• শিরোনাম


    “ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মোয়াবিয়া রা.” অসাধারণ একটি গ্রন্থ : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস শিক্ষক, জামিয়া ইসলামিয়া নিউ মডেল মাদ্রাসা, রূপসী, ঢাকা | ২৪ জুন ২০২০ | ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ

    “ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মোয়াবিয়া রা.” অসাধারণ একটি গ্রন্থ : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    নাম: ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মোয়াবিয়া রা. লেখক: আল্লামা মুফতি তাকী উসমানী
    অনুবাদক: মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ
    প্রকাশনায়: দারুল কলম
    প্রকাশকাল : রজব ১৪২৪, অক্টোবর ২০০৩
    পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৯২
    মূল্য : ৬৫ টাকা


    সাহাবায়ে কেরাম রা. হলেন উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম জামাআত। রাসূল সা.-এর সান্নিধ্যের বরকতে পুণ্যময় জীবনের অধিকারী হয়েছিলেন তাঁরা। এই মুবারক জামাআত দ্বীনের মশাল হাতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন পৃথিবীর দিকে দিকে। তাদের ত্যাগ ও কোরবানীর বদৌলতেই আমরা তাওহীদের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছি। তাই কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী উম্মাহর প্রতি তাঁদের অনুগ্রহ অপরিসীম। সীরাতে মুস্তাকীমের সন্ধান পেতে হলে তাদেরকে অনুসরণ করার বিকল্প নেই। কুরআন-সুন্নাহ তাদের মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাদের আদর্শকে সত্যের মাপকাঠি সাব্যস্ত করেছে।
    আল্লাহ তাআলা বলেন,
    فإن آمنوا بمثل ما آمنتم به فقد اهتدىوا وإن تولوا فإنما هم فى شقاق
    “অতএব তারা যদি ঈমান আনে,তোমাদের ঈমান আনার মত,তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়,তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে।”
    -(সূরা বাক্বারা,১৩৭)
    আয়াতে “তোমাদের ঈমান আনার মত”এর দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামকেই বুঝানো হয়েছে। আয়াতে তাঁদের ঈমানকে আদর্শ ঈমানের ও সত্যের মাপকাঠি সাব্যস্ত করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ঈমান হচ্ছে সেই ঈমান, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরাম অবলম্বন করেছেন।



    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
    ستفترق أمتى ثلاثا وسبعين فرقة كلهم فى النار إلا واحدة : قالوا من هى يا رسول الله! قال: ما أ نا عليه وأصحابى
    “ আমার উম্মাত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। তন্মধ্যে একটিমাত্র দল মুক্তিপ্রাপ্ত হবে। সাহাবায়ে কেরাম রা. প্রশ্ন করলেন-
    সেই দলটি কারা ? নবীজী (সা.) বললেন,
    যে আদর্শের উপর আমি এবং আমার সাহাবায়ে কেরাম রয়েছি।।”
    -(সুনানে তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ

    অন্য হাদীসে এসেছে,
    عن أبى بردة رضي الله عنه قال : قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم – النجوم أمنة للسماء فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد ، وأنا أمنة لأصحابي فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون ، وأصحابي أمنة لأمتي فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما يوعدون.
    “নক্ষত্রসমূহ আসমানের জন্য আমানত স্বরুপ। যখন নক্ষত্রগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে,তখন আসমানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেয়ামত চলে আসবে। এবং আমি আমার সাহাবীদের জন্য আমানত স্বরুপ। অতএব যখন আমি ইহকাল ত্যাগ করব তখন তাঁদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁদের(সাহাবাদের) মধ্যে ইজতেহাদি মতানৈক্য দেখা দিবে। এবং আমার সাহাবীরা উম্মতের জন্য আমানত স্বরুপ। অতএব যখন তাঁদের যুগের অবসান ঘটবে তখন আমার উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন রকমের ফেতনা-ফ্যাসাদের সুত্রপাত ঘটবে।”
    – ( সহীহ মুসলিম,২৫৩১)

    আরেক হাদীসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
    الله الله فى أصحابى لا تتخذوهم غرضا من بعدى فمن أحبهم فبحبى أحبهم ومن أبغضهم فببغضى أبغضهم
    “তোমরা আমার সাহাবীগণের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। আমার পরে তোমরা তাঁদেরকে (তিরস্কারের) লক্ষ্যবস্তু বানাইও না। যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাঁদেরকে ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতি বিদ্বেষবশতঃ তাঁদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।।”
    -( মুসনাদে আহমদ,৪/৮৭)

    وكان عبد الله بن مسعود رضي الله عنه يقول:
    أولئك أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أبر هذه الأمة قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا ; قوم اختارهم الله لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم وإقامة دينه فاعرفوا لهم حقهم وتمسكوا بهديهم فإنهم كانوا على الهدى المستقيم.
    -(جامع بیان العلم وفضله،134/2)
    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, “হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরাম উম্মাহর পূণ্যময় জামাআত, গভীর ইলমের অধিকারী, সর্বাধিক পবিত্র চরিত্র ও নম্র স্বভাবের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর রাসুলের সঙ্গী বানানোর জন্য এবং দ্বীন কায়েমের জন্য নির্বাচন করেছেন। তাঁদের মর্যাদা উপলব্ধি কর। তাঁদেরকে অনুসরন কর। কারণ, তাঁরা হিদায়াত প্রাপ্ত ছিলেন।।”
    -(জামিয়ু বায়ানিল ইলম, ২/১৩৪)

    ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন,
    إذا رأيت رجلا يذكر أحدا من الصحابة بسوء فاتهمه على الإسلام
    “যদি কাউকে রাসূলুল্লাহ সা.-এর কোন সাহাবীর সমালোচনা করতে দেখো, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে সংশয় পোষণ করো।।”
    -(আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া,৮/১৪২)

    বলাবাহুল্য যে, মুসলিম উম্মাহ যতদিন পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবে, ততদিন তারা ইসলামের সঠিক রূপরেখার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। এ সত্যটা শত্রুরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই সাহাবাবিদ্বেষের ফিতনার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিলো। সাবাঈ,শিয়া ও ওরিয়েন্টালিস্ট গোষ্ঠীর পথ ধরেই এই ভারত উপমহাদেশে বিদ্বেষের বিষবৃক্ষ রোপন করেছিলেন জনাব মওদূদী সাহেব। তিনি লিখনীর মাধ্যমে সেই বিষ ছড়িয়েছেন। সবচেয়ে জঘন্য কাজ করেছেন ‘খিলাফত ওয়া মুলুকিয়াত’ গ্রন্থ রচনা করে। সেখানে তিনি আমীরুল মুমিনীন হযরত মোয়াবিয়া রা.-এর বিরুদ্ধে বহুবিধ অপবাদ আরোপ করার ঘৃণ্য প্রয়াস পেয়েছেন। হক্কানি উলামায়ে কেরাম লিখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সেসব মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করেছেন এবং এখনো করেই যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান শরীয়া কোর্টের বিচারক মুফতি তাকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ এ সম্পর্কে রচনা করেছেন “হযরত মোয়াবিয়া রা. আওর তারিখী হাকায়েক” নামক অসাধারণ জবাবী গ্রন্থ। এর বাংলা অনুবাদ করেছেন এ দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আল্লামা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম। অনূদিত গ্রন্থের নাম দিয়েছেন,”ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মোয়াবিয়া রা.”।।

    কিতাবের লেখক মুফতি তাকী উসমানী সাহেব ভূমিকায় লিখেন,
    “এই মজলুম সাহাবীর বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ-অপবাদের নিরপেক্ষ সমালোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার বাসনা বেশ কিছুদিন ধরে আমার মনে অনুরণিত হচ্ছিলো। ইত্যবসরে স্বনামখ্যাত গবেষক চিন্তাবিদ মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী-রচিত ” খিলাফত ওয়া মুলুকিয়াত” বইটি বাজারে এলো। তাতে তিনি হযরত মোয়াবিয়া রা.-র বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগগুলো ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে এনেছেন এবং ঘসে মেজে, নতুন সাজে পেশ করেছেন।….। সর্বত্র এই মজলুম সাহাবীর বিরুদ্ধে সমালোচনার এমন ঝড় উঠলো যে, মনে হলো; খোদ শয়তানও বুঝি অপ্রত্যাশিত সাফল্যের আনন্দে উদ্দাম নৃত্যে মেতে উঠেছে।…। তখন আমি প্রকৃত সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে বেদনাদগ্ধ হৃদয়ে কলম ধরার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং খুব সতর্কতার সাথে আলোচ্য বইটির ‘হযরত মোয়াবিয়া’ অংশের উপর এক বিস্তৃত সমালোচনা লিখে আমার সম্পাদিত ‘আলবালাগ’ সাময়িকীতে কয়েক কিস্তিতে প্রকাশ করলাম।”

    গ্রন্থের অনুবাদক মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ লিখেন, “এখনো আমরা কোনরূপ উত্তপ্ত বিতর্ক কিংবা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি পসন্দ করি না। খিলাফত ও রাজতন্ত্রের মাধ্যমে মাওলানা মওদূদীর বক্তব্য বাংলাদেশের পাঠকবর্গের হাতে এসে গেছে। আমরাও “ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মোয়াবিয়া রা.”-র মাধ্যমে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলিমগণের বক্তব্য তুলে ধরলাম। এবার সত্য নির্ধারণের দায়িত্ব পাঠকবর্গের উপর।।”
    পরিশেষে বলব, মুসলিম সমাজের একটা অংশ মওদূদীবাদে প্রভাবিত হয়ে সাহাবিদের সমালোচনা করেই যাচ্ছে। এদের জবাব দেয়ার জন্য এবং নিজের ঈমানের হেফাজতের জন্য আমাদের আলোচিত গ্রন্থটি পড়ার বিকল্প নেই। কিতাবটি সবারই সংগ্রহে থাকা প্রয়োজন।।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম