• শিরোনাম


    আওয়ার কণ্ঠের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সম্পাদকের শুভেচ্ছা বার্তা (সম্পাদকীয়)

    | ২৮ জুন ২০২০ | ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

    আওয়ার কণ্ঠের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সম্পাদকের শুভেচ্ছা বার্তা (সম্পাদকীয়)

    বর্তমান সময়ে সবচাইতে দ্রুত সংবাদ প্রচারের একমাত্র মাধ্যম অনলাইন নিউজ পোর্টাল। যখন ঘটনা তখনই প্রচার।

    সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল,ল্যাপটপ আছে। সকালে যেমন পত্রিকার জন্য অপেক্ষা করেত হয় না, তেমনি নির্দিষ্ট সময়ে খবর শোনার জন্য বসে থাকেত হয় না। খবর শুনেত আগ্রহীদের এখন অপেক্ষার প্রহর গোনারদিন শেষ করে দিয়েছে অনলাইন পত্রিকা/অনলাইন টিভি।



    অসংখ্য নিউজ পোর্টালের ভীড়ে আপন মহিমায় আওয়ার কণ্ঠ স্থান করে নিয়েছে বিশ্বাসের নীড়ে।

    হাঁটি হাঁটি পা পা করে আওয়ার কণ্ঠ দুই বছর পার করে তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করলো। এই সাফল্য আমার একার নয়।

    বর্ষপূর্তির এই আনন্দঘন সময়ে বিশেষভাবে মোবারকবাদ জানাচ্ছি আওয়ার কণ্ঠের ৩৫জন সংবাদকর্মীকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের লক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে নিজেদের শ্রম ও মেধাকে বিলিয়ে দিচ্ছে আওয়ার কণ্ঠের তরে। তাদের নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগের ফলেই পত্রিকাটি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে দুই বছর পূর্ণ করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।

    বিশ্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাচীন কাল থেকেই মিডিয়া বা গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম । বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এই গুরুত্ব আরো বেড়েছে। মিডিয়ায় যে জাতি-গোষ্ঠী, রাষ্ট্র ও মতবাদের উপস্থিতি যত বেশি, তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও তত সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। মিডিয়া না থাকলে যত ভালো কাজই করা হোক, তার সুফল সেভাবে পাওয়া যায় না।

    বাংলাদেশ বিপুল মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইসলামী অঙ্গনের আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছিলাম। একটা সময় ছিল, আমাদের অনেক বড় বড় সভা-সমাবেশ এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ কারো গোচরেই আসতো না। সেক্যুলার মিডিয়াগুলোতে নিজ উদ্যোগে সংবাদ পাঠানো হলেও প্রেসবিজ্ঞপ্তির পাতাসমূহের জায়গা হতো। অপরদিকে এসব মিডিয়া আলেম সমাজের সমালোচনা করে যেতো যে, সামাজিক ও মানবিক কাজে আলেমদের কোনো উপস্থিতি নেই।

    অন্যদিকে বিশ্ব মুসলিম সমাজ আজ সবদিক থেকেই নির্যাতিত নিপিড়ীত, হয়তো বুলেটের আঘাতে জর্জরিত নতুবা তথ্য সন্ত্রাসের কারণে নিষ্পেষিত।

    একদিকে বিশ্ব সন্ত্রাসীদের ছুড়া বারুদ পুড়া গন্ধ,
    অন্যদিকে নির্বোধ কলম যোদ্ধাদের কালির দ্বন্ধ।

    তত্ত্ব সন্ত্রাসীরা নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করতে মিডিয়া ব্যবহার করে আসছে। আমাদের মিডিয়া না থাকায় আমাদের ভালো কাজকে আড়াল করে নিজেদের দোষ আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে আমাদের উপর সন্ত্রাসী/ জঙ্গি ট্যাগ লাগিয়ে শান্তির ঢেকুর তুলছে।

    মুসলমানদের মিডিয়া শক্তির গ্যাপ থেকে কিছুটা পরিত্রাণের লক্ষে ২০১২ সালে ছাত্র কালীন সময়ে কয়েকজন মিলে ত্রৈমাসিক আল-হিকমাহ নামে একটি প্রিন্ট পত্রিকার সূচনা করেছিলাম, পরবর্তীতে আর্থিক সঙ্কটে বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০১৮ সালের শুরুতে কাতার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয় এক পত্রিকায়। কিছুদিন যেতে না-যেতেই তাদের একঘেয়েমি প্রকাশ পেলো। তারা বিশেষ একটি দলের নিউজ ছাড়া অন্য দল বা মতের কোন নিউজ প্রকাশ করে না। প্রবাসে যেহেতু সকল শ্রেণী পেশার মানুষ থাকে তাদের সবার নিউজই করতে হয়।
    তখন থেকেই একটি নিরপেক্ষ পোর্টাল করার চিন্তা করি, যা ইসলাম ও মানবতার সাহসী কণ্ঠস্বর হয়ে মিডিয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিষ্পেষিত মাজলুমের কণ্ঠের প্রতিনিধিত্ব করবে।

    কয়েকজনের সাথে পরামর্শ করে নিজ উদ্যোগে ২০১৮ সালের ২৬ জুন আওয়ার কণ্ঠকে নিয়ে পথ চলা শুরু করি। আজ আওয়ার কণ্ঠের ২ বছর পূর্ণ হলো। দুই বছরে অনেক লেখক ও পাঠকের ভালোবাসায় সিক্ত হলাম।

    অসীম সাহস ও উদ্যোগ নিয়ে এই পথে পা বাড়িয়েছিলাম, ফলে আজ মিডিয়ায় আমাদের শক্তিশালী অবস্থান কতটা হয়েছে বা হয়নি সে বিতর্কে না গেলেও এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, মিডিয়ায় আমাদের অসহায়ত্বের দিন শেষ হয়েছে। আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে কেউ একতরফা আঘাত দিবে, ঢিল ছুঁড়তে থাকবে, সেই সুযোগ আর নেই।

    বর্তমান ডিজিটালাইজেশনের যুগ, যারা এখনো অনলাইন পত্রিকার গুরুত্ব দিতে চান না, তারা হয়তো বুঝতে পারছেন না যে, অল্প দিনের মধ্যেই কাগজের পত্রিকা হারিয়ে যাবে। পশ্চিমা বিশ্বে কাগজের পত্রিকা নেই বললেই চলে। সুতরাং বলা যায় আওয়ার কণ্ঠের মতো অনলাইনভিত্তিক মিডিয়াগুলো আগামী দিনে মিডিয়া জগতে সদর্পে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে যাবে।

    মূলধারার অন্যান্য পুরনো প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকার তুলনায় অনলাইন জগতে আওয়ার কণ্ঠের মতো পত্রিকাগুলো ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

    আমরা সব সময় মিডিয়ার গুরুত্বের কথা এক কথায় স্বীকার করি এবং এই অঙ্গনে আমাদের শক্তিশালী অবস্থান থাকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখও করি। কিন্তু আমরা এটা কখনো ভেবে দেখি না যে, একটা পত্রিকা নিয়মিত করার জন্য এবং অগ্রসরমান রাখার জন্য বড় অংকের খরচের বিষয় আছে। অফিস খরচ, নিয়মিত ও অনিয়মিত সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা, সাইট ব্যবস্থাপনা, ডোমেইন ভাড়া এবং হোস্টিং সহ এক কথায় বহুমুখি বিশাল খরচের বিষয় জড়িত।

    এই দিকটা নিয়ে ইসলামী অঙ্গনের রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সহযোগী মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা খুবই জরুরী।

    অনলাইন পত্রিকাসমূহের আয়ের একমাত্র উৎস বিজ্ঞাপন। অথচ, ইসলামী ভাবাপন্ন পত্রিকা হওয়ার কারণে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও নানা বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হয়। গায়ের সাথে ‘ইসলামী ভাবাপন্ন’ রং থাকার কারণে সেক্যুলার মানসিকতার কর্পোরেট হাউজগুলো কোন বিজ্ঞাপন দিতে রাজি হয়না।

    সুতরাং আওয়ার কণ্ঠ সহ সকল ইসলামপন্থী পত্রিকাগুলোকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে সকলেরই সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। সমমানসিকতার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বিজ্ঞাপন দিয়েও সহযোগিতা করতে পারে।

    ইসলাম ও মানবতার পক্ষের একটা মিডিয়ার শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার সৎ নিয়ত নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে অবশ্যই এটা অনেক বড় মহৎ কাজ হবে, ইংশা আল্লাহ।

    সবশেষে আওয়ার কণ্ঠের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মেসেঞ্জারে /ফোনে যারা নিজেদের মতামত জানিয়েছেন, আওয়ার কণ্ঠ পরিবারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তাদের সহ পত্রিকাটির পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রইলো শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

    সকলের কাছে বিশেষ দোয়ার আবেদন, আগামীতে যেনো আরো সুদৃঢ় ভাবে জাতি ও দেশ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় নজির স্থাপন করতে পারি।

    সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
    আল্লাহ যেন অতি দ্রুত আমাদেরকে করোনা মুক্ত পৃথিবী দান করে সেই কামনা রইলো । আল্লাহ হাফিজ

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০১ জুলাই ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম