• শিরোনাম


    আমার দেখা “শাপলা চত্তর ট্রাজেডি” (পর্ব–২): কে.এম. আব্দুল্লাহ

    লেখক: কে.এম. আব্দুল্লাহ | ০৪ মে ২০১৯ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

    আমার দেখা “শাপলা চত্তর ট্রাজেডি” (পর্ব–২): কে.এম. আব্দুল্লাহ

    ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায়ান্তে দিক-নির্দেশনামূলক নছিহত ও দোয়ার পর নির্ধারিত কর্মসূচি সফলান্তে সকলেই সাইনবোর্ড মোড়ে অবস্হান নেই।
    দেখলাম চারদিক থেকেই হাজারো ছাত্র-জনতা ধীরে ধীরে মেইন রোডে অবস্থান করা শুরু করেছে।
    দূর-দূরান্ত থেকে আগত ছাত্র-জনতা বহনকারী বাসগুলো তখনও শহরে প্রবেশ করছে।
    এক পর্যায়ে পুরো এলাকা শ্লোগান-মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠে। এরই মধ্যে ঢাকার অন্যান্য প্রবেশমূখে অবস্থানরত বন্ধুদের নিকট মোবাইল মাধ্যমে জানতে পারলাম— সবখানেই ঈমানী চেতনায় উদ্ভাসিত তৌহিদীজনতার ঢল নেমেছে। ক্ষনে ক্ষনে “কলরব” সহ অন্যান্য শিল্পীগোষ্ঠির পিকাপ ভ্যানে চড়ে চেতনামূলক পরিবেশনা সত্যিই প্রসংশার দাবী রাখে।
    ৯টা নাগাদ হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এই তুমুল বৃষ্টি দিয়েই অনেকের মত আমিও চিটাগাংরোড থেকে সাইনবোর্ড হয়ে রায়ের বাজার, শনিরআখড়া মিছিল করতে থাকি।
    জোহরের আগে খবর আসে- আল্লামা আহমাদ শফী (হাফিঃ) সবাইকে “শাপলা চত্তরে” যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এবং সেখানেই “মোনাজাতে”র মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
    আমীরের নির্দেশ, তাই হাঁটা শুরু করলাম “শাপলা চত্তর” পানে। সেনা কল্যাণ ভবনের পিছনের রাস্তা দিয়ে কোটবাড়ি কেন্দ্রিয় মসজিদের ছানি ইমাম “মাওঃ মোফাজ্জল ভাই” সহ চত্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চের একবারে সামনে বসে গেলাম।
    বসেই লক্ষ করলাম– বাইতুল মোকাররম, পল্টন এলাকা থেকে উপরে ধোঁয়া উড়ছে। আর থেমে থেমে গুলির শব্দ আসছে।

    ((আর এদিকে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। “হেফাজতে ইসলামে”র কর্মসূচী,
    অথচ— মঞ্চ সম্পূর্ণরুপে বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক হেফাজত নেতার দখলে।
    আর হেফাজতের অরাজনৈতিক বড় ওলামারা সম্পূর্ণ নিথর থাকতে দেখা গেলো।))



    এরই মধ্যে পল্টন থেকে “একজন শহীদের লাশ” মঞ্চের সামনে আনা হলো। সাথেসাথেই পুরো সমাবেশ স্থলে উত্তেজনা শুরু হয়ে গেলো। মঞ্চ থেকে বারবার সবাইকে শান্ত থাকার জন্য বলা হলো।
    অতঃপর রাজপথেই আসরের নামাজ আদায় করে যথারীতি কর্মসূচী চলতে থাকলো।
    আসরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে উত্তেজনা বহুগুনে বেড়ে যায়। আর পল্টন এলাকা থেকে বহুগুনে বেশি গুলির আওয়াজ আসতে থাকে। ধোঁয়াও আগের থেকে বাড়তে থাকে। সমাবেশে অনেকেই আতংকিত হয়ে উঠে।
    বলা বাহুল্য যে– সমাবেশে আগত ছাত্র-শিক্ষকদের ৭০%ই এমন উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে প্রথম। যারা গুলি, টিয়ারশেল, বোমার আওয়াজ কোনদিন বাস্তবে শুনেনি বা দেখেনি।
    যাদের অর্ধেকই এই প্রথম ঢাকায় এসেছে।
    তাই অতি আতংকিত হওয়াটা স্বাভাবিক

    এরই মধ্যে খবর এলো—
    আমিরে হেফাজত লালবাগ থেকে আসতেছেন। এই খবরে সবাই আশার আলো দেখতে লাগলো।
    ব্যাস-, হযরত আসা মানেই- মুনাজাত ও কর্মসূচি সমাপ্ত। যে যার মত বাড়ি ফিরে যাবে।
    কিন্তু— এ কি?
    মাগরিবের আজান হয়ে গেলো– কিন্তু হযরত এলো না।
    যদিও তখনও ঘোষনা হচ্ছে– “হযরত আসতেছে”
    মাগরিবের পর হযরত আসা-না আসার ধুম্রজাল সৃষ্ট হওয়ায় সমাবেশস্থলে উত্তেজনা কয়েকগুন বেড়ে যায়।
    ক্ষনে ক্ষনে নটরডেম, পল্টন ও ইত্তেফাক মোড় থেকে তৃমুখী চাপ মঞ্চের সামনে এসে আছড়ে পড়ছে।

    অন্যদিকে সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ পথ মিছিল করে আমি নিজে অনেক অসুস্থ হয়ে যাই। ১০০ডিগ্রির মত জ্বর চলে আসে গায়ে।
    তার উপর তৃমুখী চাপ সহ্য করতে না পেরে, একসময় সমাবেশস্থলেই বেহুশ হয়ে যাই। পরিপূর্ন বেহুশ হওয়ার আগে এতটুকুই বুঝতে পারি যে— সহকর্মী মাওঃ মোফাজ্জল ভাই আমাকে পাজাকোলা করে শাপলা চত্তরের ভিতরে ফোয়ারার নিকট শুয়ে দেন।
    তখনও একাধারে গুলির শব্দ কানে বাজতে থাকে.

    চলবে……

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম