• শিরোনাম


    আল্লামা রহমতুল্লাহ (রহ.) কিছু স্মৃতি কিছু কথা [] মাওঃ সাইফুদ্দীন সাইম

    লেখক : মাওঃ সাইফুদ্দীন সাইম, ভাইস প্রিন্সিপাল - জহিরুল ইসলাম দারুল মাদ্রাসা আফতাবনগর, খিলগাঁও, ঢাকা। | ১৫ নভেম্বর ২০২১ | ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

    আল্লামা রহমতুল্লাহ (রহ.) কিছু স্মৃতি কিছু কথা [] মাওঃ সাইফুদ্দীন সাইম

    গোধূলি বেয়ে নেমেছে আঁধার, ছলোছলো নয়ন, আপনাকে হারিয়ে আমাদের চোখের জলের কষে ভিজে গেছে দুপাশ। মহাকালের এ নিয়ম বাঁধন ছিন্ন করার সাধ্য কি আছে?

    হে মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্বিক রাহবার! ভালো থাকুন ওপারে। জাতি আজ হারিয়ে খুঁজছে আপনাকে।



    জাতি আপনার থেকে পেয়েছে সবকিছু ; হৃদয় নিংড়ানো স্নেহ ভালোবাসা, প্রাণবন্ত সজীব সদা হাসিমুখ। বিনিময়ে দিতে পারেনি কিছুই, উপরন্তু মনের অজান্তেই নির্বোধের মত দিয়েছে সীমাহীন যন্ত্রণা।

    গত ২০১৪ সনের ১৪ই নভেম্বর রোজ শনিবার বাদ মাগরিব মৃত্যু বরন করেন এ দেশের মুসলিম উম্মাহর এক চিরচেনা কিংবদন্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার “নাজেম সাহেব হুজুর” গন-মানুষের প্রিয় রাহবার আল্লামা রহমতুল্লাহ (রহ.)। তিনি বিদায় নিলেন হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে। আর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটল প্রায় এক শতাব্দী কালের বর্নীল ইতিহাসের, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ হারাল তাদের নাজেম সাহেব হুজুরকে।

    সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত উচ্চাঙ্গ কথার স্বর থেকে যার গলা কখনো নিচে নামেনি তিনি আল্লামা রহমতুল্লাহ (রহ.)। নানা বলেই ডাকতাম; আমাকে দেখতেন নিজের নাতির মতোই।

    একদিনের স্মৃতিকথা, সময়টা ছিল ২০১২ইং
    তখন আমি নাহবেমীর জামাতে পড়ি, সেই বছরই আমার ছোট মামা মুফতী সানাউল্লাহ আশ্রাফী বিয়ে করেছেন তাঁর ৬ষ্ঠ মেয়েকে, সেই সুবাদে হুজুরের বাড়িতে আমারও আসা যাওয়া হয়, একদিন বাদ মাগরিব আমি তার বাড়িতে চেয়ারে বসে নিদ্রা যাচ্ছিলাম, তিনিও আমার সামনে এসে বসলেন
    এবং জিজ্ঞাসা করলেন নাতি কি অবস্থা?
    আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
    তিনিঃ কোন জামাতে পড়?
    আমিঃ নাহবেমীর।
    তিনিঃ নাম কি?
    আমিঃ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন।
    তিনিঃ সাইফুদ্দীন কোন তারকীব?
    আমিঃ মুরাক্কাবে এজাফী।
    তিনিঃ কায়দা কি?
    আমিঃ নাকেরার পর মারেফা হয়েছে।
    তিনিঃ মাশাআল্লাহ।
    এটাই ছিল আমার তাঁর সাথে প্রথম সাক্ষাৎ প্রথম কথা!

    তরুণদেরকে কোন কোন সেক্টর গুলোতে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেই সব নিয়েও ছিল তার সুন্দর পরিকল্পনা। সেই সব সুন্দর পরকল্পনা বাস্তবায়ন করার আগেই আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে রাব্বুল আলামিনের কাছে চলে গেলেন ।

    সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত মানুষটি এভাবে দ্রুত চলে যাওয়ার ঘটনায় বারবার মনে পড়ছে কথা সাহিত্যিক তারা শঙ্করের সেই অমর উক্তি, “জীবন এত ছোট কেন?”

    মেড্ডা এলাকাবাসী ” হুজুরের ঋণ কখনো পরিশোধ করতে পারবেনা। মেড্ডা এলাকায় একসময় ভ্রান্ত মতবাদে ভরপুর ছিল। শিরিক-বিদআত ও কুফরি কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে শরীয়ত বিরোধী এমন কোনো কাজ নেই যা মেড্ডা এলাকায় ছিলনা‌। আল্লামা রহমতুল্লাহ (রহ.) মেড্ডা এলাকায় এসে সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে সুকৌশলে হকের পথে এনে যত ভ্রান্ত মতবাদ আছে সব মতবাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়ে মেড্ডা এলাকাকে হকের উপর আবাদ করে গেছেন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের উত্তর জাঙ্গাল গ্রামে জন্ম নেয়া এই সাধারন মানুষটা কালের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছেন অসাধারন,একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান,পরিণত হয়েছেন মহীরুহে।

    দেশের মাটি ও মানুষের সাথে যেভাবে চলেছেন-মিশেছেন,তেমনি সমানতালে চলেছেন উঁচুতলার মানুষের সাথেও। এক কথায়,শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছে যাওয়া এক বিরল ব্যক্তিত্ব মোজাহিদে মিল্লাত মাওলানা রহমতুল্লাহ (রহ.)

    তিনি নিজের পরিবার কিংবা নিজেকে নিয়ে ভাবেননি কখনও। সর্বদা ব্যস্ত ছিলেন দেশ,জাতি ও পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চলার পথকে মসৃণ করতে ছুটে চলেছেন বিরামহীন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রাম-জনপদে বপন করে গেছেন ইসলামী শিক্ষার বীজ, আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে।আর তিনি হয়ে উঠেছেন গন-মানুষের অতি আপন,প্রাণের মানুষ,সর্বসাধারনের প্রিয় রহমত মওলানা,চির চেনা এক কিংবদন্তী।

    দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া এর শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেড্ডা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ বায়তুস সালামেও ৩০ বছর খুতবা প্রদান করেছেন।
    হুজুরের নিজ গ্রামে এতিমখানা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। রহমতুল্লাহ (রহ.) একজন দ্বীন প্রচারে আলোচক ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিটি গ্রামগঞ্জে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে কুরআন হাদিসের আলোকে আলোচনা করে অসংখ্য গ্রামগঞ্জকে শিরিক-বিদআত মুক্ত করে আবাদ করে গেছেন তিনি।

    শিক্ষা ও সমাজসেবাকে যিনি একজীবনে সফলভাবে সন্নিবেশিত করেছিলেন,তিনি মহান এক সব্যসাচী গুরু ও ওস্তাদ মাওলানা রহমতুল্লাহ।
    তার প্রবল ব্যক্তিত্ব,আর সততার সামনে শ্রদ্ধাবনত হতেন সবাই।

    পরিশেষে রব্বে কারীমের নিকট এই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের প্রিয় রাহাবারকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন, আমীন।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম