• শিরোনাম


    আজ ঐতিহাসিক পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস

    | ২৩ জুন ২০২০ | ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

    আজ ঐতিহাসিক পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস

    আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস। এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। ২৫৯ বছর আগে ১৭৫৭ সালের এই দিনে এক প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে যুদ্ধের প্রহসন হয়েছিল ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে। সেই দিন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব তরুণ সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করার মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়। এমন বেদনাবহ স্মৃতিকে স্মরণ করে মীরজাফর, ঘষেটি বেগমের প্রেতাত্মাদের রুখে দেয়ার দৃপ্ত শপথ নেয় জাতি।

    ইতিহাস পাঠে জানা যায়, ষোলো শতকের শেষের দিকে ওলন্দাজ, পর্তুগিজ ও ইংরেজদের প্রাচ্যে ব্যাপক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। একপর্যায়ে ইংরেজরা হয়ে যায় অগ্রগ্রামী। বাংলার সুবেদার-দেওয়ানরাও ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। ১৭১৯ ইংরেজি সালে মুর্শিদ কুলি খাঁ বাংলার সুবেদার নিযুক্ত হন। তার মৃত্যুর পর ওই বছরেই সুজাউদ্দিন খাঁ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসন লাভ করেন।



    এরই ধারাবাহিকতায় আলীবর্দী খাঁর পর ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল সিরাজউদ্দৌলা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। তরুণ নবাবের সাথে ইংরেজদের বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া রাজসিংহাসনের জন্য লালায়িত ছিলেন সিরাজের পিতামহ আলীবর্দী খাঁর বিশ্বস্ত অনুচর মীরজাফর ও খালা ঘষেটি বেগম। ইংরেজদের সাথে তারা যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর নবাবের বিরুদ্ধে নীলনকশা পাকাপোক্ত করেন তারা।

    দিন যতই গড়াচ্ছিল এ ভূখণ্ডের আকাশে ততই কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতা পরিষদ নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার পে প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাব কার্যকর করতে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড কাইভ রাজদরবারের অভিজাত সদস্য উমিচাঁদকে ‘এজেন্ট’ নিযুক্ত করে। ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে সকাল সাড়ে ১০টায় ইংরেজ ও নবাবের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মীর মদন ও মোহন লালের বীরত্ব সত্ত্বেও জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ কুচক্রী প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীর বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রায় এক লাখ সেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হন মীরজাফরের মোনাফেকিতে। সেই সাথে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়।

    অতি ঘৃণ্য মীরজাফরের মৃত্যু হয় কুষ্ঠরোগে। কিন্তু বাংলার মানুষের ট্রাজেডি এই যে, মীরজাফরেরা বারবার গোর থেকে উঠে আসে। ইতিহাস সাক্ষ দেয় মীরজাফর ও ঘষেটি বেগম প্রচণ্ড ক্ষমতালোভী ছিলেন। ধারাবাহিকতায় তাদের উত্তরসূরিরাও একই আচরণ অব্যাহত রেখেছে। তারা এ দেশকে ‘কলোনি’ বানাবার স্বপ্নে বিভোর।

    আজকের এই দিনে আমাদের শপথ হবে, আর কোন ঘষেটি বেগম, আর কোন মীর জাফরকে সুযোগ দেয়া হবে না। ইসলামপ্রিয় সতর্ক জনতা এদেরকে প্রতিহত করবেই ইনশা আল্লাহ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম