• শিরোনাম


    আরব আমিরাতে অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমা

    নিউজ ডেস্ক | ২৮ জুন ২০১৮ | ২:৪৪ অপরাহ্ণ

    আরব আমিরাতে অবৈধ প্রবাসীদের সাধারণ ক্ষমা

    ফাইল ছবি

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবৈধভাবে বসবাসরতদের দেশত্যাগ অথবা ভিসার বৈধতা নেওয়ার জন্য তিন মাসের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো রকম জেল-জরিমানা ছাড়া অবৈধভাবে বসবাসরতরা আমিরাত ছাড়তে পারবে অথবা আমিরাতে থাকাকে বৈধ করার সুযোগ পাবে। দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার চলতি পদ্ধতি স্থগিত করেছে মালয়েশিয়া সরকার। বাংলাদেশ থেকে ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানো চলছিল। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে দেশটির একজন মন্ত্রী স্টার অনলাইনকে বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো পদ্ধতিতে (জি টু জি) মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হবে।



    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেনটিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপের বিদেশি নাগরিক ও বন্দর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাইদ রাকান আল রাশেদি গত বৃহস্পতিবার গালফ নিউজকে অবৈধ প্রবাসীদের সরকারের সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘোষিত সময়ের মধ্যে অবৈধ প্রবাসীরা চাইলে নামমাত্র ফি দিয়ে তাদের কাগজপত্র বৈধ করে নিতে পারবে অথবা কোনো ধরনের জেল-জরিমানা ছাড়াই ইউএই ত্যাগ করতে পারবে।

    এই কর্মকর্তা আরো জানান, সব অবৈধ প্রবাসীকে বৈধতা দিতে ‘বৈধতা নিশ্চিত করে নিজেকে সুরক্ষা করুন’ শীর্ষক এই সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি  খুব শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হবে। ওই তিন মাসের মধ্যে কেউ এই সুযোগ গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

    ২০১৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৬২ হাজার অবৈধ অভিবাসী নিজেদের বৈধ করে নেয়। ওই সময় দুই মাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে কী পরিমাণ অবৈধ বাংলাদেশি আছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান স্পষ্ট কোনো ধারণা না দিয়ে বলেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের সংখ্যা খুব বেশি হবে না।’

    অন্যদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানকে উদ্ধৃত করে দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইন গত শুক্রবার জানায়, প্রবাসী এক বাংলাদেশির নেতৃত্বে একটি মানবপাচার চক্র মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে ওই ১০ এজেন্সি নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে গত দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। এ অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ১০ এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া স্থগিত করা হয়েছে। ওই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

    স্টার অনলাইনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চক্র মালয়েশিয়া সরকারের ওপরের মহলে যোগসাজশের মাধ্যমে বাংলাদেশে এজেন্ট অনুমোদন দিয়ে একচেটিয়া কারবার গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে যেখানে মাথাপিছু দুই হাজার রিঙ্গিত খরচ হওয়ার কথা, সেখানে এজেন্টরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত আদায় করছে। এর অর্ধেক টাকা যাচ্ছে ওই চক্রের হাতে, যার বিনিময়ে তারা ওয়ার্ক পারমিট ও উড়োজাহাজের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গেছে। আরো অন্তত এক লাখ লোক মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

    মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে মানবসম্পদ আমদানির বিষয়টি পরিচালনা করা হয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবসার কায়দায়, যাতে শুধু ব্যক্তিবিশেষই লাভবান হয়।’ তিনি বলেন, ‘যেভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি নেওয়া হচ্ছিল তাতে শ্রমিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছিল, আর তা যাচ্ছিল দুই দেশের কিছু দালালের পকেটে।   আমরা এ নিয়ে তদন্ত করছি। সমস্যাগুলো দূর করার প্রক্রিয়াও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে; আমার বিশ্বাস, শিগগিরই আমরা একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারব।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম