• শিরোনাম


    ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

    | ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

    ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

    কিভাবে পেলাম এ ইংরেজি নববর্ষ? কি তার ইতিহাস? কখন থেকে শুরু হল এ নববর্ষ উৎযাপন? তাকি আমরা জানি? পৃথিবীর শুরু থেকেই ছিল নাকি পরবর্তীতে শুরু হয়েছে? আসুন! জানা অজানা কিছু বিষয় জেনে নেই। জেনে নেয়া যাক বর্ণিল উৎসাহে পালন করা ইংরেজি নববষের্র ইতিহাস। আমরা যে ইংরেজি সন বা খ্রীস্টাব্দ বলি আসলে এটা হচ্ছে গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার। এটা একটি সৌর সন। নানা পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন, বিবর্তন এবং যোগ-বিয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষ গণনায় বর্তমান কাঠামো লাভ করে।

    গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারের আগে নাম ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার মিসর দেশে প্রচলিত ক্যালেন্ডারটি রোমে এনে তার কিছুটা সংস্কার করে তাঁর রোম সাম্রাজ্যে চালু করেন। এই ক্যালেন্ডারে জুলিয়াস সিজারের নামে জুলাই মাসের নামকরণ করা হয়। মিসরীয়রা বর্ষ গণনা করত ৩৬৫ দিনে। মিসরীয়দের ক্যালেন্ডার সংস্কার করে জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডার রোমে প্রবর্তন করলেন তাতে বছর হলো ৩শ’ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে। এখানে উল্লেখ্য যে, মিসরীয় ক্যালেন্ডার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন এই ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দে।



    ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষ সূর্য দেখে সময় হিসেব করতো। কিংবা বলা যায় তারও আগে মানুষ বুঝতই না সময় আসলে কী। ধারণাটা আসে চাঁদের হিসাব থেকে। অর্থাৎ চাঁদ ওঠা এবং ডুবে যাওয়ার হিসাব করে মাস এবং তারপর বছরের হিসাব করা হতো। চাঁদ ওঠার সময় বলা হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। সূযের্র হিসাবে বা সৌর গণনার হিসেব আসে অনেক পরে। সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু চন্দ্র গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো, তাকে বলা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার ৪টা আলাদা আলাদা ভাগ আছে আর তা হচ্ছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনিয় সভ্যতা, আসিরিয় সভ্যতা ও ক্যালডিয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষ গণনা শুরু হয় ব্যাবিলনিয় সভ্যতায়।

    কিন্তু তখন বর্তমানের মতো জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন বর্ষ গণনা শুরু হতো না। তখন নিউ ইয়ার পালন করা হতো যখনই বসন্তের আগমন হতো। অর্থাৎ শীতকালের রুক্ষতা ঝেড়ে প্রকৃতি যখন গাছে গাছে নতুন করে পাতা গজাতে থাকে, ফুলের কলিরা ফুটতে শুরু করে তখনই নতুন বর্ষ! অন্যান্য দেশেরমতই আমাদের দেশেও প্রাথমিক বর্ষ পঞ্জিকায় অল্প পরিসরে সুমের/সুমেয়ী সভ্যতায় পরিলক্ষিত হয়। তবে মিশরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার চালু করে বলে জানা যায়। খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। আর বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ করা হয় রোমানদের দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস, অর্থ দরজা। এই দড়জা মানেই ইংরেজি নতুন বছরের আগমন,ইংরেজি নতুন বছরের শুরু। জানা যায়, প্রথম মিশরীয়রা সূর্য দেখে বছর হিসাব করতে শুরু করে। যাকে তারা সৌরবর্ষ নাম দিল।

    কিন্তু সমস্যা হলো সূর্য দেখে হিসাব আর চন্দ্র দেখে হিসাবের অনেক পার্থক্য থাকতো। কিন্তু বছর গুনলে কী হবে তার হিসাব রাখা জরুরি। তাই সুমেরীয়রা বর্ষপঞ্জিকা আবিষ্কার করলো। যাকে ক্যালেন্ডার বলি। ইংরেজি নববর্ষ শুরুর ইতিহাস : গ্রিকদের কাছ থেকে বর্ষপঞ্জিকা পেয়েছিল রোমানরা। তারা কিন্তু ১২ মাসে বছর গুণতো না। তারা বছর গুনতো ১০ মাসে । মধ্য শীত মৌসুমের ৬০ দিন তারা বর্ষ গণনায় আনতো না। রোমানদের বর্ষ গণনার প্রথম মাস ছিল মার্চ। তখন ১ মার্চ পালিত হতো নববর্ষ উৎসব। শীত মৌসুমে ৬০ দিন বর্ষ গণনায় না আনার কারণে বর্ষ গণনা যে দুটি মাসের ঘাটতি থাকতো তা পূরণ করবার জন্য তাদের অনির্দিষ্ট দিন-মাসের দ্বারস্থ হতে হতো।

    এই সব নানা জটিলতার কারণে জনসাধারণের মধ্যে তখন ক্যালে-ার ব্যবহার করবার প্রবণতা একেবারেই ছিল না বলে জানা যায়। রোম উপাখ্যান খ্যাত প্রথম সম্রাট রমুলাসই আনুমানিক ৭৩৮ খ্রীস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীকালে রোমান সম্রাট নূমা পন্টিলাস ১০ মাসের সঙ্গে আরো দুটো মাস যুক্ত করেন। সে দুটো মাস হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। রোমানরা বছর হিসাব করতো ৩শ’চার দিনে। তিনি ‘মারসিডানাস’ নামে আরও একটি মাস যুক্ত করেন রোমান বর্ষপঞ্জিকায়। তখন থেকে রোমানরা ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন করতে শুরু করে। ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন শুরু হয় সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করে।

    রোমানদের আগের বর্ষপঞ্জিকা ছিল চন্দ্রবষের্র, সম্রাট জুলিয়াসেরটা হলো সৌরবষের। খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। আর বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ করা হয় রোমানদের দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস, অর্থ দরজা। এই দড়জা মানেই ইংরেজী নতুন বছরের আগমন,ইংরেজী নতুন বছরের শুরু। তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে জানুয়ারি মাসের নাম হওয়ায় জুলিয়াস ভাবলেন নতুন বছরের ফটক হওয়া উচিত জানুয়ারি মাস।

    সেজন্য জানুয়ারির ১ তারিখে নববর্ষ পালন শুরু হলো। আর পরে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম পাল্টে রাখা হয় জুলাই। আরেক বিখ্যাত রোমান সম্রাট অগাস্টাসের নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম হয় অগাস্ট। যিশুখ্রিস্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রি ৫৩২ অব্দ থেকে সূচনা করেন খ্রিস্টাব্দের। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের কথা। রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শ নিয়ে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করেন। এরপর ওই সালেই অর্থাৎ ১৫৮২ তে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১ জানুয়ারিকে আবার নতুন বছরের প্রথম দিন বানানো হয়।

    পরিশেষে আমার শিক্ষা জীবনের পিঠস্থান কাইতলা যঁজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী মুখ সুপ্রিয় অগ্রজ সঞ্জয় সাহার ফেইস বুক টাইম লাইনে লেখা একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করতে চাই।তিনি লিখেছেন, বিদায় ক্ষণে দাঁড়িয়ে “২০১৯”। সকলে ব্যস্ত নতুন বছর ২০২০ কে স্বাগত জানাতে। এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রচলিত ধারা। একটা কথা আছে অতীতের দীর্ঘশ্বাস ও ভবিষ্যতের আশ্বাস কোনটাই বাস্তব জীবনে কাজে আসে না। তবু অতীতের পাওয়া না পাওয়ার কারণগুলো বর্তমানে নির্দেশনা হিসেবে কাজে লাগে প্রত্যেকের জীবনে। ২০১৯ এ আমি কি হারিয়েছি তার জন্যে আক্ষেপ করে যেতে চাই না। যা পেয়েছি তাকে মনে প্রাণে ধারন করে ২০২০ সাল কে বরণ করতে চাই। মানতে চাই ২০১৯ আমাকে যা দিয়েছে সেটাকে সূচনা করে ২০২০ আমাকে আরো অনেক ভাল কিছু দিবে যা পূর্বে আমি পাইনি। সবাইকে নতুন বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ভাল থেকো ভালো রেখ ” ২০২০”।

    💻এস এম শাহনূর
    (কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম