া আইন।

    রিপোর্ট: মোস্তাফিজুর রহমান, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক | ০২ আগস্ট ২০১৯ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

    ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের আচেহ প্রদেশে এখনো চালু আছে শরিয়া আইন।

    জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন চালু আছে। শাস্তি হিসেবে সেখানে বে ত্রা ঘাত করার পাশাপাশি মাথার চুলও কেটে নেয়া হয়।ঐ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থামানোর লক্ষ্যে সরকার ২০০১ সালে ঐ প্রদেশের জন্য ‘বিশেষ স্বায়ত্তশাসন’এর ব্যবস্থা করার পরই ইসলামি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন শুরু হয়। এরপর ২০০৫ সালে শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পর আইনের প্রয়োগ আরও জোরালো হয়।আচেহ প্রদেশে প্রেমে পড়েছিলেন এক যুবক (১৯) ও এক যুবতী (২২)। সেই প্রেম গাঢ় হতে হতে এমন এক পর্যায়ে যায় যে, তারা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ বিষয়টি গোপন থাকেনি। এই অভিযোগে তাদের উভয়কেই একটি স্টেডিয়ামে মঞ্চ স্থাপন করে সেখানে প্রকাশ্যে ১০০ ঘা করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে।এ সময় উৎসুক বিপুল সংখ্যক মানুষ তা উপভোগ করছিলেন। অন্যদিকে ব্যথায় আর্তনাদ করছিলেন ওই যুবতী। তিনি বার বার করুণা ভিক্ষা চাইছিলেন। যুবকটি ছিল সাদা শার্ট পরা। তাকে এতটাই জোরে বে ত্রা ঘাত করা হয় যে, তাতে তার ত্বক ফেটে র ক্তে রঞ্জিত হয় শার্ট। এখানেই শেষ নয়।তাকে এ অপরাধের জন্য ৫ বছর জেল খাটতে হবে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ। এতে বলা হয়েছে, যখন বে ত্রা ঘাত করা হচ্ছিল তখন ২২ বছর বয়সী ওই যুবতী ব্যথায় বার বার মু র্ছা যাচ্ছিলেন।তারপরও তাকে প্রহার করতে থাকেন মুখোশ পরাদণ্ড দাতারা। তিনি করুণা ভিক্ষা চাইলেও শরিয়া কঠোর আইনের অধীনে তার শাস্তি পূর্ণ করা হয়। বান্দা আচেহ প্রদেশের লোকসেমাউয়েতে একটি স্টেডিয়ামে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়। ব্যবহার করা হয় তেল দিয়ে পাকানো বেতের লা ঠি।উল্লেখ্য, বিয়ের আগে এমন যৌ ন সম্পর্ক স্থাপন ইসলামিক আইনে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপ রাধ ওই অঞ্চলে। একই রকম শাস্তির বিধান রয়েছে জু য়া ও ম দ পানের ক্ষেত্রেও। ওদিকে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো প্রকাশ্যে এভাবে বে ত্রা ঘাতকে ব র্বর শাস্তি বলে অভিহিত করেছে।তারা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর কাছে এমন শাস্তি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু আচেহ প্রদেশে বসবাস প্রায় ৫০ লাখ মুসলিমের। তারা ধর্মের ভিত্তিতে এমন শাস্তিকে সমর্থন করেন। মার্চে সন্তান ও পরিবারের সামনে প্রকাশ্যে ৫ দম্পতিকে একইভাবে বে ত্রা ঘাত করা হয়েছে।বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গত বছর নভেম্বরে বেত্রাঘাত করা হয়েছে এক নারীকে। তা দেখে উৎসুক জনতা উল্লাস করেছিল। আরেকজন নারীর ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছিল।

    Facebook Comments Box



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম