• শিরোনাম


    আল আমিন সংস্থার শুকরিয়া ও দোয়া মাহফিলে আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য। আওয়ার কণ্ঠ

    | ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৬:৪২ অপরাহ্ণ

    আল আমিন সংস্থার শুকরিয়া ও দোয়া মাহফিলে আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য।  আওয়ার কণ্ঠ

    CYMERA_20181013_153637

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্!



    নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লী আলা রাসুলিহিল কারীম।
    প্রিয় ওলামায়ে কেরাম, ছাত্রসমাজ ও মুসলিম ভাইয়েরা!

    আল আমিন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত আজকের শুকরানা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন এলাকা
    থেকে অনেক কষ্ট স্বীকার করে আপনারা উপস্থিত হয়েছেন তার জন্য আমি আপনাদের শোকরিয়া আদায় করছি এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমাকে আপনারা যে সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দোয়া করি তিনি আপনাদেরকে দুনিয়া আখেরাতে সম্মানিত করুন এবং জাযায়ে খায়র দান করুন। আমি জীবনের শেষ পর্যায়ে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় সময় পার করছি। কখন মাওলার পক্ষ থেকে ডাক আসে জানিনা। আমার তামান্না হলো জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আমরা প্রত্যেককে দীনের খাদেম হিসেবে আল্লাহ যেন কবুল করেন।

    আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে এম.এ-এর সমমান প্রদানের দাবীটি দীর্ঘ দিনের। হাটহাজারী মাদরাসার কৃতিছাত্র ও মুহাদ্দিস খতীবে আজম মাওলানা সিদ্দিক আহমদ রহ.ও মাওলানা শামসুল হক ফরিদ পুরী রহ. সর্বপ্রথম এই দাবীটি উত্থাপন করেন। তার পরবর্তীতে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বহু আন্দোলন করেছেন। সম্প্রতি বেফাকসহ আঞ্চলিক বোর্ডসমূহের নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান সরকারের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে স্বীকৃতির দাবিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে জাতীয় সংসদে বিল পাস করাতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমি ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে এই সনদের স্বীকৃতি আদায় করার জন্য আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ সফলও হয়েছি। এই জন্যে আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
    কারণ, সনদের স্বীকৃতি কারো করুণা নয়, এটা আমাদের অধিকার। নাগরিক হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রে দেওবন্দী ওলামাদের বহু অবদান রয়েছে। সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো মানে সরকারের কাছে কওমী উলামায়ে কেরামদেরকে বিক্রি করে দেয়া নয়।

    সনদের স্বীকৃতির বিল সংসদে পাশ হওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে স্যোসাল মিডিয়ায় বিশেষ কিছু লোক নানা অপপ্রচার, অশ্লীল বাক্য, কটুক্তি করেই চলেছে। অনেকে বলছে আমি নাকি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। এত সমালোচনা হলে, মানুষ হিসেবে কতটুকু সহ্য করতে পারি? তাই, বিগত ১লা অক্টোবর হাটহাজারী মাদরাসায় চট্টগ্রাম জেলা বেফাক কর্তৃক আয়োজিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্পষ্ট বলেছিলাম, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে যায়নি। যারা আমাকে আওয়ামী লীগ বলছেন তারা মিথ্যাবাদী।
    কওমী মাদরাসা হলো, জাতীয় মাদরাসা। দল মত নির্বিশেষে সকলের সাহায্য সহযোগিতায় এসব মাদরাসা পরিচালিত হয়। আমি প্রচলিত কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নই। তাই আমার বক্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে দেখবেন না, ভুল ব্যাখ্যা করবেন না। আমাদেরকে যারা ভালবাসে, যারা আমাদের কাছে আসে, তাদেরকে দ্বীনের কথা বলা, নসীহত করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা আলেম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।

    আরেকটা বিষয় হলো, কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি আর হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার আন্দোলন এক নয়। হেফাজত মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা রক্ষার সংগ্রামে একটি বৃহত্তম ধর্মীয় সংগঠন। আমরা এই ঈমানী আন্দোলনের নীতি ও আদর্শ সংরক্ষণে সদা প্রস্তুত রয়েছি। হেফাজত কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয় এবং কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য হেফাজতের নেই। কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, কাউকে মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়নি, দিবেও না। কিন্তু কোন নাস্তিক বা তাদের দোসররা যেন নির্বাচনে আসতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
    হেফাজতের নীতি আদর্শের ওপর আমরা অটল রয়েছি। ১৩ দফা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের আন্দোলন চালবে ইনশাআল্লাহ।
    হেফাজতে ইসলামের কাজ হলো, মহান আল্লাহ তা’আলা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর শান-মান মর্যাদা রক্ষা, নাস্তিক্যবাদী ইসলামবিদ্বেষী অপশক্তি এবং বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি খ্রিস্টান সামরাজ্যবাদী, রাম-বাম গোষ্ঠীর মুকাবেলায় সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দেশী বিদেশী কোন অপশক্তি ইসলামকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়ার স্পর্ধা দেখালে দেশের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা।
    বর্তমান উম্মতে মুসলিমাহ গভীর সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। এই নাজুক সময়ে ওলামা, তোলাবা ও তৌহিদী জনসাধারণকে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
    তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে নানা ফিতনাও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ বাড়ছে। হেফাজতকে নিয়ে স্যোসাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে। কোন ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়া, স্যোসাল মিডিয়া বা ব্যক্তি বিশেষের কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

    পরিশেষে আল আমিন সংস্থার সকল কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ এবং উপস্থিত সবাইকে মোবারকবাদ ও দোয়া জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

    আহমদ শফী
    খাদেম, দারল উলূম হাটহাজারী
    ১৩ অক্টোবর ২০১৮ ঈসায়ী

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম