• শিরোনাম


    আমাদের আকাবিরগণ যেভাবে মাহে রমজান অতিবাহিত করতেন -শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী

    | ২৬ এপ্রিল ২০২১ | ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

    আমাদের আকাবিরগণ যেভাবে মাহে রমজান অতিবাহিত করতেন  -শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী

    মাহে রমজানের তাৎপর্য সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত আছি।পবিত্র এই মাসকে আল্লাহ তা,আলা বান্দার আত্মশুদ্ধির ও তাকওয়া অর্জনের জন্য দান করেছেন। রমজানের ফজিলত ও গুরুত্ব আমাদের জানা আছে। রমজানে আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা ও মাগফিরাতের অভাবনীয় সূযোগ আমাদের জন্য রয়েছে।
    এই মাহে রমজান কে আমরা কিভাবে অতিবাহিত করছি, আর আমাদের আকাবিরে ইসলামগন কিভাবে কাটাতেন এই নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

    প্রিয় পাঠক আমাদের সর্বজনিন মুরব্বী সু-প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিত্ব হযরত শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. তারাবিতে সোয়া পারা শোনাতেন, সাহরি পর্যন্ত তরজমাসহ তা পড়তেন চার-পাঁচ বার। সে অংশটুকু তাহাজ্জুদের সময় শোনাতেন দু’বার। সাহারি খাওয়ার পর ফজরের নামাযের আগে এবং পরে ঘুমানোর আগে সে অংশটুকু একবার তিলাওয়াত করতেন।
    সকাল দশটার দিকে ঘুম থেকে ওঠে শীতের দিনে চাশতের নামাযে একবার এবং গরমের দিনে দু’বার তিলাওয়াত করতেন। জোহরের নামাযের পনের মিনিট আগে দেখে দেখে দু’বার তিলাওয়াত করতেন। জোহরের নামাযের ফরজের আগে সুন্নতে দু’বার, পরের সুন্নতে একবার তিলাওয়াত করতেন। জোহরের নামাযের পর বন্ধুদের কাউকে একবার শোনাতেন।
    আসরের নামাযের আগে দু’ বা একবার পড়তেন। আসরের পর বয়স্ক কাউকে একবার শোনাতেন। মাগরিবের নামাযের পর নফল নামাযে সে শোয়া পারা আরেক বার তিলাওয়াত করতেন।
    প্রতিদিনের আমল ছিল এভাবে। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ত্রিশবারে ত্রিশ পারা তিলাওয়াতে জোর দিতেন। (শায়খ যাকারিয়্যা রহ. এ আত্মজীবনী হতে সংগৃহীত)



    কুতুল আলম মুজাদ্দিদে মিল্লাত হজরত রশিদ আহমদ গাঙ্গোহী রহ. বাদ মাগরিব আওয়াবিনে দু’ পারা ও তাহাজ্জুদসহ দৈনিক অর্ধ খতম কুরআন তিলাওয়াত
    করতেন,সুবহানাল্লাহ।

    হজরত মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরী (রহ.) বাদ মাগরিব নফলে শোয়া পারা তিলাওয়াত করতেন। আর তাহাজ্জুদে করতেন সাধারণত দু’ পারা। তারাবিতে আমৃত্যু তিনি এই আমল করতেন।

    আল্লামা কাসিম নানুতুবী রহ. ১২৭৭ হিজরিতে মক্কা-মদিনা সফরকালে রমজান মাসে কুরআন পাক মুখস্থ করেছিলেন।
    এরপর থেকে তিনি বেশি বেশি তিলাওয়াত করতেন। একবার তিনি এক রাকাতে সাতাশ পারা তিলাওয়াত করেছিলেন।
    হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কি রহ. সারা রাত বিভিন্ন হাফেজদের থেকে পালাক্রমে নামাযে তিলাওয়াত শুনতেন।

    শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি রহ. হাফেজ ডেকে নামাযে সারারাত কুরআন শরিফ শুনতেন। তারাবিতে কখনও ছয় পারা, কখনও দশ পারা পড়া হতো।

    হযরত শাহ আবদুর রহিম রায়পুরী রহ. হাফেজে কুরআন ছিলেন। প্রায় সারারাত কুরআন তিলাওয়াত করতেন। চব্বিশ ঘণ্টায় তিনি শুধু এক ঘণ্টা ঘুমাতেন।

    শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. বাদ আসর দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক হাফেজ-মাওলানা আবদুল জলিল রহ.-এর সঙ্গে শোয়া পারা দাওর করতেন অর্থাৎ পরস্পর শোনাতেন।

    হযরত মাওলানা ইয়াহইয়া রহ. রমজান মাসে দৈনিক চল্লিশ পারা তিলাওয়াত করতেন।

    আল্লামা তোফাজ্জল হক হবিগঞ্জী রহ. রমজানের ২০ রাকাত তারাবি পর সোজা রুমে চলে যেতেন। অল্প সময় বিশ্রাম নিয়ে তাহাজ্জুদের জন্য প্রস্তুত হতেন। দুই তিন কোরআনে হাফেজকে পিছনে রেখে তাহাজ্জুদের ইমামতি নিজেই করতেন।
    প্রথম রাকাতে এক পারা তেলাওয়াত করতেন।দুই রাকাতে দুই পারা তেলাওয়াত করতেন। সাথে সাথে চোখের পানি বুক পর্যন্ত পৌছে যেতো।জাহান্নমের কোন আয়াত আসলে শব্দ করে কান্না করতেন। দোয়ার আয়াত আসলে বারেবারে তেলাওয়াত করতেন ।এমনভাবে তেলাওয়াত করতেন যেন এই মাত্র কোরআন অবতীর্ণ হচ্ছে।
    এতো সুমধুর কন্ঠে তেলাওয়াত করতেন যা গত রমজানে ও ধারাবাহিকতায় জারী ছিল। এই রমজানে মাওলার সান্নিধ্যে আল্লাহ হজরত কে জান্নাতুল ফেরদৌসের আলা মকাম দান করুন আমিন।

    এছাড়া ও বরুনার পীর সাহেব,চরমোনাই এর কুতুব সৈয়দ ইসহাক রাহঃ ও মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম রাঃ শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক সাহেব রাহঃ সাহেব, আল্লামা সিরাজুল ইসলাম বড় হুজুর হুজুর রাহঃমুফতি আমিনী রহ. মরহুম, গহরপুরী সাহেব রহ ,ও বাঘার শেখ সাহেব রহ সহ দেশের বরেণ্য বুজুরগানে দ্বীনের রোযা, ইফতার, তারাবিহ, তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।
    তারা কিভাবে রমজান মাস অতিবাহিত করতেন আর আমরা কিভাবে রমজানের সময় গুলো পার করছি।তারা রমজান মাস গনীমত মনে করে সারা রমজান ইবাদতে কাটাতেন।

    আল্লামা মুনিরুজ্জান সিরাজী রাঃ অনেক বড় বুজুর্গ ছিলেন, স্বচক্ষে দেখা হজরতের আমল গুলো এখনো স্মৃতিপটে বাসে বৃদ্ধ বয়সে ও দাঁড়িয়ে তারবীহ এর দৈর্ঘ বিশ রাকাআত নামাজ আদায় করতেন, অনেক সময় দৃঢ় মুরাকবা মুশাহাদা ও ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন,আজ হজরত আমাদের মাঝে নেই আল্লাহ হজরত কে জান্নাতুল ফেরদৌসের আলা মকাম দান করুন আমিন।

    এমনকি অনেক বুজুর্গ সম্পর্কে জানা যায় যে,ঈদুল ফিতরের পর থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। এসব বুজুর্গের আদর্শ চরিত্র শুধু বাহ্যিক দৃষ্টিতে পড়া বা দেখার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয় নাই। বরং যেন আমরা প্রত্যেকেই সাধ্যমত তাদের পথে ,তাদের মতে চলতে পারি।
    যাহারা দুনিয়ার বিভিন্ন ঝামেলা থেকে মুক্ত, তাহাদের জন্য কী অপূর্ব সুযোগ নই যে, তারা বছরের এগারোটি মাস বৃথা নষ্ট করে রহমতের মাসে আপ্রাণ চেষ্টা করে মরিয়া হয়ে জীবন পণ করে আল্লাহর রহমতের আশা করবে। রমজান মাস টাকে অপচয় সময় পার না করে ইবাদত বন্দিগির মধ্যে অতিবাহিত করতে পারি আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন আমিন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম