• শিরোনাম


    আল্লামা আহমদ শফির বিরুদ্ধে নারী উন্নয়ন বিরুধিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন: আবদুল লতিফ নেজামী

    গাজী আশরাফ আজহার, নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ | ৭:১৩ অপরাহ্ণ

    আল্লামা আহমদ শফির বিরুদ্ধে নারী উন্নয়ন  বিরুধিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন: আবদুল লতিফ নেজামী

    ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দাকে অলঙ্গনীয় করে রাখার জন্যে মহিলাদের প্রতি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফির আহ্বানকে কেন্দ্র করে নারীবাদী মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে । তারা এই বক্তব্যকে ভিত্তি করে দেশে একটি ঝড় তোলার অপচেস্টায় মেতে উঠেছেন। বেশ কয়েক বছর আগে এক হেদায়েতি ওয়াজে প্রদত্ত মেয়েদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত তাঁর (আহমদ শফি) অপর এক বক্তবকে কেন্দ্র করেও একশ্রেণীর লোকের ঘুম হারাম হয়ে যায় । তারা আহমদ শফির এসব বক্তব্যের বিরুদ্ধে রণ দামামা বাজানো শুরু করে দেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমিরের নারী সম্পর্কিত এসব বক্তব্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তির ধুম্রজাল সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। আল্লামা আহমদ শফির বক্তব্যে নারী উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। নারীকে ঘরমূখো করা হবে বলে এক শ্রেণীর নারীবাদী নেতা মিথ্যা অভিযোগ করে দেশবাশিকে বিশেষ করে মহিলাদেরকে বিভ্রান্ত করার প্রাণান্তকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
    তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিক তাত্ত্বিক জৌল সিমসন, সমাজতান্ত্রিক দার্শনিক ব্রুদান, প্রখ্যাত বৃটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল, বৃটিশ লেখিকা লেডি কুক, অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো, আমেরিকান অভিনেত্রী বারবারা ষ্টিয়ার্ড, ড. ইডালিন, ফরাসী লেখিকা মারয়াম হ্যারি, সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারী ক্লিন্টন, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য নিউট গিংগ্রিচ, হিটলার ও মুসোলিনী প্রমূখ রাজনীতিবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী, দার্শনিক, অভিনেত্রী, প্রখ্যাত লেখিকা এ্যানি বোর্ড পাশ্চাত্যে নারীদের অবাধ জীবনের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শুরু করেন বহু আগে থেকে। তাছাড়া ১০ মে ১৯০১ সালে ইষ্টার্ণ মেইল পত্রিকায় এবং ১৯৭০ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এক নারী বিক্ষোভ মিছিলের দাবি ছিল আমরা ভোগ্যপণ্য হতে চাইনা। আমরা স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রত্যখ্যান করছি । ব্রিটেনে ’অফিস ফর ন্যাশনাল ষ্ট্যাটিস্টিকস’ পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়, নারীর অবাধ মেলামেশায় ২০৩১ সাল নাগাদ ব্রিটেনে বৈধ মা-বাবার সংখ্যা ব্যপাকহারে কমে যাবে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এক সাক্ষাৎকারেও বলেন, ১৯৭৯-১৯৮৭ সার পর্যন্ত নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার কারণে ব্রিটেনে ৪ লাখ জারজ সন্তান জন্ম গ্রহণ করে।
    তিনি পরিশেষে বলেন, জাতির অবিভাবক হিসেবে আল্লামা আহমদ শফি সাহেব চান, পশ্চিমা নগ্নাশ্রয়ী অপসংস্কৃতির পথ রুদ্ধ করতে। ইসলাম নির্দেশিত নৈতিকতা ও শালীনতার দ্বারা সদভ্যাস গড়ে তুলে নারীর কল্যাণ সাধনের পথ প্রশস্ত করতে । আল্লামা আহমদ শফি হয়ত ভাবছেন, নারীর বেপর্দায় সৃষ্ট কাম ও প্রবৃত্তিপরায়ণতায় অনেক জাতিকে নারকীয় গহ্বরে নিমজ্জিত হতে হয়েছে। তাই পাশ্চাত্যের নারীরা ও অবাধ নারী স্বাধীনতায় উন্মত্ত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে অবশেষে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত, ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েছেন এবং মুক্তির দিশা হিসেবে ইসলামী জীবন পদ্ধতি বেছে নেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছেন ।
    তিনি বলেন, আল্লামা আহমদ শফি নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন বিরোধী নন। তাঁর (অল্লামা আহমদ শফি) মতে শালীনতা বজায়ে রেখে নারীর সর্বক্ষেত্রে বিচরণে বাধা নেই। আজকাল নারীরা সরকারি চাকরীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। এব্যাপারে তিনি কেন, কোন ইসলামী দল, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব বিরুধিতা করেছেন বলে কোনপ্রমাণ কেউই উপস্থাপন করতে পারবেন না। অল্লামা শফি নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধী বলে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তা একেবারেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম