• শিরোনাম


    আজ ১৯ই নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস: অধিকার ও অঙ্গিকার -ম.কাজী এনাম

    লেখক: ম. কাজী এনাম, স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:৫০ অপরাহ্ণ

    আজ ১৯ই নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস: অধিকার ও অঙ্গিকার -ম.কাজী এনাম

    আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখে পালিত হয়। সারা বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।

    ১৯ নভেম্বরে সারা বিশ্বে পুরুষ দিবস! পোশাকি নাম ‘ইন্টারন্যাশেনল মেন’স ডে’! দুম করে কি আর দিবস হয় এরকম? মোটেই নয়, এর পিছনে আছে ছোট্ট একটা ইতিহাস, কর্মকাণ্ড! একটু চোখ রাখা যাক ৷



    কথা ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারিকেই ‘পুরুষ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে ৷ ঠিক ৮ মার্চ নারী দিবসের আগেই হবে পুরুষ দিবস ৷ কিন্তু ২৩ তারিখটি আগে থেকেই রাখা হয়েছিল ‘রেড আর্মি ও নেভি ডে’র জন্য ৷ তাই অগত্যা, ফেব্রুয়ারি থেকে সোজা পুরুষ দিবসকে টেনে আনা হল নভেম্বরে ৷ মেয়েদের জন্য দিবস আছে, তাই ছেলেদের জন্যও চাই? তাই কি এই পুরুষ দিবস? ব্যাপারটা ঠিক এরকম নয়, বরং বিশ্ব পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনার কথা মাথায় রেখেই এই দিবসের প্রবর্তন ৷

    এই দিবসের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছেঃ

    পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি;
    নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা;
    নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সাম্যতার প্রচার;
    পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা;
    পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী;
    পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদযাপন;
    সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষ ও বালকদের অবদানকে তুলে ধরা।

    আমাদের সমাজের নারীদের বলা হয় ‘অবলা!’ অথচ এই অবলাজাতি কিন্তু আবহমানকালে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে পুরুষদের। পারিবারিক-সামাজিক যে কোন স্থানেই এখন নারীদের অগ্রগতি। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে চাকরী ও ব্যবসা ক্ষেত্রের সর্বত্র। তবুও অবলা শব্দটাকে তাদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্নতর অজানা কোন কারনে। সেটা নারীদের মর্যাদা দেওয়া বা অন্য যে কোন কারন হতে পারে। মৌলিক অর্থে অবলা হলো পুরুষরা। কারন দেশে নারীদের জন্য যতটুকো সহজে পড়াশোনা ও চাকুরী করা সম্ভব, ছেলেদের জন্য ততটা সহজ নয়। একটা ছেলে যেখানে স্কুলে বেতন দিতে হয়, সেখানে একটা মেয়ে উপবৃত্তি পাচ্ছে। একটা ছেলে যে পোষ্টের জন্য মাস্টার্স সমমান পড়াশোনা থাকার দরকার, সেখানে একটা মেয়ে ইন্টার পাস করে অনায়াসেই চাকুরী পেয়ে যায়। তবুও নাকী নারীরা অসহায়(?)
    আরও অসংখ্য পয়েন্ট আছে, তার মাঝে উল্লেখযোগ্য নারী নির্যাতিত হওয়ার আইন। একই আইন পুরুষদের জন্য নেই বললেই চলে। অথচ একটা নারীর চেয়েও অসংখ্য পুরুষরা আছে নির্যাতিত হচ্ছে বেশি। আইনের আশ্রয় নেওয়ার মতোও সুযোগ পাচ্ছেনা। কারন পুরুষরা অলিখিত আশ্রয়হীন।

    অনেকেই মনে করে পুরুষরা নিজেদের বাড়ীতে থাকে, এটা তাদের সৌভাগ্য। আর মেয়েরা বাল্যকাল মা-বাবার সাথে থাকলেও পরিনত একটা বয়সে আর নিজের বাড়িতে থাকতে পারেনা। মূলত ব্যাপারটা কখনোই এমন না! কারন নির্দিষ্ট একটা বয়সের পর ছেলেদের কাঁধেচাপা দায়িত্ব নিয়ে এগুতে হয়। আর সেজন্যেই বলা যায়,
    “নারী চাইলে এই বিশ্ববাসীকে
    এনে দিতে পারে আকাশ কুসুম,
    পুরুষরা থাকে প্যাঁড়ায় প্যাড়ায়
    আয়-উপার্জন, দায়িত্ব-নেতৃত্বে নির্ঘুম!”

    খুবই আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, কেহই পুরুষের অধিকার বলে যে একটা বিষয় থাকতে পারে, সেটাই জানেনা। মানতে চাইনা। হর-হামেশা নারী অধিকার নিয়েই শ্লোগান তুলে। কালের আবর্তনে যে পুরুষরা নারীবাদের পদতলে ধ্বংসে পরিনত হচ্ছে, সবাই বেখবর। এই সমাজে পুরুষদের অধিকার চাওয়াকে অনেকেই আবার ট্যাবু বা কাপুরুষতা বলেও কালমন্দ করে। কিন্তু সেটার সঠিক কারণ অস্পষ্ট। যৌতুক বিরুধী সভা-সেমিনার অসংখ্য হলেও উচ্চতর বা সীমালঙিত মহরানা ধরার হীনমন্যতাকে আদৌ কোন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়না। বিবাহ বিচ্ছেদে পুরুষদের টাকা আদায় করা হলেও কোন নারীর জন্য কিছুই করতে হয়না। অথচ বর্তমান সময়ে নারীরাই সেচ্ছায় বেশিভাগ ক্ষেত্রে (বিশেষত শিক্ষিত নারীরা) বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে। অথবা বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান কারন নারীরা। তবুও আমাদের সমাজ একটা পুরুষকে শাস্তিদান করবে। একটা বিপত্নীক পুরুষের জন্য ছোট সন্তান পালন অনেক কঠিন, তবুও এই দায়িত্ববহন তাদেরই করতে হয়। কারণ তারা মানুষ না, তারা পুরুষ।

    একটা ছাত্রের জন্য তার অভিবাবকগণ যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়, একটা ছাত্রীর জন্যেও তার পরিবার একই মানের অধিকার বরাদ্দ রাখে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ফুসকা বিলটা কিংবা রিক্সাভাড়াটা একটা ছাত্রকেই গুনতে হয়। কারণ সে পুরুষ মানুষ। মেয়েদের পার্টসের অর্থের দিকে তাকানো তার জন্য অন্যায়। এই অন্যায় অন্যায় ভাবনাকেই কেন্দ্র করে, এখান থেকেই শিখে শিখে নারীবাদীরা একটা পুরুষদের উপরে চড়াও হয়ে যায়। সম অধিকারের নাম দিয়ে শ্লোগান তুললেও সম দায়িত্বটা আড়ালেই রয়ে যায়। আজকের এই বিশ্ব পুরুষ দিবসের অঙ্গিকার হউক, ‘যারযার অবস্থান থেকে সকলের অধিকার ও দায়িত্ব সমান।” কবিতার ভাষায় বললে, এভাবেই বলতাম..

    নয় কোন বাহাদুরি
    পুরুষ বলিয়া আজি,
    সমরে-ময়দানে সংসারে-সংগ্রামে
    আমরাই রাখি জীবন বাজি।
    ন্যায্য অধিকার চাহিনে কবু
    দিয়েছি মেধা-শ্রম-ত্যাগ,
    সেই ক্লান্তি পদদলিত চারিদিক
    উপরি গেছে আবেগ।
    জাতি জানুক আমরাও মানুষ
    ভ্রাতা-পিতা পুরুষজাত,
    আমাদেরও কিছু অধিকার আছে
    নয়ত কোন ঘাত-প্রতিঘাত।
    আমরা চাহি আমাদের মত
    বাঁচিতে প্রেম ভালবাসায়,
    নারীকে নিয়ে কদমে কদমে
    স্বপ্নচারিতায় উচ্চ আশায়।’

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম