• শিরোনাম


    আগামী নির্বাচনে বিএনপির বিশ ভাগ প্রার্থীই থাকবে তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতা।

    | ০৭ অক্টোবর ২০১৮ | ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ

    আগামী নির্বাচনে বিএনপির বিশ ভাগ প্রার্থীই থাকবে তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতা।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। খুব বেশি দিন বাকি নেই, যদিও নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সময়মতো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে রয়েছে শঙ্কা। তবে নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রচারণা থেমে নেই। হামলা-মামলা উপেক্ষা করে নানা কৌশলে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেকেই। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানামুখী কার্যক্রম চলছে বিএনপিতেও। বিশেষ করে গত দুই ঈদে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। যেসব আসনে অতীতে দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছেন; কিন্তু বার্ধক্যজনিত ও অন্যান্য কারণে আর সক্রিয় নন সেসব এলাকায় অনেক নবীন ব্যক্তি বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভের আশায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রনেতা। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর দাবিÑ বেশ কিছু আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মারা গেছেন। অনেকেই দলের মনোনয়ন পেয়েও জয়ী হতে পারেননি। কেউ কেউ দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় এবং বিদেশে অবস্থান করছেন। সেসব এলাকায়ই তারা ধানের শীষের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
    বিএনপির দফতর সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম যাচাই-বাছাই চলছে। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের তালিকা ধরেই আগামী নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম চলছে। এসব তালিকা থেকেই পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং পরিমার্জন করা হবে। যারা বিগত ওয়ান ইলেভেনের সরকারের আমলে নানা কারণে নির্বাচন করতে পারেননি, কিন্তু যোগ্য ছিলেন এমন ব্যক্তিদেরও মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সর্বোপরি প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড মনোনয়নের ব্যাপারে সুপারিশ করবে। তবে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিতে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে চমক থাকবে। আর সেই চমক হচ্ছে অন্তত ২০ ভাগ আসনে তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতারা মনোনয়ন পাবেন। গত বছর বেগম খালেদা জিয়া চোখের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের সাথে আগামী নির্বাচন, আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে নিউ ইয়র্কে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে দেশে ফেরার পথে গত রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে নির্বাচন, আন্দোলনসহ দেশের সামগ্রিক ইস্যুতে বৈঠক করেন তিনি। নবীনদের প্রার্থী করার ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ডও ইতিবাচক।
    দলের একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, তিন স্তরে প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি। সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী সাজা বা অন্য কোনো কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হলে দ্বিতীয় স্তর থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে। তিনিও কোনো কারণে বাদ পড়লে বিকল্প হিসেবে তৃতীয়জনকে বেছে নেয়া হবে। সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদলের অনেক সাবেক নেতাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতারা যোগ্য ও নিজ এলাকায় জনপ্রিয় হলে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে বিএনপি হাইকমান্ড।
    বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আন্দোলন করেই নিরপে সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। এর বিকল্প কোনো পথ নেই। খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতেও দেয়া হবে না। নির্বাচনের আগে বিশদলীয় জোটকে আরো সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ও দলের সাথেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাবেশে অংশ নেয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল।
    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেন, ক্ষমতাসীনরা ভরাডুবির ভয়ে নানা প্রহসন আর নকশা করে যাচ্ছে। তবে আগামী দিনে আওয়ামী ঝুড়িতে অবৈধ ভোট ভরার জন্য কোনো নীল-নকশা বা অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবায়িত হতে দেবে না জনগণ। সন্ত্রাসের নির্মাণ ও বিপণন করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কোনো সুযোগ পাবে না আওয়ামী লীগ। তাদের পতন এখন অত্যাসন্ন। সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। নিরপে সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা যোগ্য এবং দক্ষ তাদেরকেই হাইকমান্ড মূল্যায়ন করবে। তারা নবীন-প্রবীণ যাই হোন।
    এ দিকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় বহু নেতা। তাদের মধ্যে অনেকেই নবীন, তরুণ এবং সাবেক ছাত্রনেতা। গণসংযোগ করছেন প্রবাসী-পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিও। আগামী নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছেন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে তিনি এলাকায় পোস্টারিং, ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। এলাকায় গিয়ে গণসংযোগও করছেন। স্থানীয় জনগণের সাথে গড়ে তুলেছেন সম্পর্ক। বকুল জানান, এলাকার মানুষের প্রত্যাশার কারণেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন। এ লক্ষ্যে এলাকায় সময়ও দিচ্ছেন তিনি। দলের মনোনয়ন পেলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলে জানান। মাদারীপুর-১ (শিবচর) থেকে বিএনপির হয়ে একক প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। এলাকার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বেশ কিছু ইউনিয়নে কর্মিসভা করেছেন তিনি। রোমান জানান, তিনি এলাকার মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক সঙ্কটে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকেন। প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এলাকাবাসী যোগ্য, তরুণ সৎ মানুষকে এমপি হিসেবে চায়। তারা কোনো ঋণখেলাপি বা নিষ্ক্রিয়, এলাকাবিমুখ ব্যক্তিকে এমপি দেখতে চান না, বলেন রোমান। নেত্রকোনা-২ আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় দিনরাত এলাকায় ছুটে চলেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হক। দলীয় কর্মসূচিতে সবাইকে নিয়ে অংশ নেন তিনি। বিএনপির হাইকমান্ডের সাথেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে আস্থা করে নিয়েছেন। তাকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ এমপি হিসেবে দেখতে চায় বলে জানান ডা: আনোয়ারুল হক। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে সাবেক ছাত্রদল নেতা মো: মামুন বিন আব্দুল মান্নান প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে এই আসনে যারা এমপি হয়েছেন তারা জনগণের জন্য তেমন কোনো কিছুই করেননি। কিন্তু আমি জনগণের জন্য এমন কিছু করতে চাই যাতে নতুন প্রজন্ম আগামী এক শ’ বছরও আমাকে মনে রাখে। দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশা করেন। টাঙ্গাইল-৩ আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় বহু দিন ধরে গণসংযোগ চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো: মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ আমাকে আগামী নির্বাচনে এমপি নির্বাচনে দেখতে চায়। মানুষের সেবা ও এলাকার উন্নয়নের জন্যই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। সার্বিক বিবেচনায় দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তার প্রত্যাশা।
    নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) থেকে রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী মো: বাদলুর রহমান খান ও টাঙ্গাইল চেম্বারস অব কমার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, সিলেট-৬ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানের ভাগ্নে রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, নেত্রকোনা-৫ থেকে শহিদুল্লাহ ইমরান, মুন্সিগঞ্জ-১ থেকে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ফেনী-৩ থেকে নির্বাহী কমিটির সাবেক সহদফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আব্দুল লতিফ জনি বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তার এলাকার সর্বস্তরের মানুষ যোগ্য, সৎ একজন ব্যক্তিকে এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে বিএনপির ধর্মবিষয়ক সাবেক সম্পাদক মরহুম বদরুজ্জামান খসরুর ছেলে মাহমুদুর রহমান সুমন প্রচারণা চালাচ্ছেন। নাটোর-১ থেকে বিএনপির সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, পটুয়াখালী-২ থেকে দলের সহদফতর সম্পাদক মো: মুনির হোসেন, ঢাকা-১০ (লালবাগ-ধানমন্ডি) থেকে মহানগর দণি বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, জামালপুর-৩-এ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) থেকে বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঝিনাইদহ-৪ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, সুনামগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ শান্ত, বগুড়া-৫ থেকে বিএনপি নেতা জানে আলম খোকা, চাঁদপুর-৫ থেকে ছাত্রদলের সাবেক দফতর সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) থেকে জেলা যুবদলের সহসভাপতি মো: মেহেদী হাসান সুমন, বরিশাল-১ আসনে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালী-১ আসনে জেলা যুবদলের নেতা মো: মনিরুল ইসলাম লিটন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম